ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নায়ক হয়ে গেছেন তিনি। কিন্তু ওই ম্যাচেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল এডিনসন কাভানিকে। কোয়ার্টার ফাইনালে শুক্রবার ফ্রান্সের বিপক্ষে এই গোল মেশিনের খেলা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রবল অনিশ্চয়তা। এর মধ্যেই উরুগুয়ে শিবিরে খানিকটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে বুধবার কাভানি অনুশীলনে ফেরায়।
অনুশীলনে নামলেও পিএসজির স্ট্রাইকার যে ফ্রান্স ম্যাচে খেলবেনই তাও কিন্তু বলা যাচ্ছে না। উরুগুয়ে দলের চিকিৎসক এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কাভানির পায়ে স্ক্যান করে দেখা গিয়েছে পেশি না ছিঁড়লেও একটা জায়গা অনেকটা ফুলে আছে। নিঝনি নভগরোদে তার খেলার সম্ভাবনা নিয়ে উরুগুয়ে দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘আমরা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি। তবে কাভানির চোট আছে এটা পরিষ্কার। তাই দলের সঙ্গে নয়, ওকে আলাদা অনুশীলন করানো হয়েছে। আপাতত ওর ফিজিওথেরাপি চলছে।’
ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ে দেশ্যম কিন্তু মনে করেন কাভানি না খেললেও কোনওভাবেই উরুগুয়েকে দুর্বল বলা যাবে না। ফরাসি কোচের বক্তব্য, ‘পিএসজিতে কাভানি একটা বড় নাম। ফ্রান্সে অসম্ভব জনপ্রিয়ও। আমরা সব রকম ভাবেই নিজেদের তৈরি রাখছি। কাভানি খেললে এক রকম। না খেললে আর এক রকম। তবে কাভানি খেললে আমাদের কাজটা আরও কঠিন হয়ে যাবে। বিশ্ব ফুটবলে কাভানি আর সুয়ারেস বিশ্বের অন্যতম সেরা আক্রমণ জুটি।’
এদিকে লুইস সুয়ারেস জানিয়েছেন, কাভানি না খেললে তার জায়গায় কে নামবেন তা ঠিক করার সেরা মানুষ উরুগুয়ের কোচ অস্কার তাবারেস। একাত্তর বছরের এই কোচ এখন খুবই অসুস্থ। তিনি স্নায়ুর অসুখে ভুগছেন। ক্রাচ নিয়ে হাঁটাচলা করেন। তবু তার উপস্থিতিই দলকে বাড়তি শক্তি দেয় বলে মনে করেন বার্সেলোনায় লিওনেল মেসির সতীর্থ সুয়ারেস।
বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ড বলেন, ‘এই যে আমাকে আজ এত পরিণত দেখছেন তার জন্যও তাবারেসের অবদান অনেকটা। আমাকে সব সময় উনি ম্যাচের আগে বলে দেন, কী ভাবে কী করতে হবে। আমার চোখে তাবারেস বিশ্বের সেরা কোচদের একজন। কাভানি না থাকলেও দলটা আমাদের কোচ ঠিক মতোই সাজিয়ে দেবেন। তাই এটা নিয়ে আমরা ভাবছিই না।’
তাবারেস নিজে বলেছেন, ‘আমাকে দেখলেই যে কেউ বলে দেবে বুড়ো হয়ে গেছি। হয়তো চলে যাওয়ার সময়ও হয়েছে। রাশিয়াতেও ফেডারেশন আমার উপর ভরসা রেখেছে ভাবলে নিজেই অবাক হয়ে যাই। তবে অভিজ্ঞতারও একটা দাম আছে। আর আপনি যত অভিজ্ঞ হবেন তত মাথা ঠান্ডা রেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।’


























