০৬:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

গজারিয়ায় চাঞ্চল্যকর দস্যুতা মামলায় আরও ১০ আসামি গ্রেপ্তার, মোট আটক ১৪

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্টোর ও স্টেক ইয়ার্ডে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর দস্যুতা মামলায় আরও ১০ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে গজারিয়া থানা পুলিশ। এ নিয়ে মামলায় মোট ১৪ জন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। একই সঙ্গে দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত আরও একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুলাই রাত সাড়ে ৭টা থেকে ১১ জুলাই রাত ১২টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের ছোট বালুয়াকান্দি এলাকায় মিয়ামী হোটেল ও স্টার কাবাব রেস্টুরেন্টের মাঝামাঝি উসা এগ্রো লিমিটেডের মালিকানাধীন ভাড়া জায়গায় এ দস্যুতার ঘটনা ঘটে।

দস্যুরা ধারালো দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রবেশ করে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে। পরে তাদের হাত-পা বেঁধে একটি কক্ষের ভেতরে আটকে রেখে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। লুট হওয়া মালামালের মধ্যে ছিল বিভিন্ন প্রকার ও সাইজের ইলেকট্রিক ক্যাবল, পাইলিং কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম, লোহার পুলি, চায়না ইঞ্জিন, ওয়েল্ডিং মেশিন, ফুয়েল পাম্প, লিফটিং হেড, গালগাট্টা পুলি, ট্রেমি হেড, বিভিন্ন মেশিনের যন্ত্রাংশ, ৩০ হর্স পাওয়ার মোটর, রড কাটার মেশিনসহ অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ লাখ টাকা।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করা হয়।পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত আরও একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত ১০ আসামি হলেন মোঃ শাহ আলম (২৩), পিতা-মৃত হাফেজ, মাতা-শারমিন আক্ততার, সাং শিমুলিয়া, পশ্চিম পাড়া (তারা মেম্বার এর বাড়ি), ইউপি-ফকিরা বাজার, থানা-বারহাট্টা, জেলা-নেত্রকোনা। মোঃ রনি শিকদার (৩৪), পিতা- মোঃ মতি শিকদার, মাতা- মোসাঃ রীনা বেগম, সাং ফেরাঙ্গিকান্দি, ইউপি-নারায়নপুর (৫নং ওয়ার্ড), থানা-ভেদরগঞ্জ, জেলা-শরীয়তপুর। মোঃ মেহেদী হাসান (৩৮), পিতা- মোঃ জামাল শিকদার, মাতা- তুলিয়া বেগম, সাং-শিবপুর, মধ্যপাড়া, মনোরঞ্জন দাস (২৭), পিতা- মৃত নিমাই দাস, মাতা- মঙ্গলী রানী দাস, সাং- সবহন, পালের বাজার, থানা-দাউদকান্দি, জেলা-কুমিল্লা। মোঃ আল আমিন সানা (১৯), পিতা- মোঃ আসাদুল সানা, মাতা- কলিমুন্নেসা, সাং খড়িয়া, ইউপি-লস্কর, থানা-পাইকগাছা, জেলা-খুলনা। অলোকেশ মন্ডল (৩৫), পিতা-প্রশান্ত মন্ডল, মাতা- বিমলা মন্ডল, সাং কড়ুলিয়া (মন্ডল বাড়ি), ইউপি- লস্কর, থানা- পাইকগাছা, জেলা-খুলনা। সারাফত উদ্দিন সুমন (২৪), পিতা- রফি উদ্দিন গাজী, মাতা- খাদিজা খাতুন, সাং নারায়নপুর, মধ্যপাড়া, গাজী বাড়ি, ইউপি- বাগালি, থানা- কয়রা, জেলা-খুলনা।মোঃ অলিউর রহমান (২৪), পিতা- মোঃ মোশাররফ হোসেন, মাতা- রাফিজা খাতুন, সাং কুড়িয়া, ইউপি- লস্কর, থানা- পাইকগাছা, জেলা-খুলনা।মোঃ জামাল (৪০), পিতা- মোঃ এবাদুল মোল্লা, সাং চর চান্দা, ঢালীকান্দি, থানা-সখিপুর, জেলা- শরীয়তপুর। মোঃ মৃদুল আহম্মেদ তুষার (২৬), পিতা- মোঃ নাঈম মিয়া, সাং বড় বেরাইদ, ডগরদিয়া, থানা- বাড্ডা।

গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ সাব্বির হোসেন জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত ২টি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে ঢাকার তেজগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।আর জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা পেশাদার ও সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য। তারা গজারিয়া থানা এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি ও দস্যুতার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

যদি রুখে দাঁড়াও, তুমি বাংলাদেশ’ জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে এসপি মাসুদ আলমের বক্তব্য

গজারিয়ায় চাঞ্চল্যকর দস্যুতা মামলায় আরও ১০ আসামি গ্রেপ্তার, মোট আটক ১৪

প্রকাশিত : ০৫:৩৪:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্টোর ও স্টেক ইয়ার্ডে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর দস্যুতা মামলায় আরও ১০ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে গজারিয়া থানা পুলিশ। এ নিয়ে মামলায় মোট ১৪ জন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। একই সঙ্গে দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত আরও একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুলাই রাত সাড়ে ৭টা থেকে ১১ জুলাই রাত ১২টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের ছোট বালুয়াকান্দি এলাকায় মিয়ামী হোটেল ও স্টার কাবাব রেস্টুরেন্টের মাঝামাঝি উসা এগ্রো লিমিটেডের মালিকানাধীন ভাড়া জায়গায় এ দস্যুতার ঘটনা ঘটে।

দস্যুরা ধারালো দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রবেশ করে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে। পরে তাদের হাত-পা বেঁধে একটি কক্ষের ভেতরে আটকে রেখে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। লুট হওয়া মালামালের মধ্যে ছিল বিভিন্ন প্রকার ও সাইজের ইলেকট্রিক ক্যাবল, পাইলিং কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম, লোহার পুলি, চায়না ইঞ্জিন, ওয়েল্ডিং মেশিন, ফুয়েল পাম্প, লিফটিং হেড, গালগাট্টা পুলি, ট্রেমি হেড, বিভিন্ন মেশিনের যন্ত্রাংশ, ৩০ হর্স পাওয়ার মোটর, রড কাটার মেশিনসহ অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ লাখ টাকা।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করা হয়।পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত আরও একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত ১০ আসামি হলেন মোঃ শাহ আলম (২৩), পিতা-মৃত হাফেজ, মাতা-শারমিন আক্ততার, সাং শিমুলিয়া, পশ্চিম পাড়া (তারা মেম্বার এর বাড়ি), ইউপি-ফকিরা বাজার, থানা-বারহাট্টা, জেলা-নেত্রকোনা। মোঃ রনি শিকদার (৩৪), পিতা- মোঃ মতি শিকদার, মাতা- মোসাঃ রীনা বেগম, সাং ফেরাঙ্গিকান্দি, ইউপি-নারায়নপুর (৫নং ওয়ার্ড), থানা-ভেদরগঞ্জ, জেলা-শরীয়তপুর। মোঃ মেহেদী হাসান (৩৮), পিতা- মোঃ জামাল শিকদার, মাতা- তুলিয়া বেগম, সাং-শিবপুর, মধ্যপাড়া, মনোরঞ্জন দাস (২৭), পিতা- মৃত নিমাই দাস, মাতা- মঙ্গলী রানী দাস, সাং- সবহন, পালের বাজার, থানা-দাউদকান্দি, জেলা-কুমিল্লা। মোঃ আল আমিন সানা (১৯), পিতা- মোঃ আসাদুল সানা, মাতা- কলিমুন্নেসা, সাং খড়িয়া, ইউপি-লস্কর, থানা-পাইকগাছা, জেলা-খুলনা। অলোকেশ মন্ডল (৩৫), পিতা-প্রশান্ত মন্ডল, মাতা- বিমলা মন্ডল, সাং কড়ুলিয়া (মন্ডল বাড়ি), ইউপি- লস্কর, থানা- পাইকগাছা, জেলা-খুলনা। সারাফত উদ্দিন সুমন (২৪), পিতা- রফি উদ্দিন গাজী, মাতা- খাদিজা খাতুন, সাং নারায়নপুর, মধ্যপাড়া, গাজী বাড়ি, ইউপি- বাগালি, থানা- কয়রা, জেলা-খুলনা।মোঃ অলিউর রহমান (২৪), পিতা- মোঃ মোশাররফ হোসেন, মাতা- রাফিজা খাতুন, সাং কুড়িয়া, ইউপি- লস্কর, থানা- পাইকগাছা, জেলা-খুলনা।মোঃ জামাল (৪০), পিতা- মোঃ এবাদুল মোল্লা, সাং চর চান্দা, ঢালীকান্দি, থানা-সখিপুর, জেলা- শরীয়তপুর। মোঃ মৃদুল আহম্মেদ তুষার (২৬), পিতা- মোঃ নাঈম মিয়া, সাং বড় বেরাইদ, ডগরদিয়া, থানা- বাড্ডা।

গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ সাব্বির হোসেন জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত ২টি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে ঢাকার তেজগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।আর জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা পেশাদার ও সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য। তারা গজারিয়া থানা এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি ও দস্যুতার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডিএস./