০৬:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

যে গাছের বাকলে লেখা হতো চিঠি

‘নবীনা’ বর্ষায় ভূর্জ পাতায় ‘নবগীত’ রচনার কথা বলেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। শোনা যায়, ভূর্জপত্রের বাকলে চিঠিপত্র লেখার অভ্যাসও ছিল তাঁর। কাগজ আবিষ্কারের আগে প্রাচীন ভারতে লেখার উপকরণ হিসেবে ভূর্জপত্রগাছের বাকল অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রসিদ্ধ ছিল। এখন সেই যুগ নেই। তবে ঢাকার বলধা গার্ডেনে দুষ্প্রাপ্য এমন দুটি গাছের দেখা মিলবে।

বলধা গার্ডেনের সাইকি অংশে লাগানো গাছ দুটোর একটা দাঁড়িয়ে আছে দক্ষিণ-পূর্ব কোণে; বিলিম্বি আর স্বর্ণ অশোকের কোল ঘেঁষে। অন্যটির অবস্থান পশ্চিম প্রান্তে, বিচিত্র বকুলের পাশে।

গত বুধবার গাছ দুটো দেখার সময় সঙ্গে ছিলেন বনপ্রহরী রেজাউল হক। তিনি জানালেন, কাছাকাছি সময়ে লাগানো এই দুটি বয়স কমপক্ষে দেড় শ বছর। এখানে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের অনেকে বিস্ময় নিয়ে গাছ দুটো দেখেন। বোঝার চেষ্টা করেন, প্রাচীনকালে এই গাছের বাকলে লেখার পদ্ধতি ঠিক কেমন ছিল?

দেখা যায়, ভূর্জপত্রগাছের পাতা ৫ থেকে ৮ সেন্টিমিটার লম্বা। তবে মূল সৌন্দর্য এর বাকলে। বাদামি রঙের বাকল বেশ স্বচ্ছ ও পাতলা। জানা যায়, লেখার কাজে ব্যবহারের জন্য প্রথমে গাছের বাকলের ভেতরের অংশটি বিভিন্ন মাপে কাটা হতো।

তারপর তা রোদে শুকিয়ে তেল দিয়ে পালিশ করা হতো। এরপর লেখার জন্য ব্যবহার করা হতো বিশেষ ধরনের তুলি ও রং।

ভূর্জপত্রের বৈজ্ঞানিক নাম Melaleuca Cajuputi। মূলত হিমালয় অঞ্চলে পাওয়া যায়। হিন্দি নাম ভূজপত্র। সংস্কৃতে ডাকা হয় ভূজপত্রক। এই গাছ তার পুষ্পবৈশিষ্ট্যের কারণেও অনন্য। সাধারণত এপ্রিল-মে মাসে ফুল ফোটে।

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভিসা প্রতারণা ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে নীলফামারীতে পুলিশের অভিযান ‎গ্রেপ্তার: ৬১

যে গাছের বাকলে লেখা হতো চিঠি

প্রকাশিত : ০১:৩৮:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

‘নবীনা’ বর্ষায় ভূর্জ পাতায় ‘নবগীত’ রচনার কথা বলেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। শোনা যায়, ভূর্জপত্রের বাকলে চিঠিপত্র লেখার অভ্যাসও ছিল তাঁর। কাগজ আবিষ্কারের আগে প্রাচীন ভারতে লেখার উপকরণ হিসেবে ভূর্জপত্রগাছের বাকল অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রসিদ্ধ ছিল। এখন সেই যুগ নেই। তবে ঢাকার বলধা গার্ডেনে দুষ্প্রাপ্য এমন দুটি গাছের দেখা মিলবে।

বলধা গার্ডেনের সাইকি অংশে লাগানো গাছ দুটোর একটা দাঁড়িয়ে আছে দক্ষিণ-পূর্ব কোণে; বিলিম্বি আর স্বর্ণ অশোকের কোল ঘেঁষে। অন্যটির অবস্থান পশ্চিম প্রান্তে, বিচিত্র বকুলের পাশে।

গত বুধবার গাছ দুটো দেখার সময় সঙ্গে ছিলেন বনপ্রহরী রেজাউল হক। তিনি জানালেন, কাছাকাছি সময়ে লাগানো এই দুটি বয়স কমপক্ষে দেড় শ বছর। এখানে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের অনেকে বিস্ময় নিয়ে গাছ দুটো দেখেন। বোঝার চেষ্টা করেন, প্রাচীনকালে এই গাছের বাকলে লেখার পদ্ধতি ঠিক কেমন ছিল?

দেখা যায়, ভূর্জপত্রগাছের পাতা ৫ থেকে ৮ সেন্টিমিটার লম্বা। তবে মূল সৌন্দর্য এর বাকলে। বাদামি রঙের বাকল বেশ স্বচ্ছ ও পাতলা। জানা যায়, লেখার কাজে ব্যবহারের জন্য প্রথমে গাছের বাকলের ভেতরের অংশটি বিভিন্ন মাপে কাটা হতো।

তারপর তা রোদে শুকিয়ে তেল দিয়ে পালিশ করা হতো। এরপর লেখার জন্য ব্যবহার করা হতো বিশেষ ধরনের তুলি ও রং।

ভূর্জপত্রের বৈজ্ঞানিক নাম Melaleuca Cajuputi। মূলত হিমালয় অঞ্চলে পাওয়া যায়। হিন্দি নাম ভূজপত্র। সংস্কৃতে ডাকা হয় ভূজপত্রক। এই গাছ তার পুষ্পবৈশিষ্ট্যের কারণেও অনন্য। সাধারণত এপ্রিল-মে মাসে ফুল ফোটে।

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান