০৬:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

টনি ডোগানের স্বপ্ন

অন্যান্য খেলার মতো ফুটবলেও এগিয়ে যাচ্ছে নারীরা। কেবল এগিয়ে যাচ্ছে বললে ভুল বলা হবে; কেননা দারুণ দাপটের সঙ্গেই এগিয়ে যাচ্ছে নারী ফুটবল। সারাবিশে^র ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ইতোমধ্যে নারী ফুটবল দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই জনপ্রিয়তার কারণেই এখন ইউরোপের প্রতিটি দেশে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে নারী ফুটবলারদের।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্বকাপসহ আরো বিভিন্ন টুর্নামেন্টের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটা দেশে আলাদা করে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নারী ফুটবল লিগ। এখন ইউরোপের প্রায় সব বড় ক্লাবেরই নারী ফুটবল দল রয়েছে এবং এদের নিয়ে আয়োজিত হচ্ছে অনেক টুর্নামেন্ট। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নারীদের ফুটবলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার নারী ফুটবল দলের ইংলিশ ফুটবলার টনি ডোগান।

টনি ডোগানের জন্ম ১৯৯১ সালের ২৫ জুলাই ইংল্যান্ডের লিভারপুলে। বয়সভিত্তিক দলে অসাধারণ পারফরমেন্স দেখিয়ে ২০১২ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয় তার। অভিষেকের পর থেকেই একের পর এক চমক দেখাচ্ছেন এই ফরোয়ার্ড।

ইংল্যান্ডের হয়ে এখন পর্যন্ত ৫৯ ম্যাচে ২১ গোল করা টনি ডোগান ক্যারিয়ারে বহু ক্লাবে খেলেছেন। তার পেশাদারি ক্যারিয়ারের শুরুটা হয় নিজ দেশের ক্লাব এভারটন লেডিসের হয়ে। এরপর ২০১৩ সালে ম্যানচেস্টার সিটিতে নাম লেখান সাম্প্রতিক সময়ে নারী ফুটবলের অন্যতম সেরা এই ফরোয়ার্ড। ম্যানসিটিতে তার পারফরমেন্স নজর কাড়ে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনার।

২০১৭ সালের ম্যানসিটির কাছ থেকে টনি ডোগানকে কিনে নেয় কাতালান ক্লাবটি। বার্সার নারী দলের হয়ে গত মৌসুমটা দারুণ কেটেছে সুন্দরী এই ইংলিশ ফরোয়ার্ডের। স্প্যানিশ জায়ান্টের হয়ে এখন পর্যন্ত মাত্র ২৬টি ম্যাচ খেলেই ১০ গোল করেছেন তিনি।

সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন্স কাপে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছিলেন কোচ আর্নেস্তো ভালভের্দের শিষ্যর। পুরুষ দলের মতো ওই সময় প্রাক মৌসুম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বেশ কিছু ম্যাচ খেলার জন্য বার্সার নারী দলও যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছিল। তখন টনি ডোগানের সঙ্গে দেখা হয় অভিনেত্রী জুলিয়া রবাটর্সের সঙ্গে। এ ছাড়া সাবেক লিভারপুল তারকা লুইস গার্সিয়ার সঙ্গেও দেখা হয়েছিল টনি ডোগানের।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্র সফরের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে টনি ডোগান বলেন, ওই সফরে মাঠে ও মাঠের বাইরে সময়টা বেশ ভালো কেটেছে আমাদের। যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বেশ কয়েকজন প্রিয় মানুষের সঙ্গে দেখা হয়েছে আমার। কিংবদন্তি ইংলিশ ফুটবলার গ্যারি লিনেকার ছাড়া এখন পর্যন্ত আর কোনো ইংলিশ ফুটবলার স্প্যানিশ ক্লাব বার্সার হয়ে খেলতে পারেননি।

প্রথম ইংলিশ নারী ফুটবলার হিসেবে বার্সার জার্সিতে খেলছেন টনি ডোগান। সব মিলিয়ে গ্যারি লিনেকারের পর তিনিই প্রথম ফুটবলার, যিনি বার্সার জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন। এ বিষয়ে টনি ডোগান বলেন, গ্যারি লিনেকার শুধু ইংল্যান্ড নয়, বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা একজন খেলোয়াড়। একজন ফুটবলার হিসেবে আমিও চাই নিজেকে কিংবদন্তিদের জায়গায় নিয়ে যেতে।

এরপর তিনি বলেন, অনেকে হয়তো আমার কথাটাকে হেসেই উড়িয়ে দেবেন। তবে আমি যা বলেছি ভেবেচিন্তেই বলেছি। এখন পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের ফুটবলও দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। নারী ফুটবলাররা প্রতিনিয়ত নিজেদের ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

তাই আমি বিশ্বাস করি, এমন একটা সময় আসবে যখন পুরুষদের মতো নারীদের ফুটবলে যারা অনন্য নজির স্থাপন করেছে তাদের নামও উচ্চারিত হবে শ্রদ্ধার সঙ্গে, ঠিক একজন কিংবদন্তির মতো। উল্লেখ্য, ক্যারিয়ারে টনি ডোগানের অন্যতম সেরা অর্জন ম্যানসিটির হয়ে ওমেন্স সুপার লিগের শিরোপা জয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শহীদ জহির রায়হান স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি

টনি ডোগানের স্বপ্ন

প্রকাশিত : ০৪:২৭:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অগাস্ট ২০১৮

অন্যান্য খেলার মতো ফুটবলেও এগিয়ে যাচ্ছে নারীরা। কেবল এগিয়ে যাচ্ছে বললে ভুল বলা হবে; কেননা দারুণ দাপটের সঙ্গেই এগিয়ে যাচ্ছে নারী ফুটবল। সারাবিশে^র ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ইতোমধ্যে নারী ফুটবল দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই জনপ্রিয়তার কারণেই এখন ইউরোপের প্রতিটি দেশে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে নারী ফুটবলারদের।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্বকাপসহ আরো বিভিন্ন টুর্নামেন্টের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটা দেশে আলাদা করে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নারী ফুটবল লিগ। এখন ইউরোপের প্রায় সব বড় ক্লাবেরই নারী ফুটবল দল রয়েছে এবং এদের নিয়ে আয়োজিত হচ্ছে অনেক টুর্নামেন্ট। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নারীদের ফুটবলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার নারী ফুটবল দলের ইংলিশ ফুটবলার টনি ডোগান।

টনি ডোগানের জন্ম ১৯৯১ সালের ২৫ জুলাই ইংল্যান্ডের লিভারপুলে। বয়সভিত্তিক দলে অসাধারণ পারফরমেন্স দেখিয়ে ২০১২ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয় তার। অভিষেকের পর থেকেই একের পর এক চমক দেখাচ্ছেন এই ফরোয়ার্ড।

ইংল্যান্ডের হয়ে এখন পর্যন্ত ৫৯ ম্যাচে ২১ গোল করা টনি ডোগান ক্যারিয়ারে বহু ক্লাবে খেলেছেন। তার পেশাদারি ক্যারিয়ারের শুরুটা হয় নিজ দেশের ক্লাব এভারটন লেডিসের হয়ে। এরপর ২০১৩ সালে ম্যানচেস্টার সিটিতে নাম লেখান সাম্প্রতিক সময়ে নারী ফুটবলের অন্যতম সেরা এই ফরোয়ার্ড। ম্যানসিটিতে তার পারফরমেন্স নজর কাড়ে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনার।

২০১৭ সালের ম্যানসিটির কাছ থেকে টনি ডোগানকে কিনে নেয় কাতালান ক্লাবটি। বার্সার নারী দলের হয়ে গত মৌসুমটা দারুণ কেটেছে সুন্দরী এই ইংলিশ ফরোয়ার্ডের। স্প্যানিশ জায়ান্টের হয়ে এখন পর্যন্ত মাত্র ২৬টি ম্যাচ খেলেই ১০ গোল করেছেন তিনি।

সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন্স কাপে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছিলেন কোচ আর্নেস্তো ভালভের্দের শিষ্যর। পুরুষ দলের মতো ওই সময় প্রাক মৌসুম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বেশ কিছু ম্যাচ খেলার জন্য বার্সার নারী দলও যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছিল। তখন টনি ডোগানের সঙ্গে দেখা হয় অভিনেত্রী জুলিয়া রবাটর্সের সঙ্গে। এ ছাড়া সাবেক লিভারপুল তারকা লুইস গার্সিয়ার সঙ্গেও দেখা হয়েছিল টনি ডোগানের।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্র সফরের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে টনি ডোগান বলেন, ওই সফরে মাঠে ও মাঠের বাইরে সময়টা বেশ ভালো কেটেছে আমাদের। যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বেশ কয়েকজন প্রিয় মানুষের সঙ্গে দেখা হয়েছে আমার। কিংবদন্তি ইংলিশ ফুটবলার গ্যারি লিনেকার ছাড়া এখন পর্যন্ত আর কোনো ইংলিশ ফুটবলার স্প্যানিশ ক্লাব বার্সার হয়ে খেলতে পারেননি।

প্রথম ইংলিশ নারী ফুটবলার হিসেবে বার্সার জার্সিতে খেলছেন টনি ডোগান। সব মিলিয়ে গ্যারি লিনেকারের পর তিনিই প্রথম ফুটবলার, যিনি বার্সার জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন। এ বিষয়ে টনি ডোগান বলেন, গ্যারি লিনেকার শুধু ইংল্যান্ড নয়, বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা একজন খেলোয়াড়। একজন ফুটবলার হিসেবে আমিও চাই নিজেকে কিংবদন্তিদের জায়গায় নিয়ে যেতে।

এরপর তিনি বলেন, অনেকে হয়তো আমার কথাটাকে হেসেই উড়িয়ে দেবেন। তবে আমি যা বলেছি ভেবেচিন্তেই বলেছি। এখন পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের ফুটবলও দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। নারী ফুটবলাররা প্রতিনিয়ত নিজেদের ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

তাই আমি বিশ্বাস করি, এমন একটা সময় আসবে যখন পুরুষদের মতো নারীদের ফুটবলে যারা অনন্য নজির স্থাপন করেছে তাদের নামও উচ্চারিত হবে শ্রদ্ধার সঙ্গে, ঠিক একজন কিংবদন্তির মতো। উল্লেখ্য, ক্যারিয়ারে টনি ডোগানের অন্যতম সেরা অর্জন ম্যানসিটির হয়ে ওমেন্স সুপার লিগের শিরোপা জয়।