০৩:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬

বন্যার পানি নামলেও থামেনি সাঙ্গু নদীর তাণ্ডব, ভাঙনে নদীতে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বন্যার পানি নেমে গেলেও কমেনি সাঙ্গু নদীর তাণ্ডব। চরতী ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙনে প্রতিদিনই বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, বসতবাড়ি, সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ।

বন্যার পানি নেমে গেলেও ভয়াল রূপ ধরে রেখেছে সাঙ্গু নদী। সাতকানিয়ার চরতী ইউনিয়নের ২, ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডে অব্যাহত নদীভাঙনে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট। নদীর তীরজুড়ে এখন শুধু আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা।

সাঙ্গু নদীর অব্যাহত ভাঙনে ইতোমধ্যে অনেক ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে চলে গেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে আরও বড় ক্ষয়ক্ষতি হবে।

২ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপাড়া এলাকায় ইতোমধ্যে বিলীন হয়েছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। এখন ঝুঁকিতে রয়েছে অসংখ্য বসতবাড়ি। অন্যদিকে, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর ও দক্ষিণ ব্রাহ্মণডেঙ্গার মধ্যবর্তী প্রায় ৩০০ মিটার এলাকায় পাথরের ব্লক না থাকায় ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে।

৪ নম্বর ওয়ার্ডের তুলাতলী চরপাড়ায় নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে বহু বাড়িঘর। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে একটি মসজিদ, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং আরও অনেক বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। একই এলাকার সেনেরচরেও ভাঙনের কবলে পড়েছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি।

চরতী নদীপাড়ের বাসিন্দা ইনু মিয়া, আঃ মোমেন,মোক্তার আহমদ বলেন, “প্রতিদিনই নদী ভাঙছে। আমাদের জমি-ঘর সব নদীতে চলে যাচ্ছে। দ্রুত জিও ব্যাগ ও পাথরের ব্লক না দিলে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাব।”

“আমাদের স্কুল, মসজিদ ও বাড়িঘর হুমকির মুখে। সরকারের কাছে দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। পাশাপাশি নদীর দুই তীরে স্থায়ীভাবে পাথরের ব্লক স্থাপন করে বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা ও ফসলি জমি রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

বন্যার পানি কমলেও সাঙ্গু নদীর ভাঙন থামছে না। প্রতিদিনই নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের শেষ সম্বল। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে চরতী ইউনিয়নের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বিভাগ ১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ বলেন, সাতকানিয়া সাঙ্গু নদীর পাড়ের যে স্থানগুলোতে ভেঙেছে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণবাসনের চাহিদা আমরা প্রেরণ করেছি, যেগুলো খুব জরুরী সেগুলো অস্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজ করব জিও ব্যাক দিয়ে, পর্যায়ক্রমে আমরা যে অব উন্নয়ন বাজেট তাতে বেশ কিছু কাজ অন্তর্ভুক্ত করব এছাড়া সাঙ্গু নদীর পার্মানেন্ট স্লোপ প্রোটেকশনের জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তুত করেছি সেটি খুব দ্রুত আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডে দাখিল করব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, নদীর তীরবর্তী গ্রাম চরতী ইউনিয়নে সাম্প্রতিক বন্যায় সাঙ্গু নদীর পানির ঢলে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং নদীর দুই পাড়ে যে অংশটুকু ভেঙে গেছে সেটি দ্রুত মেরামতের জন্য চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে আলোচনা করেছি তারা এটি অ্যাসেসমেন্ট করে দ্রুত ব্যবস্থা নিবে বলে আমাদেরকে জানিয়েছেন।

ডিএস./

ট্যাগ :

কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবের আকস্মিক পরিদর্শন

বন্যার পানি নামলেও থামেনি সাঙ্গু নদীর তাণ্ডব, ভাঙনে নদীতে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা

প্রকাশিত : ০৩:০১:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বন্যার পানি নেমে গেলেও কমেনি সাঙ্গু নদীর তাণ্ডব। চরতী ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙনে প্রতিদিনই বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, বসতবাড়ি, সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ।

বন্যার পানি নেমে গেলেও ভয়াল রূপ ধরে রেখেছে সাঙ্গু নদী। সাতকানিয়ার চরতী ইউনিয়নের ২, ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডে অব্যাহত নদীভাঙনে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট। নদীর তীরজুড়ে এখন শুধু আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা।

সাঙ্গু নদীর অব্যাহত ভাঙনে ইতোমধ্যে অনেক ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে চলে গেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে আরও বড় ক্ষয়ক্ষতি হবে।

২ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপাড়া এলাকায় ইতোমধ্যে বিলীন হয়েছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। এখন ঝুঁকিতে রয়েছে অসংখ্য বসতবাড়ি। অন্যদিকে, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর ও দক্ষিণ ব্রাহ্মণডেঙ্গার মধ্যবর্তী প্রায় ৩০০ মিটার এলাকায় পাথরের ব্লক না থাকায় ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে।

৪ নম্বর ওয়ার্ডের তুলাতলী চরপাড়ায় নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে বহু বাড়িঘর। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে একটি মসজিদ, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং আরও অনেক বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। একই এলাকার সেনেরচরেও ভাঙনের কবলে পড়েছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি।

চরতী নদীপাড়ের বাসিন্দা ইনু মিয়া, আঃ মোমেন,মোক্তার আহমদ বলেন, “প্রতিদিনই নদী ভাঙছে। আমাদের জমি-ঘর সব নদীতে চলে যাচ্ছে। দ্রুত জিও ব্যাগ ও পাথরের ব্লক না দিলে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাব।”

“আমাদের স্কুল, মসজিদ ও বাড়িঘর হুমকির মুখে। সরকারের কাছে দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। পাশাপাশি নদীর দুই তীরে স্থায়ীভাবে পাথরের ব্লক স্থাপন করে বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা ও ফসলি জমি রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

বন্যার পানি কমলেও সাঙ্গু নদীর ভাঙন থামছে না। প্রতিদিনই নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের শেষ সম্বল। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে চরতী ইউনিয়নের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বিভাগ ১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ বলেন, সাতকানিয়া সাঙ্গু নদীর পাড়ের যে স্থানগুলোতে ভেঙেছে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণবাসনের চাহিদা আমরা প্রেরণ করেছি, যেগুলো খুব জরুরী সেগুলো অস্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজ করব জিও ব্যাক দিয়ে, পর্যায়ক্রমে আমরা যে অব উন্নয়ন বাজেট তাতে বেশ কিছু কাজ অন্তর্ভুক্ত করব এছাড়া সাঙ্গু নদীর পার্মানেন্ট স্লোপ প্রোটেকশনের জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তুত করেছি সেটি খুব দ্রুত আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডে দাখিল করব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, নদীর তীরবর্তী গ্রাম চরতী ইউনিয়নে সাম্প্রতিক বন্যায় সাঙ্গু নদীর পানির ঢলে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং নদীর দুই পাড়ে যে অংশটুকু ভেঙে গেছে সেটি দ্রুত মেরামতের জন্য চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে আলোচনা করেছি তারা এটি অ্যাসেসমেন্ট করে দ্রুত ব্যবস্থা নিবে বলে আমাদেরকে জানিয়েছেন।

ডিএস./