০৪:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

পাবনায় ৪টি বিপন্ন পাতিসরালি হাঁস উদ্ধার, পাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে অবমুক্ত

পাবনার বড় বাজার থেকে চারটি বিপন্ন প্রজাতির ‘পাতিসরালি’ হাঁস উদ্ধার করে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে অবমুক্ত করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তি উদ্যোগে নেওয়া এই পদক্ষেপটি স্থানীয় মহলে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে পাবনা বড় বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে আনা চারটি পাতিসরালি হাঁস দেখতে পান প্রাণী অধিকার কর্মী রাকিবুজ্জামান শাদের বাবা কামরুজ্জামান। অসাধু ব্যবসায়ীর হাত থেকে পাখিগুলোকে রক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি নগদ অর্থের বিনিময়ে হাঁসগুলো কিনে নেন। পরবর্তীতে পাখিগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জলাশয়ে হাঁসগুলো অবমুক্ত করার সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। উপস্থিত ছিলেন জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. নাজমুল ইসলাম, অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খালেদ ইকবাল চৌধুরী, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রভাষক আবরার তাজোয়ার রিজন, প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদ ও প্রাণী অধিকার কর্মী রাকিবুজ্জামান শাদ।

এসময় ড. নাজমুল ইসলাম শিক্ষিত ও স্বচ্ছল শ্রেণির অসচেতনতাকে দায়ী করে বলেন, আমরা যদি বন্য পাখি কেনা বন্ধ করি, তবে অবৈধ শিকার অনেকাংশে কমে আসবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এসব প্রাণীর গুরুত্ব অপরিসীম। আসুন আমরা সবাই মিলে বন্যপ্রাণী শিকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি।

প্রাণী অধিকার কর্মী রাকিবুজ্জামান শাদ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, যদিও মানবিক কারণে অর্থ দিয়ে হাঁসগুলো উদ্ধার করা হয়েছে, তবে এ ধরনের অবৈধ শিকার একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সামান্য মাংসের লোভে অতিথি পাখি ও বন্যপ্রাণীদের ঝুঁকির মুখে ফেলা হচ্ছে। একটি জাতির নৈতিক চরিত্র বোঝা যায় অবলা প্রাণীদের প্রতি তাদের আচরণ দেখে। নিষ্ঠুরতা প্রশ্রয় দিয়ে কখনো মানবিক সমাজ গঠন সম্ভব নয়।

পাবিপ্রবি ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করার পর হাঁসগুলো স্বাচ্ছন্দ্যে ডানা মেলেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ডিএস./

ট্যাগ :

বাসের ভেতরেই হেলপারের মৃত্যু, ময়নাতদন্তে কারণ জানার অপেক্ষা

পাবনায় ৪টি বিপন্ন পাতিসরালি হাঁস উদ্ধার, পাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে অবমুক্ত

প্রকাশিত : ১০:২৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

পাবনার বড় বাজার থেকে চারটি বিপন্ন প্রজাতির ‘পাতিসরালি’ হাঁস উদ্ধার করে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে অবমুক্ত করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তি উদ্যোগে নেওয়া এই পদক্ষেপটি স্থানীয় মহলে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে পাবনা বড় বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে আনা চারটি পাতিসরালি হাঁস দেখতে পান প্রাণী অধিকার কর্মী রাকিবুজ্জামান শাদের বাবা কামরুজ্জামান। অসাধু ব্যবসায়ীর হাত থেকে পাখিগুলোকে রক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি নগদ অর্থের বিনিময়ে হাঁসগুলো কিনে নেন। পরবর্তীতে পাখিগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জলাশয়ে হাঁসগুলো অবমুক্ত করার সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। উপস্থিত ছিলেন জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. নাজমুল ইসলাম, অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খালেদ ইকবাল চৌধুরী, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রভাষক আবরার তাজোয়ার রিজন, প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদ ও প্রাণী অধিকার কর্মী রাকিবুজ্জামান শাদ।

এসময় ড. নাজমুল ইসলাম শিক্ষিত ও স্বচ্ছল শ্রেণির অসচেতনতাকে দায়ী করে বলেন, আমরা যদি বন্য পাখি কেনা বন্ধ করি, তবে অবৈধ শিকার অনেকাংশে কমে আসবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এসব প্রাণীর গুরুত্ব অপরিসীম। আসুন আমরা সবাই মিলে বন্যপ্রাণী শিকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি।

প্রাণী অধিকার কর্মী রাকিবুজ্জামান শাদ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, যদিও মানবিক কারণে অর্থ দিয়ে হাঁসগুলো উদ্ধার করা হয়েছে, তবে এ ধরনের অবৈধ শিকার একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সামান্য মাংসের লোভে অতিথি পাখি ও বন্যপ্রাণীদের ঝুঁকির মুখে ফেলা হচ্ছে। একটি জাতির নৈতিক চরিত্র বোঝা যায় অবলা প্রাণীদের প্রতি তাদের আচরণ দেখে। নিষ্ঠুরতা প্রশ্রয় দিয়ে কখনো মানবিক সমাজ গঠন সম্ভব নয়।

পাবিপ্রবি ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করার পর হাঁসগুলো স্বাচ্ছন্দ্যে ডানা মেলেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ডিএস./