চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় টানা এক সপ্তাহের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার প্রায় চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন,বন্যায় তলিয়ে গেছে বিভিন্ন রাস্তাঘাট,পানি নামার সাথে সাথেই দেখা দিয়েছে রাস্তার ক্ষত চিহ্ন, বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় ক্ষেতের বিভিন্ন ফসল, ধসে পড়ে বসতবাড়ি। বন্যা দুর্গত এলাকার বাড়িঘর হারানো মানুষের পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা সহ বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন ক্ষতিগ্রস্থরা।
চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়ার ১৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বিভিন্ন ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাটের, উপজেলার বিভিন্ন সড়কে বন্যা পানির স্রোতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিভিন্ন সড়ক ও জনপদ।
পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে আসছে বন্যার ক্ষতচিহ্ন। বিভিন্ন সড়কে বড় বড় গর্ত ও ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গায় সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে, কোথাও কোথাও যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও ঝুঁকিপূর্ণ।
বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্রামীণ সড়ক, কালভার্ট, বসতবাড়ি ও কৃষিজমি। অনেক পরিবার এখনও ঘরে ফিরতে পারেনি। ঘরবাড়িতে জমে থাকা কাদা ও নোংরা পানি পরিষ্কার করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। নিরাপদ খাবার পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তার চাহিদাও রয়ে গেছে।
সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সাতকানিয়া রামপুর বায়তুশ শরফ এলাকায় পানির স্রোতে ভেঙে গেছে চলাচলের রাস্তা,
এছাড়াও রাস্তা ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে সাতকানিয়া কলেজ রোড়,ছদাহা ফকিরহাট, দক্ষিণ কাঞ্চনা, মৌলভীর দোকান -তালতল সড়ক,কেরানীহাট -চৌধুরীহাট সড়ক ,নলুয়া আমিলাইষের কিছু অংশ।
পানির স্রোতে নষ্ট হয়েছে মাছের ঘের, পোলট্রি খামার, সবজি ক্ষেত, উপজেলা বিভিন্ন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী সাতকানিয়া এবারের বন্যায় প্রায় ১২৬ কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
পৌরসভার দক্ষিণ সামিয়ার পাড়ার মোঃ সেলিম জানান বন্যায় পানির স্রোতে সারা জীবনের কষ্টের টাকায় করা তাদের পাকাঁ গরটি ভেঙে যাই, তিনি বলেন, এই ঘরটি ছাড়া কিছুই নাই, দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলাম কষ্টার্জিত টাকায় এই বাড়িটি করা, পরিবার নিয়ে সব ঠিকঠাক মতোই চলছিল,কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে বন্যায় সব শেষ করো দিয়ে গেল, এখন আমি কোথায় যাব, কী করব-কিছুই ভেবে পাচ্ছি না।
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি । বাড়ির মালামাল তো গেছে, পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই রক্ষা করতে পারিনি। এমন অবস্থায় উপজেলা প্রশাসনের প্রতি আমার অনুরোধ যত দ্রুত সম্ভব আর্থিক সহযোগিতার অনুরোধ জানাচ্ছি।
উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সবুজ কুমার দে জানান,যে সকল রাস্তা গুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সেগুলো দ্রুত সংস্কার কাজ করা হবে এবং প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সাতকানিয়ায় ৪৫টি রাস্তা ৩৫ কিলোমিটারের মত অংশ, ৪টি কালভার্টের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেটি এসেসমেন্ট করার জন্য, ঊর্ধ্বতন মহলের সাথে কথা হয়েছে তারা ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।
এদিকে বন্যার পানি কমলেও দুর্ভোগ এখনো কাটেনি সাতকানিয়ার মানুষের। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে প্রয়োজন দ্রুত সড়ক সংস্কার, বিশুদ্ধ পানি ও পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা সহ ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ডিএস./



















