০৫:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

ভবিষ্যতে গ্রিন লাইসেন্স ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠানকে শিপ রিসাইক্লিং ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না: শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী

ভবিষ্যতে গ্রিন লাইসেন্স ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানকে শিপ রিসাইক্লিং (শিপ ব্রেকিং) ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে এ খাতে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, কারিগরি ও নীতিগত সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৬ জুলাই) সকালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিভিন্ন শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মানদণ্ড অনুসরণ করে দেশের শিপ রিসাইক্লিং শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে সরকার কাজ করছে। একসময় বিশ্বে জাহাজ রিসাইক্লিং শিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে ছিল। সাময়িকভাবে সেই অবস্থান পিছিয়ে গেলেও সরকার আবারও নেতৃত্বের অবস্থান পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের ৩১টি শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড গ্রিন লাইসেন্স অর্জন করে আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মান বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো এ লাইসেন্স পায়নি, তাদেরও নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করে গ্রিন লাইসেন্স অর্জন করতে হবে। ভবিষ্যতে গ্রিন লাইসেন্স ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানকে এ শিল্পে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, অতীতে এ শিল্পে পরিবেশ দূষণ, শ্রমিক নিরাপত্তাহীনতা ও অস্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিয়ে নানা সমালোচনা ছিল। তবে বর্তমানে গ্রিন ইয়ার্ডগুলোতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জাহাজ পুনর্ব্যবহার করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি।

শিল্পে চাঁদাবাজি, প্রশাসনিক জটিলতা কিংবা আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হলে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে সংকট দূর করা সম্ভব না হলেও শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্প খাতের নীতিগত সমস্যাগুলো সমাধানেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শনকালে শিপ রিসাইক্লিং শিল্প মালিক সমিতির প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কুড়িগ্রামে নানা আয়োজনে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন

ভবিষ্যতে গ্রিন লাইসেন্স ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠানকে শিপ রিসাইক্লিং ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না: শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০৫:২৮:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

ভবিষ্যতে গ্রিন লাইসেন্স ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানকে শিপ রিসাইক্লিং (শিপ ব্রেকিং) ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে এ খাতে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, কারিগরি ও নীতিগত সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৬ জুলাই) সকালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিভিন্ন শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মানদণ্ড অনুসরণ করে দেশের শিপ রিসাইক্লিং শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে সরকার কাজ করছে। একসময় বিশ্বে জাহাজ রিসাইক্লিং শিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে ছিল। সাময়িকভাবে সেই অবস্থান পিছিয়ে গেলেও সরকার আবারও নেতৃত্বের অবস্থান পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের ৩১টি শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড গ্রিন লাইসেন্স অর্জন করে আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মান বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো এ লাইসেন্স পায়নি, তাদেরও নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করে গ্রিন লাইসেন্স অর্জন করতে হবে। ভবিষ্যতে গ্রিন লাইসেন্স ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানকে এ শিল্পে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, অতীতে এ শিল্পে পরিবেশ দূষণ, শ্রমিক নিরাপত্তাহীনতা ও অস্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিয়ে নানা সমালোচনা ছিল। তবে বর্তমানে গ্রিন ইয়ার্ডগুলোতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জাহাজ পুনর্ব্যবহার করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি।

শিল্পে চাঁদাবাজি, প্রশাসনিক জটিলতা কিংবা আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হলে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে সংকট দূর করা সম্ভব না হলেও শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্প খাতের নীতিগত সমস্যাগুলো সমাধানেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শনকালে শিপ রিসাইক্লিং শিল্প মালিক সমিতির প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডিএস./