১০:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

লক্ষ্মীপুরে গ্যাস সংকটে জ্বলছে না চুলা বিল পরিশোধ করেও দিনে গ্যাস পাচ্ছে না গ্রাহকরা

লক্ষ্মীপুরে চলছে তীব্র গ্যাস সংকট। এতে রান্না করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আবাসিক গ্যাস ব্যবহারকারী গৃহিণীদের। বাধ্য হয়ে অনেকে মাটির চুলোয় রান্না করছেন এ সংকট মুহূর্তে। আবার কেউ বাড়তি খরচ করে গ্যাস সিলিন্ডার কিনে নিয়েছেন। আবার কেউবা বিদ্যুতের রান্না সরঞ্জাম ব্যবহারেই সারছেন কোনোমতে।

সব মিলিয়ে বাসাবাড়ির গৃহিণীদের রান্না করাটা এখন চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গ্যাসের গ্রাহকদের অভিযোগ, নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও গত দেড় মাস ধরে দিনের বেলাতে চুলোয় গ্যাস পাচ্ছে না। রাতে গ্যাস আসলেও আবার ভোর না হতেই চলে যায়।

গ্যাস সংকটের সমস্যা গুলো বিরাজ করছে বাণিজ্যিক লাইন সিএনজি গ্যাস স্টেশনগুলোতে। গ্যাসের চাপ না থাকায় যানবাহনে সিএনজি গ্যাস ঢুকাতে পারছে না চালকেরা।
তবে এ সংকটের কবে সমাধান হবে,তাও নিশ্চিত করে বলতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
লক্ষ্মীপুর পৌর ১২ নম্বর ওয়ার্ডের নাসিমা বেগম বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। তাই রাতেই রান্না করে রাখি। গত দেড় মাস থেকে আমরা এ সমস্যার মধ্যদিয়ে রান্না করতে হয়।

পৌর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রনক জাহান বলেন,দিনে গ্যাস না থাকায় ভোর রাতে উঠে রান্না সারতে হচ্ছে।
ভোর ৪ টা থেকে ৬ টা পর্যন্ত গ্যাস থাকে। সারাদিনে গ্যাস থাকে না। ভোররাতে রান্নার কাজে সারতে হয়।দিনের বেলায় সিলিন্ডারে রান্নার কাজ সারে।

একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা সহেল বলেন, চুলোয় গ্যাস না থাকায় কেউ লাড়কি চুলোয় রান্না করছেন, কেউ সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। খাবার রান্না করতে গৃহিণীদের চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হচ্ছে।

চন্দ্রগঞ্জ শাহী সিএনজি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার রহমত উল্যা সোহাগ বলেন, গ্যাসের চাপ পরিমাণ মতো না থাকায় যানবাহনে ঠিকমতো সিএনজি সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

লক্ষ্মীপুরের পৌর এলাকা এবং চন্দ্রগঞ্জ এলাকাতে গ্যাস সরবরাহ করে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। আবাসিক এবং বাণিজ্যিক মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার গ্রাহক রয়েছে সংস্থাটির। এর মধ্যে রয়েছে দুটি সিএনজি গ্যাস স্টেশন। স্বাভাবিক নিয়মে গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রতিদিন গড়ে গ্যাসের চাপ ৩০ থেকে ৩৫ পিএসআই (প্রতি বর্গ ইঞ্চি পাউন্ড) প্রয়োজন পড়ে এ জেলাতে। কিন্তু এ মুহূর্তে ২ থেকে ৩ পিএসআই সরবরাহ করা হচ্ছে।

যা চাহিদার তুলনায় একেবারে নগণ্য বলে জানিয়েছে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপক (বিক্রয়) এসএম জাহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জ সুন্দলপুর এবং বেগমগঞ্জের প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র থেকে লক্ষ্মীপুরে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হয়। গত এক মাস ধরে সুন্দলপুর গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে আছে। এখন শুধু বেগমগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। লক্ষ্মীপুরে যে গ্যাস লাইন এসেছে তা ১৫০ পিএসআই চাপ ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন। কিন্তু এ চাপে এ পর্যন্ত কখনো গ্যাস আসেনি। স্বাভাবিক সময়ে ৩০ থেকে ৩৫ পিএসআই চাপে গ্যাস আসতো। কিন্তু এ মুহূর্তে ২ থেকে ৩ পিএসআই চাপে গ্যাস আসছে। যা চাহিদার তুলনায় একেবারে কম। এ জন্য গ্রাহকরা গ্যাস কম পাচ্ছে। এছাড়া শীত মৌসুমের কারণেও গ্যাসের চাপ কিছুটা কম থাকে। গ্যাসের এ সমস্যা কবে সমাধান হবে তা জানাতে পারেননি এ কর্মকর্তা।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

৮০০ কোটি টাকার জমি ৪০০ কোটিতে বিক্রির ছক: স্বার্থান্বেষী চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরে গ্যাস সংকটে জ্বলছে না চুলা বিল পরিশোধ করেও দিনে গ্যাস পাচ্ছে না গ্রাহকরা

প্রকাশিত : ০৭:৪৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৪

লক্ষ্মীপুরে চলছে তীব্র গ্যাস সংকট। এতে রান্না করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আবাসিক গ্যাস ব্যবহারকারী গৃহিণীদের। বাধ্য হয়ে অনেকে মাটির চুলোয় রান্না করছেন এ সংকট মুহূর্তে। আবার কেউ বাড়তি খরচ করে গ্যাস সিলিন্ডার কিনে নিয়েছেন। আবার কেউবা বিদ্যুতের রান্না সরঞ্জাম ব্যবহারেই সারছেন কোনোমতে।

সব মিলিয়ে বাসাবাড়ির গৃহিণীদের রান্না করাটা এখন চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গ্যাসের গ্রাহকদের অভিযোগ, নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও গত দেড় মাস ধরে দিনের বেলাতে চুলোয় গ্যাস পাচ্ছে না। রাতে গ্যাস আসলেও আবার ভোর না হতেই চলে যায়।

গ্যাস সংকটের সমস্যা গুলো বিরাজ করছে বাণিজ্যিক লাইন সিএনজি গ্যাস স্টেশনগুলোতে। গ্যাসের চাপ না থাকায় যানবাহনে সিএনজি গ্যাস ঢুকাতে পারছে না চালকেরা।
তবে এ সংকটের কবে সমাধান হবে,তাও নিশ্চিত করে বলতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
লক্ষ্মীপুর পৌর ১২ নম্বর ওয়ার্ডের নাসিমা বেগম বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। তাই রাতেই রান্না করে রাখি। গত দেড় মাস থেকে আমরা এ সমস্যার মধ্যদিয়ে রান্না করতে হয়।

পৌর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রনক জাহান বলেন,দিনে গ্যাস না থাকায় ভোর রাতে উঠে রান্না সারতে হচ্ছে।
ভোর ৪ টা থেকে ৬ টা পর্যন্ত গ্যাস থাকে। সারাদিনে গ্যাস থাকে না। ভোররাতে রান্নার কাজে সারতে হয়।দিনের বেলায় সিলিন্ডারে রান্নার কাজ সারে।

একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা সহেল বলেন, চুলোয় গ্যাস না থাকায় কেউ লাড়কি চুলোয় রান্না করছেন, কেউ সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। খাবার রান্না করতে গৃহিণীদের চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হচ্ছে।

চন্দ্রগঞ্জ শাহী সিএনজি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার রহমত উল্যা সোহাগ বলেন, গ্যাসের চাপ পরিমাণ মতো না থাকায় যানবাহনে ঠিকমতো সিএনজি সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

লক্ষ্মীপুরের পৌর এলাকা এবং চন্দ্রগঞ্জ এলাকাতে গ্যাস সরবরাহ করে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। আবাসিক এবং বাণিজ্যিক মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার গ্রাহক রয়েছে সংস্থাটির। এর মধ্যে রয়েছে দুটি সিএনজি গ্যাস স্টেশন। স্বাভাবিক নিয়মে গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রতিদিন গড়ে গ্যাসের চাপ ৩০ থেকে ৩৫ পিএসআই (প্রতি বর্গ ইঞ্চি পাউন্ড) প্রয়োজন পড়ে এ জেলাতে। কিন্তু এ মুহূর্তে ২ থেকে ৩ পিএসআই সরবরাহ করা হচ্ছে।

যা চাহিদার তুলনায় একেবারে নগণ্য বলে জানিয়েছে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপক (বিক্রয়) এসএম জাহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জ সুন্দলপুর এবং বেগমগঞ্জের প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র থেকে লক্ষ্মীপুরে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হয়। গত এক মাস ধরে সুন্দলপুর গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে আছে। এখন শুধু বেগমগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। লক্ষ্মীপুরে যে গ্যাস লাইন এসেছে তা ১৫০ পিএসআই চাপ ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন। কিন্তু এ চাপে এ পর্যন্ত কখনো গ্যাস আসেনি। স্বাভাবিক সময়ে ৩০ থেকে ৩৫ পিএসআই চাপে গ্যাস আসতো। কিন্তু এ মুহূর্তে ২ থেকে ৩ পিএসআই চাপে গ্যাস আসছে। যা চাহিদার তুলনায় একেবারে কম। এ জন্য গ্রাহকরা গ্যাস কম পাচ্ছে। এছাড়া শীত মৌসুমের কারণেও গ্যাসের চাপ কিছুটা কম থাকে। গ্যাসের এ সমস্যা কবে সমাধান হবে তা জানাতে পারেননি এ কর্মকর্তা।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ