০৬:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬

শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে হামলা, ৯ জনের ফাঁসির রায়

  • মনির,পাবনা
  • প্রকাশিত : ০৮:৪০:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুলাই ২০১৯
  • 166

পাবনার ঈশ্বরদীতে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলায় ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় ২৫ জনের যাবজ্জীবন ও ১৩ জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৩ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. রুস্তম আলী এ রায় দেন।

রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্তদের কারাগারে পাঠানো হয়। এ মামলায় ৫২ জন আসামির মধ্যে একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তসহ ১৪ জন এখনও পলাতক রয়েছেন এবং পাঁচজন বিভিন্ন সময় মৃত্যুবরণ করেছেন। আসামিরা সবাই ঈশ্বরদী উপজেলা, পৌর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে সাজা কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন- আমিনুর ইসলাম ওরফে আমিন (পলাতক), আজাদ হোসেন, ইসমাইল হোসেন ওরফে জুয়েল, আলাউদ্দিন বিশ্বাস, সামসুর রহমান ওরফে সিমু, আনিছুর রহমান ওরফে সেকম (পলাতক), আক্কেল আলী, রবি (পলাতক), এনাম, কাশেম ওরফে হালট কাশেম (পলাতক), কালা বাবু (পলাতক), মামুন-১ (পলাতক), মামুন-২ (পলাতক), সেলিম আহমেদ, কল্লোল, তুহিন, শাহ আলম লিটন, আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে রিপন, লাইজু (পলাতক), আব্দুল জব্বার, পলাশ, হাকিম উদ্দিন ওরফে টেনু, আলমগীর, আবুল কালাম (পলাতক) ও এ কে এম ফিরোজুল ইসলাম।

১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন- নেফাউর রহমান ওরফে রাজু, আজমল হোসেন ওরফে ডাবলু, আনোয়ার হোসেন জনি, রনো (পলাতক), বরকত, চাঁদ আলী (পলাতক), এনামুল কবির, মোক্তার, হাফিজুর রহমান মুকুল, হুমায়ন কবির দুলাল (পলাতক), জামরুল (পলাতক) তুহিন বিন সিদ্দিক, ফজলুর রহমান।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পিপি অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান মুক্তা, এপিপি অ্যাডভোকেট সাজ্জাদ হোসেন লিটন, অ্যাডভোকেট গোলাম হাসনায়েন, অ্যাডভোকেট আব্দুল আহাদ বাবু। আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার, অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম গ্যাদা।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এপিপি সাজ্জাদ হোসেন লিটন জানান, ২৫ বছর পর দেওয়া মামলার রায়ে তারা সন্তুষ্ট। এর মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আর আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসুদ খন্দকার বলেন, এ তারা রায়ে সন্তুষ্ট নন। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত রায় দেওয়া হয়েছে। উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানান তিনি।

মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল রহিম লাল।

এ বিষয়ে পাবনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তোতা বলেন, রায় নিয়ে তাদের মন্তব্য নেই। কোনো কর্মসূচিও নেই। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় মামলা মোকাবেলা করা হবে।

১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় কর্মসূচিতে ট্রেনবহর নিয়ে খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাচ্ছিলেন। পথে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনে তাকে বহনকারী ট্রেনবহর যাত্রাবিরতি করলে ওই ট্রেন ও শেখ হাসিনার কামরা লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়।

পরে তৎকালীন ঈশ্বরদী জিআরপি থানার ওসি নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে সাত জনকে আসামি করে মামলা করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর মামলা পুনঃতদন্ত করে পুলিশ। পরে সিআইডি তদন্ত করে ১৯৯৭ সালের ৩ এপ্রিল ৫২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

বিবি/ইএম

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আমার ভাইকে বাঁচান’ সেলিম প্রধানের মুক্তির দাবিতে বোনের কান্না

শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে হামলা, ৯ জনের ফাঁসির রায়

প্রকাশিত : ০৮:৪০:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুলাই ২০১৯

পাবনার ঈশ্বরদীতে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলায় ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় ২৫ জনের যাবজ্জীবন ও ১৩ জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৩ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. রুস্তম আলী এ রায় দেন।

রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্তদের কারাগারে পাঠানো হয়। এ মামলায় ৫২ জন আসামির মধ্যে একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তসহ ১৪ জন এখনও পলাতক রয়েছেন এবং পাঁচজন বিভিন্ন সময় মৃত্যুবরণ করেছেন। আসামিরা সবাই ঈশ্বরদী উপজেলা, পৌর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে সাজা কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন- আমিনুর ইসলাম ওরফে আমিন (পলাতক), আজাদ হোসেন, ইসমাইল হোসেন ওরফে জুয়েল, আলাউদ্দিন বিশ্বাস, সামসুর রহমান ওরফে সিমু, আনিছুর রহমান ওরফে সেকম (পলাতক), আক্কেল আলী, রবি (পলাতক), এনাম, কাশেম ওরফে হালট কাশেম (পলাতক), কালা বাবু (পলাতক), মামুন-১ (পলাতক), মামুন-২ (পলাতক), সেলিম আহমেদ, কল্লোল, তুহিন, শাহ আলম লিটন, আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে রিপন, লাইজু (পলাতক), আব্দুল জব্বার, পলাশ, হাকিম উদ্দিন ওরফে টেনু, আলমগীর, আবুল কালাম (পলাতক) ও এ কে এম ফিরোজুল ইসলাম।

১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন- নেফাউর রহমান ওরফে রাজু, আজমল হোসেন ওরফে ডাবলু, আনোয়ার হোসেন জনি, রনো (পলাতক), বরকত, চাঁদ আলী (পলাতক), এনামুল কবির, মোক্তার, হাফিজুর রহমান মুকুল, হুমায়ন কবির দুলাল (পলাতক), জামরুল (পলাতক) তুহিন বিন সিদ্দিক, ফজলুর রহমান।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পিপি অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান মুক্তা, এপিপি অ্যাডভোকেট সাজ্জাদ হোসেন লিটন, অ্যাডভোকেট গোলাম হাসনায়েন, অ্যাডভোকেট আব্দুল আহাদ বাবু। আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার, অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম গ্যাদা।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এপিপি সাজ্জাদ হোসেন লিটন জানান, ২৫ বছর পর দেওয়া মামলার রায়ে তারা সন্তুষ্ট। এর মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আর আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসুদ খন্দকার বলেন, এ তারা রায়ে সন্তুষ্ট নন। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত রায় দেওয়া হয়েছে। উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানান তিনি।

মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল রহিম লাল।

এ বিষয়ে পাবনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তোতা বলেন, রায় নিয়ে তাদের মন্তব্য নেই। কোনো কর্মসূচিও নেই। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় মামলা মোকাবেলা করা হবে।

১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় কর্মসূচিতে ট্রেনবহর নিয়ে খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাচ্ছিলেন। পথে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনে তাকে বহনকারী ট্রেনবহর যাত্রাবিরতি করলে ওই ট্রেন ও শেখ হাসিনার কামরা লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়।

পরে তৎকালীন ঈশ্বরদী জিআরপি থানার ওসি নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে সাত জনকে আসামি করে মামলা করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর মামলা পুনঃতদন্ত করে পুলিশ। পরে সিআইডি তদন্ত করে ১৯৯৭ সালের ৩ এপ্রিল ৫২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

বিবি/ইএম