০৫:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬
প্রতিশ্রুতি মিলেছে অনেক,বাস্তবায়ন হয়নি একটিও

গজারিয়ার ইসমানিরচরে নদীভাঙন আতঙ্ক, বর্ষা এলেই দুশ্চিন্তায় শতাধিক পরিবার

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের ইসমানিরচর গ্রামে আবারও দেখা দিয়েছে ভয়াবহ নদীভাঙন। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই নদীর তীব্র স্রোত ও ঢেউয়ের আঘাতে ভাঙনের শিকার হয় গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা। নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা। ফলে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীতীরের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় অংশ ধসে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। অনেক পরিবার ঘর খুলে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কোথাও নদীর কিনারা থেকে মাত্র কয়েক ফুট দূরে রয়েছে বসতঘর। আবার কোথাও ভাঙনের মুখে রয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি, গ্রামীণ সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিবছর বর্ষা এলেই একই দুর্ভোগ নেমে আসে। নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না থাকায় মানুষ নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও বালুভর্তি বস্তা ফেলে কোনোভাবে ভিটেমাটি রক্ষার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রকৃতির কাছে সেই চেষ্টা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়ে যায়।

ভাঙনের শিকার ছোট পাঁচআনির মো.রুহুল আমিন বলেন, নদী আমার বাড়ির দুই-তৃতীয়াংশ নিয়ে গেছে। বাপ-দাদার ভিটা ছেড়ে অন্যত্র যেতে হয়েছিল। আবার ফিরে এসেছি, কিন্তু এবারও একই পরিস্থিতি। মনে হচ্ছে আবার সব হারাতে হবে।

ছায়া রাজবংশীর স্বামী মৃত কন্যা বিয়ে দিয়ে এখন একা থাকেন নদীর পাড়ের ঘরে।স্বামী-সন্তানহীন ছায়া রাজবংশী বলেন, আমার বাবার রেখে যাওয়া ঘরের অর্ধেক আগেই নদীতে চলে গেছে। এখন বাকি অংশটুকুও ঝুঁকিতে। কোথায় যাব, কীভাবে বাঁচবকিছুই বুঝতে পারছি না।

গ্রামবাসী আব্দুল হাফ্ফার নদীর পাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটি দেখিয়ে বলেন, কোনো সময় এটি নদীতে পড়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে প্রাণহানিও হতে পারে।

কৃষক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, গবাদিপশু ও গোয়ালঘর রক্ষা করতে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছি। পরিবার নিয়ে চরম মানসিক কষ্টে আছি।

স্থানীয় জেলে পরিবারগুলোর অভিযোগ, নদীই তাদের জীবন ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন। অথচ নদীই এখন তাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাঙনের কারণে বসতভিটা হারানোর পাশাপাশি অনেকে জীবিকাও হারানোর পথে।

গজারিয়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সামিউল আরাফিন বলেন, ইসমানিরচর ঘাট এলাকায় কিছু অংশে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। বাকি অংশে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। তবে নতুন প্রকল্পের বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই।

স্থানীয় যুবক তৌহিদ হাসান বলেন,এবার আমাদের আশার স্বপ্ন বাস্তব হতে পারে।আমাদের এমপি কামরুজ্জামান রতন সব সময় মানুষের কল্যানে কাজ করে গেছেন।আমরা আশাকরিতেই পারি গজারিয়ার সন্তান হিসেবে একটা স্থায়ী বাঁধ।তবে এটাও বাস্তব এখন আমাদের শেষ ভরসা আমাদের এমপি।এখন তার মুখের দিকেই তাকিয়ে আছি আমরা।আশাকরি অতি দ্রুত এমপি কামরুজ্জামান রতন আমাদের এখানে সরজমিনে আসবে এবং আমাদের জন্য বাঁধ নির্মাণের জন্য কাজ করবেন।

ডিএস/

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

মাদক, বালু উত্তোলন ও অপরাধে সম্পৃক্তরা মঞ্চে উঠবেন না: নাগরিক সমাবেশে এমপি হুশিয়ারি

প্রতিশ্রুতি মিলেছে অনেক,বাস্তবায়ন হয়নি একটিও

গজারিয়ার ইসমানিরচরে নদীভাঙন আতঙ্ক, বর্ষা এলেই দুশ্চিন্তায় শতাধিক পরিবার

প্রকাশিত : ০৪:২০:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের ইসমানিরচর গ্রামে আবারও দেখা দিয়েছে ভয়াবহ নদীভাঙন। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই নদীর তীব্র স্রোত ও ঢেউয়ের আঘাতে ভাঙনের শিকার হয় গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা। নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা। ফলে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীতীরের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় অংশ ধসে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। অনেক পরিবার ঘর খুলে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কোথাও নদীর কিনারা থেকে মাত্র কয়েক ফুট দূরে রয়েছে বসতঘর। আবার কোথাও ভাঙনের মুখে রয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি, গ্রামীণ সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিবছর বর্ষা এলেই একই দুর্ভোগ নেমে আসে। নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না থাকায় মানুষ নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও বালুভর্তি বস্তা ফেলে কোনোভাবে ভিটেমাটি রক্ষার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রকৃতির কাছে সেই চেষ্টা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়ে যায়।

ভাঙনের শিকার ছোট পাঁচআনির মো.রুহুল আমিন বলেন, নদী আমার বাড়ির দুই-তৃতীয়াংশ নিয়ে গেছে। বাপ-দাদার ভিটা ছেড়ে অন্যত্র যেতে হয়েছিল। আবার ফিরে এসেছি, কিন্তু এবারও একই পরিস্থিতি। মনে হচ্ছে আবার সব হারাতে হবে।

ছায়া রাজবংশীর স্বামী মৃত কন্যা বিয়ে দিয়ে এখন একা থাকেন নদীর পাড়ের ঘরে।স্বামী-সন্তানহীন ছায়া রাজবংশী বলেন, আমার বাবার রেখে যাওয়া ঘরের অর্ধেক আগেই নদীতে চলে গেছে। এখন বাকি অংশটুকুও ঝুঁকিতে। কোথায় যাব, কীভাবে বাঁচবকিছুই বুঝতে পারছি না।

গ্রামবাসী আব্দুল হাফ্ফার নদীর পাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটি দেখিয়ে বলেন, কোনো সময় এটি নদীতে পড়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে প্রাণহানিও হতে পারে।

কৃষক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, গবাদিপশু ও গোয়ালঘর রক্ষা করতে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছি। পরিবার নিয়ে চরম মানসিক কষ্টে আছি।

স্থানীয় জেলে পরিবারগুলোর অভিযোগ, নদীই তাদের জীবন ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন। অথচ নদীই এখন তাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাঙনের কারণে বসতভিটা হারানোর পাশাপাশি অনেকে জীবিকাও হারানোর পথে।

গজারিয়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সামিউল আরাফিন বলেন, ইসমানিরচর ঘাট এলাকায় কিছু অংশে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। বাকি অংশে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। তবে নতুন প্রকল্পের বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই।

স্থানীয় যুবক তৌহিদ হাসান বলেন,এবার আমাদের আশার স্বপ্ন বাস্তব হতে পারে।আমাদের এমপি কামরুজ্জামান রতন সব সময় মানুষের কল্যানে কাজ করে গেছেন।আমরা আশাকরিতেই পারি গজারিয়ার সন্তান হিসেবে একটা স্থায়ী বাঁধ।তবে এটাও বাস্তব এখন আমাদের শেষ ভরসা আমাদের এমপি।এখন তার মুখের দিকেই তাকিয়ে আছি আমরা।আশাকরি অতি দ্রুত এমপি কামরুজ্জামান রতন আমাদের এখানে সরজমিনে আসবে এবং আমাদের জন্য বাঁধ নির্মাণের জন্য কাজ করবেন।

ডিএস/