রাজধানীসহ সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সাত মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত এসব বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় র্যাব ও পুলিশের ১৪ সদস্য আহত হন। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে কামরুল নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার বিজি প্রেস হাইস্কুল মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার (এসআই) মো. মিজানুর রহমান জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কামরুল ইসলামকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে এলে রাত পৌনে ২টার দিকে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারি পরিচালক এএসপি মিজানুর রহমান জানান, নিহত কামরুল ইসলাম তেজগাঁও রেল লাইন বস্তি এবং মহাখালী সাততলা বস্তি এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। তার নামে বিভিন্ন থানায় ১৫টির বেশি মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র-গুলি ও বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া দুই পক্ষের গুলি বিনিময়কালে র্যাবের দুই সদস্য আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে কুমিল্লায় থানা ও ডিবি পুলিশের মাদকবিরোধী যৌথ অভিযানে কামাল হোসেন ওরফে ফেন্সি কামাল (৫১) নামে তালিকাভুক্ত এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে কুমিল্লা-ব্রাহ্মণপাড়া সড়কের বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের মহিষমারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে ৫০ কেজি গাঁজা ও একটি পাইপগান উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযানে ডিবির এসআই নন্দন চন্দ্র সরকার, এএসআই সাহাবুল হোসেন ও কনস্টেবল সুমন মিয়া আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে হানিফ ও ইলিয়াস নামের দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। নিহত ওই মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বুড়িচং ও কোতয়ালি মডেল থানায় ১২টির অধিক মাদকের মামলা রয়েছে।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌর এলাকার আড়পাড়া নামক স্থানে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শামীম সরদার (৪৫) নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি, ৫০০ পিস ইয়াবা ও ১৭ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শামীমের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় নয়টি মাদক মামলা রয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, রাতে মাদক উদ্ধারে উপজেলার পৌর এলাকার আড়পাড়া নামক স্থানে অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি ছোড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। পরে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে গেলে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শামীম সরদারকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কক্সবাজারের মহেশখালীর পাহাড়ি এলাকা বড় মহেশখালীর মুন্সির ডেইল পাহাড়তলী গ্রামে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মোস্তাক আহমদ (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ত্রিমুখী গোলাগুলি হওয়ায় কার গুলিতে মোস্তাক মারা গেছেন তা নিশ্চিত না হলেও পুলিশের দাবি দু’গ্রুপের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ই মোস্তাক নিহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে এক হাজার পিস ইয়াবা, সাত রাউন্ড কার্তুজসহ চারটি থ্রি কোয়ার্টার বন্দুক জব্দ করেছে। মোস্তাকের বিরুদ্ধে দুটি অস্ত্র মামলা, একটি পুলিশ অ্যাসল্ট ও আরেকটি মাদক মামলা রয়েছে।
মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, রাত ১০টার দিকে বড় মহেশখালীর মুন্সির ডেইল পাহাড়তলী এলাকায় গোলাগুলির সংবাদ পেয়ে থানার এএসআই সঞ্জীব দত্ত, জুয়েলসহ বেশ কজন অফিসার ও সঙ্গীয় ফোর্স অভিযানে যায়। এসময় দুর্বৃত্তরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়ে।
নেত্রকোণা সদরের মদনপুর ইউনিয়নের মনাং এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ অজ্ঞাত পরিচয়ের দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ সময় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে ওই ইউনিয়নের মনাং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে ৭০৫ গ্রাম হেরোইন, ৩ হাজার পাঁচ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও দুইটি পাইপগান উদ্ধার করে পুলিশ।
মডেল থানার ওসি মো. বোরহান উদ্দিন খান জানান, মাদক কেনাবেচা হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে ওই এলাকায় পুলিশের একটি টিম অভিযানে যায়। উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি ছুড়লে পুলিশের দুই কর্মকর্তা ও এক পুলিশ সদস্য আহত হন। এ সময় দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হন।
এছাড়া শেরপুরে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ ওরফে কালু ডাকাত পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তিন পুলিশ সদস্য আহত হন।




















