অ্যান্টিগা টেস্টে দুই দিন আর এক সেশনে হেরেছে টাইগাররা। ইনিংস ও ২১৯ রানের জয়ে দেশের মাটিতে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই ম্যাচের পর গণমাধ্যমের কাছে এসে বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান আত্মসমর্পণ করলেন অসহায়ভাবে। স্বীকার করে নিলেন, অ্যান্টিগা টেস্টে বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে পিছিয়ে ছিল ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে।
ম্যাচ শেষে সাকিব হতাশার পাশাপাশি শোনালেন আশার কথাও তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য ম্যাচটি কঠিন ছিল। আমরা জানতাম, কঠিন হবে। অনেক জায়গা আছে, যেখানে আমাদের কাজ করতে হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে তিন বিভাগেই হেরে গেছি আমরা।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস কন্ডিশনে খেলে অভ্যস্ত নয় টাইগাররা। আর তাই মানিয়ে নেওয়া সহজ হচ্ছে না বা হবে না বলে অভিমত সাকিবের, ‘এই কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হবে না। কারণ এই ধরনের কন্ডিশনে খেলতে আমরা অভ্যস্ত নই।’ টেস্ট অধিনায়কের দৃষ্টি এখন জ্যামাইকা টেস্টে, যা শুরু হবে আগামী ১২ জুলাই, ‘পরের ৫ দিনে অনেক দিকে আমাদের মনোযোগ দিতে হবে এবং সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে হবে।’
যথাযথ প্রস্তুতির পাশাপাশি নিজেদের মানসিকতার উন্নতিও প্রয়োজন আছে বলে মনে করছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার। ইতিবাচক মানসিকতায়ই নিজেদের দুঃসময় কাটাতে চান বাংলাদেশের সেরা ক্রিকেটার। সাকিব বলেন, ‘৫ দিনে আমরা সবচেয়ে ভালো যেটা করতে পারি, সেটা হলো মানসিকতায় উন্নতি। এটাই করতে পারি আমরা। ফিট থাকতে হবে এবং ইতিবাচক সবকিছু ভাবতে হবে।’
উল্লেখ্য, ১৮ বছর হল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছে। কিন্তু পাঁচদিনের এই ফরম্যাটের খেলায় এখনও পরিপক্ক হতে পারেনি দলটি। হাতে গোনা কয়েকটা ম্যাচ বাদ দিলে তাদের সাফল্য নেই বললেই চলে। ম্যাচ জয় তো দূরের কথা লড়াইটাও এখন শিখতে পারেনি টাইগাররা। যার সর্বশেষ উদাহারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে লজ্জাজনক হার। প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ হেরেছে ইনিংস ও ২১৯ রানে।
এন্টিগায় টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। তার সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল সেটা প্রমাণে বেশি ব্যস্ত হয়ে পরেন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা। কেমার রোচ এর বল তারা এমন ভাবে মোকাবেলা করেন মনে হচ্ছিল ক্রিকেট খেলাটা এই প্রথম খেলছে তারা। কেউ কেউ তো মোকাবেলা করে সময় নষ্ট না করে খুব দ্রুততার সাথে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। ফলাফল টেস্টে বাংলাদেশের এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন রানে অলআউট হওয়ার লজ্জাকর রেকর্ড। মাত্র ৪৩ রানে প্যাক হয়ে যায় মুশফিক-মিরাজরা।
যেই পিচে রোচের বল খেলতে গিয়ে হুমরি খেয়ে পরে টাইাগার ব্যাটসম্যানরা সেখানে বাংলাদেশি বোলারদের বল বেধড়ক পিটিয়ে ৪০৬ রানের পাহাড়সম স্কোর দাঁড় করায় ক্যারবীয়রা। এতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ লিড পায় ৩৬৩ রানের।
৩৬৩ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে তামিম-লিটন। কিন্তু এবার আর রোচ না। এবার টাইগার শিবিরে আতঙ্কের নাম গ্যাব্রিয়েল। তার বোলিংতোপে গতকালকেই অলআউট হওয়ার শঙ্কা জাগলেও সোহানের ব্যাটে সেটা সম্ভব হয়নি। তবে তৃতীয় দিনের শুরুতেই সোহানের ৬৪ রানের ওপর ভর করে ১৪৪ রানে থামে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ভ্যাগ্যিস রোচ ইনজিুরির কারণে বল করতে পারেননি, না হলে ১০০ হত কি না সেটাই প্রশ্ন?


























