“বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নওগাঁ জেলায় শুরু হয়েছে জেলা বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০২৬ ও সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষ মেলা। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় রবিবার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্যে ছিল বর্ণাঢ্য র্যালি, বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ, বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন, আলোচনা সভা এবং বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব নিয়ে সচেতনতামূলক বক্তব্য।
সকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম-এর নেতৃত্বে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বন বিভাগের প্রতিনিধিরা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, নার্সারি মালিক, পরিবেশপ্রেমী এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
র্যালিতে অংশ নেওয়া প্রত্যেকের হাতে একটি করে বনজ অথবা ফলদ গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। পরে র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুক্তির মোড় নওজোয়ান মাঠে এসে শেষ হয়। এতে শহরের সাধারণ মানুষের মধ্যেও বৃক্ষরোপণ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা যায়।
র্যালি শেষে অতিথিরা বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন তারা এবং প্রদর্শিত বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলদ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
পরে আয়োজিত আলোচনা সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুনিরুল ইসলাম (পিপিএম), রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, নওগাঁ বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বব্যাপী একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, খরা, বন্যা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ যেমন পরিবেশকে শীতল রাখে, তেমনি অক্সিজেন সরবরাহ, কার্বন শোষণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মানুষের সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তারা আরও বলেন, বর্ষাকাল বৃক্ষরোপণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। তাই যার যেখানে সামান্য জায়গা রয়েছে, সেখানে অন্তত একটি হলেও গাছ লাগানো উচিত। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে বৃক্ষরোপণ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা উল্লেখ করেন, কেবল গাছ লাগালেই হবে না; গাছের পরিচর্যা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। লাগানো প্রতিটি গাছকে বড় করে তুলতে পারলেই পরিবেশ সুরক্ষার লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। নতুন প্রজন্মকে পরিবেশবান্ধব জীবনধারায় উদ্বুদ্ধ করতে নিয়মিত এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
এবারের বৃক্ষ মেলায় জেলার বিভিন্ন নার্সারির ৪৪টি স্টল অংশগ্রহণ করেছে। স্টলগুলোতে বনজ, ফলদ, ঔষধি, সৌন্দর্যবর্ধক এবং বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের গাছের সঠিক পরিচর্যা, রোপণ পদ্ধতি এবং পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে এই সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষ মেলা। আয়োজকদের প্রত্যাশা, মেলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন আরও বেগবান হবে।
ডিএস./



















