১০:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

পারষ্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থায় আরো গতিশীলতা আসবে–মোঃ রবিউল আলম,সিএমএম

নাছির উদ্দীন চৌধুরী ঃচট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের উদ্যোগে ১১ জুন শনিবার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সম্মেলন কক্ষে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসী কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।
চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ রবিউল আলম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মুহাম্মদ আবদুল হালিম, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) বেগম তাহমিনা আফরোজ চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) বেগম মনীষা মহাজন, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বেগম মেহ্নাজ রহমান, জনাব জুয়েল দেব, জনাব সারোয়ার জাহান, জনাব কাজী শারীফুল ইসলাম, জনাব মোঃ সাদ্দাম হোসেন, এবং জনাব মোঃ অলি উল্লাহ্।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি জনাব আবু মোহাম্মদ হাশেম, সাধারণ সম্পাদক জনাব এ, এইচ, এম জিয়া উদ্দিন। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডিসি (দক্ষিণ জোন) জনাব মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, এডিসি (প্রসিকিউশন) জনাব মোঃ কামরুল হাসান, এসি ডিবি (উত্তর) জনাব মোঃ কামরুল হাসান, এসি (প্রসিকিউশন) জনাব ওয়াহিদ উল্লাহ্ সহ মহানগরীর সকল থানার অফিসার ইন-চার্জ। কনফারেন্সে পিবিআই (চট্টগ্রাম মেট্রো)-এর পক্ষে পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা, র্যাব-৭ এর পক্ষে স্কোয়াড কমান্ডার সিনিয়র এএসপি জনাব আনোয়ার এবং সিআইডির পক্ষে পুলিশ পরিদর্শক জনাব এ এম ফারুক উপস্থিত ছিলেন।

কনফারেন্সে আরো উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র জেল সুপার জনাব মোঃ গিয়াস উদ্দিন, চমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক জনাব ডাঃ আবদুল মন্নান, ফরেনসিক মেডিসিনের প্রভাষক জনাব ডাঃ চিন্ময় বড়ুয়া, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (মেট্রো) উপ-পরিচালক জনাব মুকুল জ্যোতি চাকমা এবং প্রবেশন অফিসার জনাব পারুমা বেগম। কনফারেন্সের শুরুতে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ রবিউল আলম বিগত সভার সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরে চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন মামলাসমূহের সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়া দ্রæত সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে বিভিন্ন ধরনের দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তার বক্তব্যে বলেন, বিপুল পরিমান সমন জারী হচ্ছে না, তিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রসেসসমূহ ০১ মাসের মধ্যে জারী করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা প্রদান করেন। তদন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার প্রতি সচেতন হতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি দ্রæত ও দক্ষতার সাথে প্রতিবেদন দাখিলের পাশাপাশি মামলার বাদী উপস্থাপন নিশ্চিত করে তাদের নিরাপত্তা বিধান করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে কার্যকর ভূমিকা পালনের বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করেন।কনফারেন্সে উপস্থিত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহ্নাজ রহমান গ্রেফতারকৃত আসামীকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতে উপস্থাপনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা পুলিশ কর্মকর্তাদের-কে স্মরণ করিয়ে দেন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা গ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন অনুসরণের প্রতি জোর দেন।

অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মুহাম্মদ আবদুল হালিম পুলিশ রিপোটের সাথে অবশ্যই ফৌজদারী কার্য বিধির ১৬১ ধারায় গৃহীত সাক্ষীর সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করে রিপোর্টের সাথে দাখিল করার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা দেন। উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) জনাব মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জনাব মুকুল জ্যোতি চাকমা এ ধরণের কনফারেন্স আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়। নিয়মিত কর্মশালা আয়োজনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দ্রæততা ও দক্ষতার সাথে আইনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত কাজ সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিল, যথাসময়ে মামলার সাক্ষী উপস্থাপন নিশ্চিত করে তাদের নিরাপত্তা বিধান করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে কার্যকর ভূমিকা পালনের অনুরোধ করেন।

কনফারেন্সে উপস্থিত ম্যাজিস্ট্রেটগণ মামলার সাথে জব্দতালিকা প্রেরণ, খসড়া মানচিত্রে ঘটনাস্থল সুনির্দিষ্টকরণ, সাক্ষীর ১৬১ ধারার জবানবন্দি লিপিবদ্ধের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন, সাক্ষীর ওয়ারেন্টের প্রতিবেদন প্রেরণের উপর জোর দেন। এ সময় ম্যাজিস্ট্রেটগণ যথাসময়ে সাক্ষী উপস্থাপনে পুলিশ বিভাগ ও স্বাস্থ্য বিভাগের ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে সাক্ষীর উপস্থিতি পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং মামলা নিষ্পত্তির হার বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষতঃ পুরাতন মামলা অধিক হারে নিষ্পত্তি হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। এছাড়াও বক্তাগণ দ্রুত গ্রেফতারী পরোয়ানা তামিল ও সমন জারীর ব্যবস্থা গ্রহণ, তদন্ত কার্যে বিদ্যমান সমস্যা সমাধান, তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার, হয়রানী বন্ধ, পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট ও ডাক্তারি সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে সর্তকতা অবলম্বন, নকলখানা হতে স্বল্পতম সময়ে নকল সরবরাহের ব্যবস্থা করা, মামলার আলামত সংরক্ষণ ও সঠিক নিয়মে নিষ্পত্তি, মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি ও নিষ্পত্তিকৃত নথি দ্রুত রেকর্ডরুমে প্রেরণ, আদালত ও বিচার সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ সহ নানাবিধ বিষয়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামতসমূহ কনফারেন্সে তুলে ধরেন। সঠিক ধারায় মামলা রুজু এবং তদন্তের ক্ষেত্রে আরো যত্নবান হওয়ার জন্য বলেন আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক।

বিভিন্ন থানা থেকে আগত থানার অফিসার ইনচার্জসহ অন্যান্য উপস্থিতি কর্র্তৃক উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যার আইনী সমাধান, প্রশ্নোত্তর প্রদান এবং পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করে সমাপনী বক্তব্যে চীফ মেটোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট জনাব মোঃ রবিউল আলম বলেন, যে সকল আসামির পূর্বের মামলা নেই এবং কোন গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত নয় তাদের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটগণকে দ্য প্রবেশন অব অফেন্ডারস এ্যাক্ট, ১৯৬০ এর বিধানাবলী অনুসরণ করার নির্দেশ দেন। তিনি আরো বলেন, ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থায় বিচার প্রশাসন, নির্বাহী প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ একে অপরের পরিপূরক। মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তরিকতা ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে একযোগে ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে বিচার প্রার্থী মানুষের কল্যাণে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে।

এক্ষেত্রে কারও অবহেলা কাম্য নয়। নারীর অধিকার, কারাবন্দিদের অধিকার সর্বোপরি মানবাধিকার সমুন্নত রেখে বিচারপ্রার্থী জনগণের কাঙ্খিত ন্যায় বিচার দ্রুততম সময়ে নিশ্চিতকরণ ও আইনের শাসন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও সহযোগিতা বৃদ্ধির উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। কনফারেন্সে আগত সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে পারষ্পারিক তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে ও বিদ্যমান সমস্যাসমূহ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করলে কাজের মুল্যায়ন হয় এবং পারষ্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পায়। সামনের দিনগুলোতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর পারষ্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থায় আরো গতিশীলতা আসবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করে আগত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে কনফারেন্সের সমাপ্তি ঘোষণা করেন চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ রবিউল আলম ।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শহিদনগর এম. এ জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতিকে ফুলেল সংবর্ধনা

পারষ্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থায় আরো গতিশীলতা আসবে–মোঃ রবিউল আলম,সিএমএম

প্রকাশিত : ০৬:৫৭:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুন ২০২২

নাছির উদ্দীন চৌধুরী ঃচট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের উদ্যোগে ১১ জুন শনিবার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সম্মেলন কক্ষে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসী কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।
চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ রবিউল আলম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মুহাম্মদ আবদুল হালিম, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) বেগম তাহমিনা আফরোজ চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) বেগম মনীষা মহাজন, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বেগম মেহ্নাজ রহমান, জনাব জুয়েল দেব, জনাব সারোয়ার জাহান, জনাব কাজী শারীফুল ইসলাম, জনাব মোঃ সাদ্দাম হোসেন, এবং জনাব মোঃ অলি উল্লাহ্।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি জনাব আবু মোহাম্মদ হাশেম, সাধারণ সম্পাদক জনাব এ, এইচ, এম জিয়া উদ্দিন। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডিসি (দক্ষিণ জোন) জনাব মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, এডিসি (প্রসিকিউশন) জনাব মোঃ কামরুল হাসান, এসি ডিবি (উত্তর) জনাব মোঃ কামরুল হাসান, এসি (প্রসিকিউশন) জনাব ওয়াহিদ উল্লাহ্ সহ মহানগরীর সকল থানার অফিসার ইন-চার্জ। কনফারেন্সে পিবিআই (চট্টগ্রাম মেট্রো)-এর পক্ষে পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা, র্যাব-৭ এর পক্ষে স্কোয়াড কমান্ডার সিনিয়র এএসপি জনাব আনোয়ার এবং সিআইডির পক্ষে পুলিশ পরিদর্শক জনাব এ এম ফারুক উপস্থিত ছিলেন।

কনফারেন্সে আরো উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র জেল সুপার জনাব মোঃ গিয়াস উদ্দিন, চমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক জনাব ডাঃ আবদুল মন্নান, ফরেনসিক মেডিসিনের প্রভাষক জনাব ডাঃ চিন্ময় বড়ুয়া, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (মেট্রো) উপ-পরিচালক জনাব মুকুল জ্যোতি চাকমা এবং প্রবেশন অফিসার জনাব পারুমা বেগম। কনফারেন্সের শুরুতে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ রবিউল আলম বিগত সভার সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরে চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন মামলাসমূহের সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়া দ্রæত সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে বিভিন্ন ধরনের দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তার বক্তব্যে বলেন, বিপুল পরিমান সমন জারী হচ্ছে না, তিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রসেসসমূহ ০১ মাসের মধ্যে জারী করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা প্রদান করেন। তদন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার প্রতি সচেতন হতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি দ্রæত ও দক্ষতার সাথে প্রতিবেদন দাখিলের পাশাপাশি মামলার বাদী উপস্থাপন নিশ্চিত করে তাদের নিরাপত্তা বিধান করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে কার্যকর ভূমিকা পালনের বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করেন।কনফারেন্সে উপস্থিত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহ্নাজ রহমান গ্রেফতারকৃত আসামীকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতে উপস্থাপনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা পুলিশ কর্মকর্তাদের-কে স্মরণ করিয়ে দেন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা গ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন অনুসরণের প্রতি জোর দেন।

অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মুহাম্মদ আবদুল হালিম পুলিশ রিপোটের সাথে অবশ্যই ফৌজদারী কার্য বিধির ১৬১ ধারায় গৃহীত সাক্ষীর সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করে রিপোর্টের সাথে দাখিল করার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা দেন। উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) জনাব মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জনাব মুকুল জ্যোতি চাকমা এ ধরণের কনফারেন্স আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়। নিয়মিত কর্মশালা আয়োজনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দ্রæততা ও দক্ষতার সাথে আইনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত কাজ সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিল, যথাসময়ে মামলার সাক্ষী উপস্থাপন নিশ্চিত করে তাদের নিরাপত্তা বিধান করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে কার্যকর ভূমিকা পালনের অনুরোধ করেন।

কনফারেন্সে উপস্থিত ম্যাজিস্ট্রেটগণ মামলার সাথে জব্দতালিকা প্রেরণ, খসড়া মানচিত্রে ঘটনাস্থল সুনির্দিষ্টকরণ, সাক্ষীর ১৬১ ধারার জবানবন্দি লিপিবদ্ধের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন, সাক্ষীর ওয়ারেন্টের প্রতিবেদন প্রেরণের উপর জোর দেন। এ সময় ম্যাজিস্ট্রেটগণ যথাসময়ে সাক্ষী উপস্থাপনে পুলিশ বিভাগ ও স্বাস্থ্য বিভাগের ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে সাক্ষীর উপস্থিতি পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং মামলা নিষ্পত্তির হার বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষতঃ পুরাতন মামলা অধিক হারে নিষ্পত্তি হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। এছাড়াও বক্তাগণ দ্রুত গ্রেফতারী পরোয়ানা তামিল ও সমন জারীর ব্যবস্থা গ্রহণ, তদন্ত কার্যে বিদ্যমান সমস্যা সমাধান, তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার, হয়রানী বন্ধ, পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট ও ডাক্তারি সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে সর্তকতা অবলম্বন, নকলখানা হতে স্বল্পতম সময়ে নকল সরবরাহের ব্যবস্থা করা, মামলার আলামত সংরক্ষণ ও সঠিক নিয়মে নিষ্পত্তি, মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি ও নিষ্পত্তিকৃত নথি দ্রুত রেকর্ডরুমে প্রেরণ, আদালত ও বিচার সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ সহ নানাবিধ বিষয়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামতসমূহ কনফারেন্সে তুলে ধরেন। সঠিক ধারায় মামলা রুজু এবং তদন্তের ক্ষেত্রে আরো যত্নবান হওয়ার জন্য বলেন আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক।

বিভিন্ন থানা থেকে আগত থানার অফিসার ইনচার্জসহ অন্যান্য উপস্থিতি কর্র্তৃক উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যার আইনী সমাধান, প্রশ্নোত্তর প্রদান এবং পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করে সমাপনী বক্তব্যে চীফ মেটোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট জনাব মোঃ রবিউল আলম বলেন, যে সকল আসামির পূর্বের মামলা নেই এবং কোন গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত নয় তাদের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটগণকে দ্য প্রবেশন অব অফেন্ডারস এ্যাক্ট, ১৯৬০ এর বিধানাবলী অনুসরণ করার নির্দেশ দেন। তিনি আরো বলেন, ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থায় বিচার প্রশাসন, নির্বাহী প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ একে অপরের পরিপূরক। মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তরিকতা ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে একযোগে ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে বিচার প্রার্থী মানুষের কল্যাণে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে।

এক্ষেত্রে কারও অবহেলা কাম্য নয়। নারীর অধিকার, কারাবন্দিদের অধিকার সর্বোপরি মানবাধিকার সমুন্নত রেখে বিচারপ্রার্থী জনগণের কাঙ্খিত ন্যায় বিচার দ্রুততম সময়ে নিশ্চিতকরণ ও আইনের শাসন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও সহযোগিতা বৃদ্ধির উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। কনফারেন্সে আগত সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে পারষ্পারিক তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে ও বিদ্যমান সমস্যাসমূহ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করলে কাজের মুল্যায়ন হয় এবং পারষ্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পায়। সামনের দিনগুলোতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর পারষ্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থায় আরো গতিশীলতা আসবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করে আগত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে কনফারেন্সের সমাপ্তি ঘোষণা করেন চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ রবিউল আলম ।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ