সিরাজগঞ্জে যুবতীকে গণধর্ষণ মামলায় ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। দণ্ডিতদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে নির্যাতিত যুবতীকে আদায় করে দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল-১ এর বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজির এ আদেশ দেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- সদর উপজেলার ভাটপিয়ারী গ্রামের মো. রাসেল (২২), সোহেল (২৩), রাজ্জাক (৪১), নাজমুল (২১), নুরু ওরফে নুর ইসলাম (২৩) ও মোমিন (৩১)। সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল হামিদ লাবলু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, সদর উপজেলার ভাটপিয়ারী গ্রামের মৃত আবু সাইদের মেয়ে (১৮) পাঁচিল গ্রামের রাসেলের মোবাইল ফোনে প্রেম হয়। ২০১৬ সালের ২০ এপ্রিল রাতে ওই যুবতীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে যমুনা নদীর ভাটপিয়ার চরে আসতে বলে রাসেল। প্রেমিককে বিশ্বাস করে ভাটপিয়ারী যমুনার চরে গেলে অন্যান্য আসামিদের ফোন করে ডেকে এনে ওই যুবতীকে গণধর্ষণ করে তারা।
এতে নির্যাতিত যুবতী অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে আখক্ষেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় ধর্ষকেরা। ভোর ৪টার দিকে নির্যাতিত যুবতীর জ্ঞান ফিরে অসুস্থ অবস্থায় বাড়ী ফেরার পথে অপর আসামি মোমিন তাকে একা পেয়ে রাস্তার পাশে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। পরে ওই যুবতী ফোন করে তার বোন ভগ্নিপতিকে বিষয়টি জানালে তারা অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় ভিকটিমের ভাই শহীদুল ইসলাম বাদী হয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার দীর্ঘ শুনানী শেষে ৬ ধর্ষকের বিরুদ্ধে এই রায় ঘোষণা করেন আদালত। আসামিদের মধ্যে সোহেল ও আব্দুল মোমিন পলাতক রয়েছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















