০৩:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬

বাঁশখালীতে বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ

একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হেলথ কার্ড চালু এবং এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির দক্ষ স্বেচ্ছাসেবক, হাসপাতাল, মেডিক্যাল ও নার্সিং কলেজকে সম্পৃক্ত করে প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়ার ও নার্সদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর এই ভিশন বাস্তবায়নে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে বাঁশখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের উদ্যোগে এবং গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠান শেষে মাহবুবের রহমান শামীম বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগিতায় পরিচালিত জরুরি ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি চিকিৎসাসেবা নিতে আসা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে বাঁশখালীর মানুষ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন। অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও জীবিকার প্রধান উৎস হারিয়েছে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; বরং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি বলেন, দুর্যোগের শুরু থেকেই বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে যুব রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুর্গম ও দুর্গত এলাকায় খাদ্য এবং ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। তাদের এই মানবিক ও সাহসী ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

মাহবুবের রহমান শামীম আরও বলেন, শুধু বাঁশখালী নয়, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, পার্বত্য জেলা বান্দরবান ও রাঙামাটি এবং কক্সবাজারের চকরিয়াসহ দুর্যোগপ্রবণ বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, বন্যার পানি নেমে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রকৃত চ্যালেঞ্জ এখন পুনর্বাসন। বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন, ঘরবাড়ি মেরামত, কৃষিজমি পুনরুদ্ধার এবং জীবিকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নিয়েছেন। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও যেকোনো দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে বিএনপি থাকবে এবং তাদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জাতীয় বোর্ড সদস্য ডা. সারওয়ার আলম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা এবং গ্রামীণফোন বাংলাদেশের কর্মকর্তা সানজানা নূর বক্তব্য দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য কামরুল ইসলাম হোসাইনী, জেমিসন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মো. আছিফ চৌধুরী, সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম, কমিটির জাহাঙ্গীর আলম বাবর, রায়হানুল আনোয়ার রাহী, ইউনিট লেভেল অফিসার জিয়াউল হক জিয়া, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং যুব রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকেরা।

অনুষ্ঠানে বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকেরা জানান, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে অব্যাহত রাখা হবে।

ডিএস./

 

ট্যাগ :

মাকসুদুল হত্যা মামলার দুই আসামি গ্রেপ্তার, উদ্ধার পিস্তল-ম্যাগাজিন ও গুলি

বাঁশখালীতে বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ

প্রকাশিত : ০৩:৩১:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হেলথ কার্ড চালু এবং এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির দক্ষ স্বেচ্ছাসেবক, হাসপাতাল, মেডিক্যাল ও নার্সিং কলেজকে সম্পৃক্ত করে প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়ার ও নার্সদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর এই ভিশন বাস্তবায়নে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে বাঁশখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের উদ্যোগে এবং গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠান শেষে মাহবুবের রহমান শামীম বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগিতায় পরিচালিত জরুরি ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি চিকিৎসাসেবা নিতে আসা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে বাঁশখালীর মানুষ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন। অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও জীবিকার প্রধান উৎস হারিয়েছে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; বরং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি বলেন, দুর্যোগের শুরু থেকেই বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে যুব রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুর্গম ও দুর্গত এলাকায় খাদ্য এবং ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। তাদের এই মানবিক ও সাহসী ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

মাহবুবের রহমান শামীম আরও বলেন, শুধু বাঁশখালী নয়, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, পার্বত্য জেলা বান্দরবান ও রাঙামাটি এবং কক্সবাজারের চকরিয়াসহ দুর্যোগপ্রবণ বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, বন্যার পানি নেমে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রকৃত চ্যালেঞ্জ এখন পুনর্বাসন। বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন, ঘরবাড়ি মেরামত, কৃষিজমি পুনরুদ্ধার এবং জীবিকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নিয়েছেন। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও যেকোনো দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে বিএনপি থাকবে এবং তাদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জাতীয় বোর্ড সদস্য ডা. সারওয়ার আলম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা এবং গ্রামীণফোন বাংলাদেশের কর্মকর্তা সানজানা নূর বক্তব্য দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য কামরুল ইসলাম হোসাইনী, জেমিসন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মো. আছিফ চৌধুরী, সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম, কমিটির জাহাঙ্গীর আলম বাবর, রায়হানুল আনোয়ার রাহী, ইউনিট লেভেল অফিসার জিয়াউল হক জিয়া, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং যুব রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকেরা।

অনুষ্ঠানে বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকেরা জানান, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে অব্যাহত রাখা হবে।

ডিএস./