রমজানকে সামনে রেখে বাজারে তেল নিয়ে ফের লুকোচুরি শুরু হয়েছে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে।একই অবস্থা পাহাড়তলী বাজারেও।প্রতিষ্ঠানগুলো জোটবদ্ধ হয়ে কিছুদিন ধরে সরবরাহ কমিয়ে তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে। এতে প্রায় বাজারশূন্য হয়ে পড়ছে বোতলজাত সয়াবিন তেল। ফলে আসন্ন রমজানে সয়াবিন তেলের বড় সংকট হতে পারে-এমন শঙ্কা প্রকাশ করছেন ক্রেতারা।
তাদের মতে, সরকারিভাবে দাম বাড়াতেই প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রেতাদের জিম্মি করছে।এদিকে খাতুনগঞ্জের বাজার ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতারা পাঁচ থেকে ছয় দোকান ঘুরে এক লিটার বোতলজাত তেল পেলেও তা ২০০-২২০ টাকায় কিনছেন। অথচ সরকার নির্ধারিত মূল্য ১৭৫ টাকা। এ পরিস্থিতিতে আরও এক ধাপ এগিয়ে পাহাড়তলী বাজারের অসাধু খুচরা বিক্রেতারা। তারা লিটারে ৩০ টাকা বাড়তি লাভের আশায় বোতল খুলে ড্রামে ঢেলে খুচরা বিক্রি করছেন। দাম রাখছেন ২২০-২৩০ টাকা লিটারে। তবে খোলা সয়াবিন তেলের সরকার নির্ধারিত মূল্য ১৫৭ টাকা।
অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরে দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা ২৩ থেকে ২৪ লাখ টন। এর মধ্যে রমজানে চাহিদা ৩ লাখ টন। দেশে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এ বছরের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত আমদানি হয়েছে ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৫৪৮ টন। এছাড়া দেশীয় উৎপাদন করা হয় ২ লাখ ৫০ হাজার টন। আর আমদানি পর্যায়ে এখনো পাইপলাইনে আছে ৮ লাখ ১২ হাজার ৫৬৫ টন। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য নিম্নমুখী হওয়ায় স্থানীয় বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।এছাড়া বাজারে বোতলজাত সয়াবিনের সংকটের কথা বললেও চলতি অর্থবছরের (২০২৪-২৫) এ পর্যন্ত আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে অপরিশোধিত ভোজ্যতেল চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস হয়েছিল ২১ লাখ ৭০ হাজার ৩ টন। এর মধ্যে ৫ লাখ ২১ হাজার ৯৫২ টন সয়াবিন এবং ১৬ লাখ ৪৮ হাজার ৫১ টন পাম অয়েল রয়েছে। চলতি অর্থবছর (২০২৪-২৫) একই সময়ে ভোজ্যতেল খালাস হয়েছে ২২ লাখ ৭০ হাজার ২৮৯ টন। এর মধ্যে ১৪ লাখ ৩৬ হাজার ৩৮৬ টন পাম অয়েল এবং ৮ লাখ ৩৩ হাজার ৯০৩ টন সয়াবিন তেল। দেখা যাচ্ছে, আগের তুলনায় এক লাখ টনের বেশি তেল বেশি আমদানি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছর নভেম্বরে অস্থিরতা শুরু হয় ভোজ্যতেলের বাজারে। বোতলজাত তেলের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা যায় খোলা তেল। প্রথম দফায় ১৭ অক্টোবর ও দ্বিতীয় দফায় ১৯ নভেম্বর শুল্ককর কমিয়ে তা নামানো হয়েছে শুধু ৫ শতাংশে। এতে বাজারে সামান্য কমে ভোজ্যতেলের দাম। তবে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে এসে বাজার থেকে উধাও হতে শুরু হয় ১ ও ২ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন। ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী, ৯ ডিসেম্বর লিটারে ৮ টাকা বাড়ানো হয়। তবুও সরবরাহ সংকট কাটেনি। এরপর ১৬ ডিসেম্বর ভোজ্যতেলের দাম সহনীয় রাখতে নতুন বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত আমদানিতে শুল্ক, রেগুলেটরি ডিউটি ও অগ্রিম আয়কর শতভাগ অব্যাহতি দিয়েছে সরকার।
পাশাপাশি ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়। তারপরও অস্থিরতা কাটছে না।
ডিএস../





















