০৫:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬

মাদক, বালু উত্তোলন ও অপরাধে সম্পৃক্তরা মঞ্চে উঠবেন না: নাগরিক সমাবেশে এমপি হুশিয়ারি

পাবনার সুজানগরে মাদক, অবৈধ বালু উত্তোলন ও সন্ত্রাস বিরোধী এক বিশাল নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “মাদক, অবৈধ বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তারা কেউ এই মঞ্চে উঠবেন না। এই সমাবেশে তাদের কোনো জায়গা নেই।” তিনি আরও সতর্ক করেন যে, অপরাধীরা সমাবেশে উপস্থিত থাকলে যেকোনো সময় তাদের গ্রেফতার করা হতে পারে। সংসদ অধিবেশনের পর প্রকাশ্য সমাবেশে তাঁর এমন আপসহীন বক্তব্য স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি সেলিম রেজা হাবিব বলেন, “আজ ৫ জুলাই থেকেই সুজানগর ও বেড়া উপজেলায় চাঁদাবাজ, দখলবাজ এবং মাদক কারবারিদের শেষ দিন। এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আমরা কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি নই। অপরাধ দমনে ইতোমধ্যে এই অঞ্চলের প্রতিটি ইউনিয়নে চারটি করে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এলাকাভিত্তিক মাদকসেবী, মাদক বিক্রেতা, চাঁদাবাজ, দখলবাজ এবং সালিস বাণিজ্যের সাথে জড়িতদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যা দ্রুতই প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি সুশৃঙ্খল ও সমৃদ্ধ দেশ গঠনের ব্রত নিয়ে দেশে এসেছেন এবং সরকার পরিচালনা করছেন। এক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে মিলে তাঁকে সহযোগিতা করতে হবে উল্লেখ করে তিনি সমাজ গঠনে পরিবারের ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি শাসন ও নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষকদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে নৈতিক ও আদর্শিক শিক্ষা প্রদানের অনুরোধ করেন।

প্রশাসনের উদ্দেশ্যে সংসদ সদস্য বলেন, “মাদক ব্যবসায়ী বা যেকোনো অপরাধীর ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেবেন না। রাজনৈতিক নেতা বা যত ক্ষমতাশালী ব্যক্তিই সুপারিশ করুক না কেন, আপনারা আইনানুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেবেন।”

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, “মাদকের সাথে অন্যান্য অপরাধ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মাদকের বিস্তারের ফলেই এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও অস্ত্রবাজির মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পায়। এই সামাজিক ব্যাধি রোধে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।” তিনি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজ—সর্বত্র মাদকবিরোধী স্লোগান তোলার আহ্বান জানান এবং পুলিশকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তার অনুরোধ করেন। পুলিশ সুপার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জেলা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে।

জামিন ও শাস্তির বিষয়ে তিনি বলেন, “অনেক সময় অপরাধীরা গ্রেফতারের পর আদালত থেকে দ্রুত জামিনে এসে আবারও একই অপরাধে লিপ্ত হয়। এই জটিলতা নিরসনে আমরা বিজ্ঞ বিচারকদের সাথে বৈঠক করেছি। বর্তমানে দ্রুত বিচার পদ্ধতির মাধ্যমে মাদকসেবী ও অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হচ্ছে।”

সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, পাবনার জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) জয়েন্ট ডিরেক্টর তৌফিক ইকবাল, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মাহবুর রহমান সরকার, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শহিদুল মান্নাফ কবির, র‍্যাবের কোম্পানি কমান্ডার মো. ওয়াহিদুজ্জামান, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর রাশেদুজ্জামান, বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনাল্ট চাকমা সহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ।

সমাবেশে স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সকলে অঞ্চলটিকে অপরাধমুক্ত করার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। সমাবেশ শেষে মাদক ও অপরাধ বিরোধী একটি র‍্যালিও করা হয়।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

মাদক, বালু উত্তোলন ও অপরাধে সম্পৃক্তরা মঞ্চে উঠবেন না: নাগরিক সমাবেশে এমপি হুশিয়ারি

মাদক, বালু উত্তোলন ও অপরাধে সম্পৃক্তরা মঞ্চে উঠবেন না: নাগরিক সমাবেশে এমপি হুশিয়ারি

প্রকাশিত : ০৫:৩০:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

পাবনার সুজানগরে মাদক, অবৈধ বালু উত্তোলন ও সন্ত্রাস বিরোধী এক বিশাল নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “মাদক, অবৈধ বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তারা কেউ এই মঞ্চে উঠবেন না। এই সমাবেশে তাদের কোনো জায়গা নেই।” তিনি আরও সতর্ক করেন যে, অপরাধীরা সমাবেশে উপস্থিত থাকলে যেকোনো সময় তাদের গ্রেফতার করা হতে পারে। সংসদ অধিবেশনের পর প্রকাশ্য সমাবেশে তাঁর এমন আপসহীন বক্তব্য স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি সেলিম রেজা হাবিব বলেন, “আজ ৫ জুলাই থেকেই সুজানগর ও বেড়া উপজেলায় চাঁদাবাজ, দখলবাজ এবং মাদক কারবারিদের শেষ দিন। এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আমরা কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি নই। অপরাধ দমনে ইতোমধ্যে এই অঞ্চলের প্রতিটি ইউনিয়নে চারটি করে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এলাকাভিত্তিক মাদকসেবী, মাদক বিক্রেতা, চাঁদাবাজ, দখলবাজ এবং সালিস বাণিজ্যের সাথে জড়িতদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যা দ্রুতই প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি সুশৃঙ্খল ও সমৃদ্ধ দেশ গঠনের ব্রত নিয়ে দেশে এসেছেন এবং সরকার পরিচালনা করছেন। এক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে মিলে তাঁকে সহযোগিতা করতে হবে উল্লেখ করে তিনি সমাজ গঠনে পরিবারের ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি শাসন ও নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষকদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে নৈতিক ও আদর্শিক শিক্ষা প্রদানের অনুরোধ করেন।

প্রশাসনের উদ্দেশ্যে সংসদ সদস্য বলেন, “মাদক ব্যবসায়ী বা যেকোনো অপরাধীর ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেবেন না। রাজনৈতিক নেতা বা যত ক্ষমতাশালী ব্যক্তিই সুপারিশ করুক না কেন, আপনারা আইনানুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেবেন।”

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, “মাদকের সাথে অন্যান্য অপরাধ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মাদকের বিস্তারের ফলেই এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও অস্ত্রবাজির মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পায়। এই সামাজিক ব্যাধি রোধে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।” তিনি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজ—সর্বত্র মাদকবিরোধী স্লোগান তোলার আহ্বান জানান এবং পুলিশকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তার অনুরোধ করেন। পুলিশ সুপার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জেলা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে।

জামিন ও শাস্তির বিষয়ে তিনি বলেন, “অনেক সময় অপরাধীরা গ্রেফতারের পর আদালত থেকে দ্রুত জামিনে এসে আবারও একই অপরাধে লিপ্ত হয়। এই জটিলতা নিরসনে আমরা বিজ্ঞ বিচারকদের সাথে বৈঠক করেছি। বর্তমানে দ্রুত বিচার পদ্ধতির মাধ্যমে মাদকসেবী ও অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হচ্ছে।”

সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, পাবনার জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) জয়েন্ট ডিরেক্টর তৌফিক ইকবাল, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মাহবুর রহমান সরকার, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শহিদুল মান্নাফ কবির, র‍্যাবের কোম্পানি কমান্ডার মো. ওয়াহিদুজ্জামান, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর রাশেদুজ্জামান, বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনাল্ট চাকমা সহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ।

সমাবেশে স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সকলে অঞ্চলটিকে অপরাধমুক্ত করার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। সমাবেশ শেষে মাদক ও অপরাধ বিরোধী একটি র‍্যালিও করা হয়।

ডিএস./