০৬:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

লিভার ও হৃদরোগে কর্মহীন কালাম, চিকিৎসার অর্থাভাবে বাঁচার আকুতি

নওগাঁ সদর উপজেলার খাস নওগাঁ মহল্লার বাসিন্দা কালাম হোসেন (৪১), পিতা মৃত মির বক্স। প্রায় এক বছর ধরে লিভার ও হৃদরোগে ভুগছেন তিনি। চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত উন্নত চিকিৎসা না হলে তার শারীরিক অবস্থা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু চরম অর্থসংকটের কারণে সেই চিকিৎসা করাতে পারছেন না। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা, কর্মহীনতা ও আর্থিক দুরবস্থায় এখন সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহায়তার অপেক্ষায় দিন কাটছে তার।

একসময় মাইক্রোবাস চালিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে স্বচ্ছলভাবে সংসার চালাতেন কালাম হোসেন। কিন্তু অসুস্থ হয়ে পড়ার পর থেকে আর গাড়ি চালানোর মতো শারীরিক সক্ষমতা নেই। বর্তমানে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবন করছেন। শুধু ওষুধ কিনতেই প্রতি মাসে প্রায় ৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে, যা তার পরিবারের পক্ষে বহন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, অসুস্থ হওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আশায় দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা হারান কালাম। পরে রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে নিজের শেষ সম্বল প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতক জমিও আপন ভাইয়ের কাছে বিক্রি করে দেন। বর্তমানে স্ত্রীকে নিয়ে একটি টিনশেড ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কালামের ঘরে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও প্রায় নেই। আগামী দিনের খাবারের নিশ্চয়তাও অনিশ্চিত। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও কিছু মানবিক মানুষের সহায়তায় কোনোমতে চিকিৎসা ও সংসার চলছে। তবুও সুস্থ হয়ে আবার কর্মজীবনে ফিরতে চান তিনি।

কালাম হোসেন বলেন, “আমি বাঁচতে চাই। সুস্থ হয়ে আবার কাজ করতে চাই। কিন্তু চিকিৎসার খরচ বহন করার সামর্থ্য আমার নেই। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষ যদি আমার পাশে দাঁড়ান, তাহলে হয়তো আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব।”

এ বিষয়ে নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীন মাহমুদ বলেন, “কালাম হোসেন লিখিত আবেদন করলে সমাজসেবাসহ সংশ্লিষ্ট তিনটি দপ্তরের মাধ্যমে তার রোগের ধরন অনুযায়ী সরকারি অনুদানের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি প্রাথমিকভাবে তার হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হবে।”

চিকিৎসার অর্থসংকটে প্রতিটি দিনই কালামের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত হলে হয়তো তিনি আবার সুস্থ হয়ে কর্মজীবনে ফিরতে পারবেন এবং তার পরিবারের মুখে ফিরবে স্বস্তির হাসি।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সাতকানিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি- জনদুর্ভোগ

লিভার ও হৃদরোগে কর্মহীন কালাম, চিকিৎসার অর্থাভাবে বাঁচার আকুতি

প্রকাশিত : ০৪:৩৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

নওগাঁ সদর উপজেলার খাস নওগাঁ মহল্লার বাসিন্দা কালাম হোসেন (৪১), পিতা মৃত মির বক্স। প্রায় এক বছর ধরে লিভার ও হৃদরোগে ভুগছেন তিনি। চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত উন্নত চিকিৎসা না হলে তার শারীরিক অবস্থা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু চরম অর্থসংকটের কারণে সেই চিকিৎসা করাতে পারছেন না। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা, কর্মহীনতা ও আর্থিক দুরবস্থায় এখন সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহায়তার অপেক্ষায় দিন কাটছে তার।

একসময় মাইক্রোবাস চালিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে স্বচ্ছলভাবে সংসার চালাতেন কালাম হোসেন। কিন্তু অসুস্থ হয়ে পড়ার পর থেকে আর গাড়ি চালানোর মতো শারীরিক সক্ষমতা নেই। বর্তমানে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবন করছেন। শুধু ওষুধ কিনতেই প্রতি মাসে প্রায় ৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে, যা তার পরিবারের পক্ষে বহন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, অসুস্থ হওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আশায় দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা হারান কালাম। পরে রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে নিজের শেষ সম্বল প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতক জমিও আপন ভাইয়ের কাছে বিক্রি করে দেন। বর্তমানে স্ত্রীকে নিয়ে একটি টিনশেড ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কালামের ঘরে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও প্রায় নেই। আগামী দিনের খাবারের নিশ্চয়তাও অনিশ্চিত। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও কিছু মানবিক মানুষের সহায়তায় কোনোমতে চিকিৎসা ও সংসার চলছে। তবুও সুস্থ হয়ে আবার কর্মজীবনে ফিরতে চান তিনি।

কালাম হোসেন বলেন, “আমি বাঁচতে চাই। সুস্থ হয়ে আবার কাজ করতে চাই। কিন্তু চিকিৎসার খরচ বহন করার সামর্থ্য আমার নেই। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষ যদি আমার পাশে দাঁড়ান, তাহলে হয়তো আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব।”

এ বিষয়ে নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীন মাহমুদ বলেন, “কালাম হোসেন লিখিত আবেদন করলে সমাজসেবাসহ সংশ্লিষ্ট তিনটি দপ্তরের মাধ্যমে তার রোগের ধরন অনুযায়ী সরকারি অনুদানের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি প্রাথমিকভাবে তার হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হবে।”

চিকিৎসার অর্থসংকটে প্রতিটি দিনই কালামের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত হলে হয়তো তিনি আবার সুস্থ হয়ে কর্মজীবনে ফিরতে পারবেন এবং তার পরিবারের মুখে ফিরবে স্বস্তির হাসি।

ডিএস./