০৫:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

টানা মুষলধারে বৃষ্টিতে সাতকানিয়ার নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা, বন্যার শঙ্কা

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় টানা মুষলধারে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। রোববার সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিপাত সোমবারও দিনভর চলতে থাকায় উপজেলার নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকলে শঙ্খ (সাঙ্গু) নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টির পাশাপাশি পার্বত্যাঞ্চল থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদীর তীরবর্তী চরতী, খাগরিয়া ও কালিয়াইশ ইউনিয়নের নিচু এলাকা এবং চরের ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে বাজালিয়া ইউনিয়নের বড়দুয়ারা এলাকা এবং কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের কয়েকটি নিম্নাঞ্চলে জমিতে পানি জমতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এসব এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হতে পারে।

অন্যদিকে কেওচিয়া ও ঢেমশা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক এবং নিচু বসতবাড়িতে পানি জমে সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।

এছাড়াও টানা বৃষ্টির কারণে কেরানীহাটের রাস্তার দুপাশে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান ময়লা আবর্জনা স্তূপ থাকা এবং নালা পরিস্কার না থাকার কারণে পানি জমে থাকে এবং জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সোমবার সাতকানিয়ায় তাপমাত্রা ছিল ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, অনুভূত তাপমাত্রা প্রায় ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৬ শতাংশ এবং দক্ষিণ দিক থেকে ঘণ্টায় প্রায় ১২ মাইল বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার ও বুধবারও সাতকানিয়াসহ চট্টগ্রাম অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবারও বজ্রসহ ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদীতীরবর্তী এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কুড়িগ্রামে নানা আয়োজনে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন

টানা মুষলধারে বৃষ্টিতে সাতকানিয়ার নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা, বন্যার শঙ্কা

প্রকাশিত : ০৫:১৯:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় টানা মুষলধারে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। রোববার সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিপাত সোমবারও দিনভর চলতে থাকায় উপজেলার নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকলে শঙ্খ (সাঙ্গু) নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টির পাশাপাশি পার্বত্যাঞ্চল থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদীর তীরবর্তী চরতী, খাগরিয়া ও কালিয়াইশ ইউনিয়নের নিচু এলাকা এবং চরের ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে বাজালিয়া ইউনিয়নের বড়দুয়ারা এলাকা এবং কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের কয়েকটি নিম্নাঞ্চলে জমিতে পানি জমতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এসব এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হতে পারে।

অন্যদিকে কেওচিয়া ও ঢেমশা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক এবং নিচু বসতবাড়িতে পানি জমে সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।

এছাড়াও টানা বৃষ্টির কারণে কেরানীহাটের রাস্তার দুপাশে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান ময়লা আবর্জনা স্তূপ থাকা এবং নালা পরিস্কার না থাকার কারণে পানি জমে থাকে এবং জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সোমবার সাতকানিয়ায় তাপমাত্রা ছিল ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, অনুভূত তাপমাত্রা প্রায় ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৬ শতাংশ এবং দক্ষিণ দিক থেকে ঘণ্টায় প্রায় ১২ মাইল বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার ও বুধবারও সাতকানিয়াসহ চট্টগ্রাম অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবারও বজ্রসহ ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদীতীরবর্তী এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ডিএস./