১১:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

চা বাগানে বদলে যাচ্ছে তেঁতুলিয়ার দৃশ্যপট

দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের শেষ প্রান্ত হিমালয়ের পাদদেশ প্রকৃতির সবুজ সমারোহে বদলে যাচ্ছে তেঁতুলিয়ার দৃশ্যপট। বিংশ শতাব্দীর আগে অনেকেই তেঁতুলিয়ার অর্থনীতির প্রধান উৎস পাথর ও আখের জন্য বিখ্যাত বলে জানতো। কিন্তু বর্তমানে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার প্রকৃতির সম্ভারে চা-বাগানের সবুজ লীলা ভূমিতে বদলে গেছে দৃশ্যপট। তেঁতুলিয়া সদরের আনাচে-কানাচে ব্যাপকভাবে চা চাষে ঝুঁকেছে চাষীরা। চা চাষ হচ্ছে দু’ভাবে বৃহৎ ও ক্ষুদ্রাকারে। বৃহৎভাবে কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেট, ডাহুক টি এস্টেট, আগা ইন্ডাস্ট্রিজ এন্ড কমার্স লিঃ টিটিসিএল নামের কয়েকটি কোম্পানীসহ মালিকানাভাবে ৩নং তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী আনিছুর রহমান, ৫নং বুড়াবুড়ি ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা জামান রাজু, বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী ইয়াছিন আলী প্রমূখ চা বাগানে বদলে দিচ্ছে তেঁতুলিয়ার প্রকৃতি। সেই সাথে ক্ষুদ্রাকারে উৎপাদন করেছে প্রান্তিক চা চাষীরাও। ক্ষুদ্রাকারে উৎপাদিত চা বাগানও ফুটিয়ে তুলছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য। চা বাগান মালিকদের বিপুল সংখ্যক অর্থের যোগান দিচ্ছে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক। তেঁতুলিয়ার রওশনপুর, ডাহুক, লোহাকাচি সারিয়াল জ্যোত, শালবাহান. বুড়াবুড়ি এলাকা এখন চা বাগানে পরিপূর্ণ। যেদিকে চোখ যায় সেদিকে সবুজ কচি পাতায় ভরা চা বাগান অপরূপ সৌন্দর্যময় ভূমি। এখানকার উৎপাদিত চা সম্পূর্ণ আর্গানিক-যা হিমালয়, দার্জিলিং ও সিলেটের চা-এর চেয়ে উন্নত ও সুস্বাদু। তেঁতুলিয়ায় চা উৎপাদনের জন্য ইমপেরিয়াল টি ফ্যাক্টরী লিঃ, বাংলা টি ফ্যাক্টরী, ফাবিহা টি ফ্যাক্টরী চলমান রয়েছে তৈরি হচ্ছে আরও কয়েকটি। তেঁতুলিয়া সদর থেকে ৮ কি.মি দূরে পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের ধারেই এলজিইডি’র তত্তাবধান করা হয়েছে কমলা বাগান। এছাড়াও ঠুনঠুনিয়া গ্রামের হোসেন আলী সাইফুল প্রযুক্তি নার্সারী করে বসতবাড়ির একখন্ড জমিতে আঙ্গুর, কমলা, আপেলসহ নানা ধরনের ফুল ও ফলের বাগান তৈরি করে প্রাকৃতির সৌন্দর্য মেলায় নিজের নাম লিখেছেন। তেঁতুলিয়ার প্রায় বাড়িতে দু’একটি ফলন্ত আঙ্গুর ও কমলা গাছ রয়েছে। রওশনপুরে কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেট-এর নার্সারীতে প্রায় ২ হাজার অধিক বিভিন্ন প্রকার ফল-ফলাদি ও ওষুধি গাছের বিপুল সমারোহ রয়েছে। এদিকে সারিয়লা জ্যোত, কাজীপাড়া, দর্জিপাড়া ও কানকাটা এলাকায় দেশী আনারসের পাশাপাশি চাষীরা সিঙ্গাপুরী আনারস চাষও করছে। এছাড়াও কাজী ফার্মস গ্রæপ, অ্যাকুয়া ব্রিডার্স নামের কোম্পানি বাণিজ্যিকভাবে মুরগির ডিম ও বাচ্চা পালন করে লাভবান হচ্ছে এলাকায় বিক্রি করে। এ ফার্ম গুলো স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করলে মন ও নয়ন আনন্দে ভরে উঠে। এদিকে সার্কভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে অনায়াসে ব্যবসা বাণিজ্যের সুবিধার্থে ১৯৯৭ সালের ১লা সেপ্টেম্বর বাংলাবান্ধাকে স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০১৫ সালে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে ইমিগ্রেশন চালু হয়েছে। ফলে উত্তরাঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসারের পাশাপাশি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া বর্তমানে চা বাগানের সবুজের সমারোহ প্রকৃতির এক দৃশ্যপট।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশি চিকিৎসকের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: স্কোলিওসিস চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত।

চা বাগানে বদলে যাচ্ছে তেঁতুলিয়ার দৃশ্যপট

প্রকাশিত : ১০:০৫:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১

দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের শেষ প্রান্ত হিমালয়ের পাদদেশ প্রকৃতির সবুজ সমারোহে বদলে যাচ্ছে তেঁতুলিয়ার দৃশ্যপট। বিংশ শতাব্দীর আগে অনেকেই তেঁতুলিয়ার অর্থনীতির প্রধান উৎস পাথর ও আখের জন্য বিখ্যাত বলে জানতো। কিন্তু বর্তমানে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার প্রকৃতির সম্ভারে চা-বাগানের সবুজ লীলা ভূমিতে বদলে গেছে দৃশ্যপট। তেঁতুলিয়া সদরের আনাচে-কানাচে ব্যাপকভাবে চা চাষে ঝুঁকেছে চাষীরা। চা চাষ হচ্ছে দু’ভাবে বৃহৎ ও ক্ষুদ্রাকারে। বৃহৎভাবে কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেট, ডাহুক টি এস্টেট, আগা ইন্ডাস্ট্রিজ এন্ড কমার্স লিঃ টিটিসিএল নামের কয়েকটি কোম্পানীসহ মালিকানাভাবে ৩নং তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী আনিছুর রহমান, ৫নং বুড়াবুড়ি ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা জামান রাজু, বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী ইয়াছিন আলী প্রমূখ চা বাগানে বদলে দিচ্ছে তেঁতুলিয়ার প্রকৃতি। সেই সাথে ক্ষুদ্রাকারে উৎপাদন করেছে প্রান্তিক চা চাষীরাও। ক্ষুদ্রাকারে উৎপাদিত চা বাগানও ফুটিয়ে তুলছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য। চা বাগান মালিকদের বিপুল সংখ্যক অর্থের যোগান দিচ্ছে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক। তেঁতুলিয়ার রওশনপুর, ডাহুক, লোহাকাচি সারিয়াল জ্যোত, শালবাহান. বুড়াবুড়ি এলাকা এখন চা বাগানে পরিপূর্ণ। যেদিকে চোখ যায় সেদিকে সবুজ কচি পাতায় ভরা চা বাগান অপরূপ সৌন্দর্যময় ভূমি। এখানকার উৎপাদিত চা সম্পূর্ণ আর্গানিক-যা হিমালয়, দার্জিলিং ও সিলেটের চা-এর চেয়ে উন্নত ও সুস্বাদু। তেঁতুলিয়ায় চা উৎপাদনের জন্য ইমপেরিয়াল টি ফ্যাক্টরী লিঃ, বাংলা টি ফ্যাক্টরী, ফাবিহা টি ফ্যাক্টরী চলমান রয়েছে তৈরি হচ্ছে আরও কয়েকটি। তেঁতুলিয়া সদর থেকে ৮ কি.মি দূরে পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের ধারেই এলজিইডি’র তত্তাবধান করা হয়েছে কমলা বাগান। এছাড়াও ঠুনঠুনিয়া গ্রামের হোসেন আলী সাইফুল প্রযুক্তি নার্সারী করে বসতবাড়ির একখন্ড জমিতে আঙ্গুর, কমলা, আপেলসহ নানা ধরনের ফুল ও ফলের বাগান তৈরি করে প্রাকৃতির সৌন্দর্য মেলায় নিজের নাম লিখেছেন। তেঁতুলিয়ার প্রায় বাড়িতে দু’একটি ফলন্ত আঙ্গুর ও কমলা গাছ রয়েছে। রওশনপুরে কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেট-এর নার্সারীতে প্রায় ২ হাজার অধিক বিভিন্ন প্রকার ফল-ফলাদি ও ওষুধি গাছের বিপুল সমারোহ রয়েছে। এদিকে সারিয়লা জ্যোত, কাজীপাড়া, দর্জিপাড়া ও কানকাটা এলাকায় দেশী আনারসের পাশাপাশি চাষীরা সিঙ্গাপুরী আনারস চাষও করছে। এছাড়াও কাজী ফার্মস গ্রæপ, অ্যাকুয়া ব্রিডার্স নামের কোম্পানি বাণিজ্যিকভাবে মুরগির ডিম ও বাচ্চা পালন করে লাভবান হচ্ছে এলাকায় বিক্রি করে। এ ফার্ম গুলো স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করলে মন ও নয়ন আনন্দে ভরে উঠে। এদিকে সার্কভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে অনায়াসে ব্যবসা বাণিজ্যের সুবিধার্থে ১৯৯৭ সালের ১লা সেপ্টেম্বর বাংলাবান্ধাকে স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০১৫ সালে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে ইমিগ্রেশন চালু হয়েছে। ফলে উত্তরাঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসারের পাশাপাশি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া বর্তমানে চা বাগানের সবুজের সমারোহ প্রকৃতির এক দৃশ্যপট।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর