করোনাকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমাদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাহেব অত্যন্ত সুবেশী এবং টিপটপ জেন্টেলম্যান। তাকে পরামর্শ দেব, কোনো বক্তব্য দেয়ার পর তা আবার শোনার জন্য। তাহলে আপনি (কাদের) বুঝতে পারবেন জনগণ আপনার কথা বিশ্বাস করে না।’
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষ থেকে বিএনপি বিটের সংবাদকর্মীদের মাঝে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) বিতরণ অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করেন।
কাদেরের বক্তব্য প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, ‘তিনি (কাদের) সুযোগ পেলেই বিএনপিকে আক্রমণ করেন এবং তার সুন্দর সুললিত ভাষায় সেই আক্রমণগুলো করেন।’ কাদেরকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনি যে কথাগুলো বলেন, আপনি কি সেটা পরে আবার শুনেন কী বলছেন? শোনা উচিত এজন্য যে, তাহলে আমি নিজেই বুঝবেন যে, জনগণ আপনার কথা বিশ্বাস করছে না, তাহলে নিজেই বুঝবেন এই কথাগুলো সঠিক নয়।’
গার্মেন্টস খুলে দিয়ে সরকার ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আজকে প্রতিটি মানুষ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এই যে গার্মেন্টসগুলোকে উনারা খুলে দিলেন, গার্মেন্টস খুলে দিয়ে কী করলেন? বাইরের এলাকাগুলো থেকে সব চলে এলো যারা সংক্রমিত হয়ে চলে গিয়েছিল আবার সংক্রমিত হয়ে ফেরত এলো।
করোনাভাইরাস সংক্রমণে সরকারি তথ্য-উপাত্ত ‘সঠিক’ নয় দাবি করে ‘সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে’ বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেন, ‘আজকে সরকারের তরফ থেকে যে আক্রান্ত, অসুস্থ, সুস্থ এবং মৃত্যুর যে ডাটাগুলো দেয়া হচ্ছে-আমার তো মনে হয় বাংলাদেশের কোনো মানুষ তা বিশ্বাস করে না।
ফখরুল বলেন, ‘আজকে প্রশ্ন হচ্ছে জীবনের, প্রশ্ন হচ্ছে নাথিং ইজ মোর প্রেসাচ দেয়ার লাইফ। আর এরা খুলে দিয়েছেন শপিং মল। কেন? ঈদের বাজার করতে হবে আর অর্থনীতিকে চালু রাখতে হবে। এতদিন কী করলেন? এই যে মধ্যআয়ের দেশে চলে গেলেন, অর্থনীতি আপনার রোল মডেল বিশ্বের মধ্যে। কেন বর্তমান অবস্থাকে ধারণ করার মতো শক্তি এই ইকোনমির তৈরি হয়নি। কারণ আপনারা পুরোটাই মিথ্যা কথা বলেছেন, মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন, ভুল বুঝিয়েছেন।’
করোনাভাইরাস সংবাদ সংগ্রহে গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেখুন-গণমাধ্যমের যারা সাংবাদিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ পরিবেশ করছেন তাদের কী অবস্থা। বিভিন্ন জায়গায় ছাঁটাই হয়ে গেছেন এই দুঃসময়ে, অনেক প্রতিষ্ঠানে বেতন-টেতন বন্ধ হয়ে আছে তিন মাস যাবত। সেখানে কিন্তু সরকারের কোনো প্রণোদনা নেই। এই যে সরকার ৯৫ হাজার কোটি টাকার একটা প্রণোদনা ঘোষণা করেছে যেটাকে আমরা বলেছি যে পুরোটাই শুভংকরের ফাঁকি। সেই প্রণোদনাতে সাংবাদিকদের কথা কিছুই বলা নেই।’
বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সহসভাপতি রাশেদুল হক বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে দলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন নসু, নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর হেলাল উদ্দিন, প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান ও আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

























