দক্ষিণ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী উপজেলায় টানা এক সপ্তাহের ভারি বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যার পানিতে হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেকের বসতঘর, গবাদিপশু, পুকুর ও মৎস্য প্রকল্প, বীজতলা এবং গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হঠাৎ এই দুর্যোগে বহু পরিবার তাদের সহায়-সম্বল হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এমন পরিস্থিতিতে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আইডিয়াল স্টেপস ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (আইএসএসডি)। সংস্থাটি গত কয়েকদিন ধরে চার উপজেলার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শুকনো খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছে। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিচালিত এ কার্যক্রমে দুর্গত পরিবারের হাতে চাল, ডাল, তেল, আলু, মুড়ি, বিস্কুট, বিশুদ্ধ পানিসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হচ্ছে।
আইএসএসডির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, “দেশের চলমান ভয়াবহ বন্যায় অসংখ্য মানুষ সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। অনেকের ঘরবাড়ি এখনো পানির নিচে থাকায় তারা চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে আমরা তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।”
তিনি আরও বলেন, “গত এক দশক ধরে দেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য খাদ্য, বস্ত্র ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে আসছে আইএসএসডি। এবারও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছি। বিশেষ করে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আন্তরিক সহযোগিতা, দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ আমাদের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করেছে। এজন্য সংস্থার পক্ষ থেকে এবং ব্যক্তিগতভাবে তাঁর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।”
তিনি জানান, বন্যার পানি পুরোপুরি না নামা এবং দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আইএসএসডির মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনেও সংস্থাটি সহযোগিতা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে, ত্রাণসামগ্রী পেয়ে উপকারভোগীরা আইএসএসডির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, বন্যায় ঘরবাড়ি ও জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় খাদ্যসংকটে পড়েছিলেন। এমন সংকটময় সময়ে আইএসএসডির এই সহায়তা তাদের জন্য অনেকটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।
স্থানীয়দের আশা, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও বেসরকারি সংস্থার এমন মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকলে বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে।
ডিএস./



















