০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

কারাবন্দীরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনীসহ দুর্লভ তথ্য জানতে পারছে

শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনী জানার ও ধর্মীয় শিক্ষাসহ বিভিন্ন উপন্যাস পড়ে জ্ঞান অর্জন করতেই এবারই প্রথম চালু করা হয়েছে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে লাইব্রেরী। কারাগার কর্তপক্ষের নিয়ন্ত্রণে এই লাইব্রেরীতে চেয়ার টেবিলে বসে কারাবন্দীরা বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা গ্রহন করছে।
সকালে খাবার শেষে কারাবন্দীরা লাইব্রেরীতে যেয়ে বিভিন্ন লেখকের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী, বাল্যকাল, কিশোর, রাজনৈতিক জীবনে কারাবাস ও ঘটনাবহুল রানৈতিক জীবনের বিভিন্ন ঘটনা, রোজনামচা, আমার দেখা নয়াচীন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, স্মৃতিকথা রাজনৈতিক জীবনের দুর্লভ তথ্য জানতে পেরেছেন। তিনি বাংলাদেশের এক মহারাষ্ট্রনায়ক ছিলেন। যার জন্ম এ দেশে না হলে হয়তো বাংলাদেশ নামের একটি সুন্দর দেশ উপহার পাওয়া যেত না। বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে আগে আমরা অনেক কিছু জানতাম না। এখন লাইব্রেরী থেকে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী পড়ে অনেক কিছু জানতে পারছি। এমন উক্তি করলেন কারাবন্দী এক হাজতী । অপর এক কারাবন্দী বললেন, আগে আমাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে অনেক ভুল ধারণা ছিল। কিন্ত কারগারে এসে লাইব্রেরী থেকে বঙ্গবন্ধুর আত্ম জীবনী পড়ে সেই ভুল ভেঙ্গে গেছে। তিনি একজন মহামানব ছিলেন। তাঁর মত মহামানব এদেশে আর জন্ম নিবে কি না তা জানিনা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষনার মধ্য দিয়ে এদেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল। তাই আমরা শ্রদ্ধার সাথে যতদিন বেছে থাকবো ততদিন বঙ্গবন্ধুকে স্মরন করে যাব। কারাগারে লাইব্রেরী চালু না হলে আমরা তাঁর সম্পর্কে কিছুই জানতে পারতাম না। এজন্য কারা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের সুপার মোঃ জাকের হোসেন বলেন, তিনি কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে সুপার হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ইচ্ছা ছিল কারাগারে বন্দিদেরকে নিরক্ষর মুক্ত করা। সেই সাথে আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষায় গড়ে তোলা। তিনি তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে কারাগারে শিক্ষকের মাধ্যমে নিরক্ষর কারাবন্ধীদেরকে অক্ষর দান, বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রশিক্ষন, সর্ব শেষে কারাগারে লাইব্রেরী তৈরী করেছেন। উর্দ্ধতন কর্তপক্ষের সাহায্য সহযোগীতায় তিনি আজ সফল হয়েছেন। কারাগারে এখন আর কেই নিরক্ষর নেই। সবাই স্বাক্ষর করতে শিখেছেন। লেখাপড়া করতে পারছেন। কেউ আর টি সহি দেন না। পত্র-পত্রিকা পরে দেশ বিদেশের খবরসহ ধর্মীয় হাদিস কোরআন শিক্ষার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর আত্ম জীবনী জানতে পারছে। সেই সাথে হাজতী ও কয়েদীদের দেখতে আসা মা-বোনদের সন্তানদেরকে
বুকে দুগ্ধ পান করার জন্য একটি মাতৃদুগ্ধ সেবন কক্ষ তৈরী করে দিয়েছেন। সেখানে বসে দর্শনার্থী মা-বোনেরা তাদের শিশু সন্তানদেরকে শালীনতা বজায় রেখে বুকের দুগ্ধ সেবন করার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।
কুষ্টিয়া কারাগারে ৯’শ জন কারাবন্দী রয়েছেন। তারা এখন কারাগার থেকে শিক্ষা নিয়ে জামিন পেয়ে বাড়ী বসেই কর্মকরে খেতে পারছেন বলে জানালেন এক জামিনপ্রাপ্ত হাজতী জাহিদুল ইসলাম পিতা মৃত জহুরুল ইসলাম কুষ্টিয়া জানান, জেল সুপার মোঃ জাকের হোসেন যদি কারাগারের লাইব্রেরী না তৈরী করতেন তা হলে আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্ম জীবনী জানতে পারতাম না। আমরা কোন দিন বই পুস্তক পড়িনাই তাই জানিনা। কারাগারে বন্দী থেকে অনেক কিছু জানতে ও শিখতে পেরেছি যা আমাদের ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।

বিজনেস বাংলাদেশ / ইমরান মাসুদ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি, ডেঙ্গুমুক্ত নওগাঁ গড়ি; সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন

কারাবন্দীরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনীসহ দুর্লভ তথ্য জানতে পারছে

প্রকাশিত : ০২:১২:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০

শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনী জানার ও ধর্মীয় শিক্ষাসহ বিভিন্ন উপন্যাস পড়ে জ্ঞান অর্জন করতেই এবারই প্রথম চালু করা হয়েছে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে লাইব্রেরী। কারাগার কর্তপক্ষের নিয়ন্ত্রণে এই লাইব্রেরীতে চেয়ার টেবিলে বসে কারাবন্দীরা বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা গ্রহন করছে।
সকালে খাবার শেষে কারাবন্দীরা লাইব্রেরীতে যেয়ে বিভিন্ন লেখকের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী, বাল্যকাল, কিশোর, রাজনৈতিক জীবনে কারাবাস ও ঘটনাবহুল রানৈতিক জীবনের বিভিন্ন ঘটনা, রোজনামচা, আমার দেখা নয়াচীন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, স্মৃতিকথা রাজনৈতিক জীবনের দুর্লভ তথ্য জানতে পেরেছেন। তিনি বাংলাদেশের এক মহারাষ্ট্রনায়ক ছিলেন। যার জন্ম এ দেশে না হলে হয়তো বাংলাদেশ নামের একটি সুন্দর দেশ উপহার পাওয়া যেত না। বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে আগে আমরা অনেক কিছু জানতাম না। এখন লাইব্রেরী থেকে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী পড়ে অনেক কিছু জানতে পারছি। এমন উক্তি করলেন কারাবন্দী এক হাজতী । অপর এক কারাবন্দী বললেন, আগে আমাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে অনেক ভুল ধারণা ছিল। কিন্ত কারগারে এসে লাইব্রেরী থেকে বঙ্গবন্ধুর আত্ম জীবনী পড়ে সেই ভুল ভেঙ্গে গেছে। তিনি একজন মহামানব ছিলেন। তাঁর মত মহামানব এদেশে আর জন্ম নিবে কি না তা জানিনা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষনার মধ্য দিয়ে এদেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল। তাই আমরা শ্রদ্ধার সাথে যতদিন বেছে থাকবো ততদিন বঙ্গবন্ধুকে স্মরন করে যাব। কারাগারে লাইব্রেরী চালু না হলে আমরা তাঁর সম্পর্কে কিছুই জানতে পারতাম না। এজন্য কারা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের সুপার মোঃ জাকের হোসেন বলেন, তিনি কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে সুপার হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ইচ্ছা ছিল কারাগারে বন্দিদেরকে নিরক্ষর মুক্ত করা। সেই সাথে আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষায় গড়ে তোলা। তিনি তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে কারাগারে শিক্ষকের মাধ্যমে নিরক্ষর কারাবন্ধীদেরকে অক্ষর দান, বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রশিক্ষন, সর্ব শেষে কারাগারে লাইব্রেরী তৈরী করেছেন। উর্দ্ধতন কর্তপক্ষের সাহায্য সহযোগীতায় তিনি আজ সফল হয়েছেন। কারাগারে এখন আর কেই নিরক্ষর নেই। সবাই স্বাক্ষর করতে শিখেছেন। লেখাপড়া করতে পারছেন। কেউ আর টি সহি দেন না। পত্র-পত্রিকা পরে দেশ বিদেশের খবরসহ ধর্মীয় হাদিস কোরআন শিক্ষার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর আত্ম জীবনী জানতে পারছে। সেই সাথে হাজতী ও কয়েদীদের দেখতে আসা মা-বোনদের সন্তানদেরকে
বুকে দুগ্ধ পান করার জন্য একটি মাতৃদুগ্ধ সেবন কক্ষ তৈরী করে দিয়েছেন। সেখানে বসে দর্শনার্থী মা-বোনেরা তাদের শিশু সন্তানদেরকে শালীনতা বজায় রেখে বুকের দুগ্ধ সেবন করার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।
কুষ্টিয়া কারাগারে ৯’শ জন কারাবন্দী রয়েছেন। তারা এখন কারাগার থেকে শিক্ষা নিয়ে জামিন পেয়ে বাড়ী বসেই কর্মকরে খেতে পারছেন বলে জানালেন এক জামিনপ্রাপ্ত হাজতী জাহিদুল ইসলাম পিতা মৃত জহুরুল ইসলাম কুষ্টিয়া জানান, জেল সুপার মোঃ জাকের হোসেন যদি কারাগারের লাইব্রেরী না তৈরী করতেন তা হলে আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্ম জীবনী জানতে পারতাম না। আমরা কোন দিন বই পুস্তক পড়িনাই তাই জানিনা। কারাগারে বন্দী থেকে অনেক কিছু জানতে ও শিখতে পেরেছি যা আমাদের ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।

বিজনেস বাংলাদেশ / ইমরান মাসুদ