শেষ ষোলোয় স্বাগতিক রাশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হারের পর বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়েছে স্পেন। এর পরই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন দলটির কিংবদন্তি মিডফিল্ডার আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা।
হারের পর জাতীয় দলের জার্সি খুলে রাখার সিদ্ধান্তটা জানিয়ে দেন ইনিয়েস্তা। স্পেনের জার্সিতে ১৩১ ম্যাচ খেলা কিংবদন্তি এই মিডফিল্ডার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘স্পেনের জার্সিতে এটাই আমার শেষ ম্যাচ। অসাধারণ এক অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো। যেভাবে শেষ করার স্বপ্ন দেখেন, অনেক সময় তা না–ও হতে পারে।’
এবারের বিশ্বকাপে অন্যতম ফেভারিট হিসেবে যাত্রা শুরু করা স্পেন রোববার শেষ ষোলোর ম্যাচে স্বাগতিকদের কাছে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হেরে যায়।
ম্যাচের শুরুতে আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় ২০১০ সালে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ী স্পেন। বিরতির পর পেনাল্টি গোলে সমতা ফেরায় রাশিয়া। অতিরিক্ত সময়েও ভাঙেনি ১-১ সমতা। ম্যাচ শেষ হয় টাইব্রেকারে।
ম্যাচটিতে শুরুর একাদশে ছিলেন না ইনিয়েস্তা। ৬৭তম মিনিটে দাভিদ সিলভার বদলি হিসেবে নামানো হয় তাকে। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে ভালো একটা সুযোগ পেয়েছিলেন বার্সেলোনার সাবেক এই তারকা; কিন্তু দারুণ ভলি ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন আকিনফিভ।
টাইব্রেকারে দলের হয়ে প্রথম শট নিয়ে বল জালে পাঠান ইনিয়েস্তা। জাতীয় দলের জার্সিতে এটাই হয়ে থাকলো তার শেষ শট।
২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করা ইনিয়েস্তা বলেন, “এটা বাস্তবতা যে, এটাই জাতীয় দলের হয়ে আমার শেষ ম্যাচ।”
“শেষটা সব সময় আপনার স্বপ্নের মতো হয় না। যে মানের খেলোয়াড় আমাদের আছে তাতে জাতীয় দল সাফল্যের পথে চলতে থাকবে। তাদের সে চেষ্টাই করা উচিত।”
২০০৬ সালে স্পেনের জার্সিতে অভিষেকের পর এই এক যুগে ইনিয়েস্তা কী জেতেননি! স্পেনের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোলটা এসেছে তাঁর পা থেকে। ২০১০ বিশ্বকাপ ফাইনালে সেই যে ইনিয়েস্তার জয়সূচক গোলটা। ওই গোলটার জন্যই তো বিশ্বকাপ ঘরে তুলতে পেরেছিল স্পেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় সেই বিশ্বকাপের আগে ও পরে দুটি ইউরো জয়েও দারুণ ভূমিকা রেখেছিলেন গত এক যুগের অন্যতম সেরা এই মিডফিল্ডার। কিন্তু বিদায়বেলায় তাঁর মনে একটা খটকা কি থেকেই গেল?
রাশিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোর এই ম্যাচে ইনিয়েস্তাকে প্রথম একাদশে খেলাননি স্পেন কোচ ফার্নান্দো হিয়েরো। তাঁকে মাঠে নামিয়েছেন ৬৫ মিনিটের পর। এরপর স্পেনের খেলার ধারও বেড়েছে। কিন্তু দলকে জেতাতে পারেননি ৩৪ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার। তবে ইনিয়েস্তার প্রথম একাদশে সুযোগ না পাওয়ার সিদ্ধান্তটা মেনে নিতে পারেননি তাঁরই জাতীয় দল সতীর্থ সেস ফ্যাব্রেগাস। বিবিসিকে ফ্যাব্রেগাস বলেছেন, ‘এভাবে বিদায়টা তাঁর প্রাপ্য ছিল না। আমি অবশ্যই মনে করি তাঁকে শুরু থেকে খেলানো যেত।’


























