১১:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

গাজীপুরের রেললাইনে নাশকতায় জড়িত সন্দেহে কাউন্সিলরসহ গ্রেপ্তার ৭

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বনখরিয়া এলাকায় রেললাইন কেটে ট্রেনে নাশকতার ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রবিবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ মাহবুব আলম প্রেস ব্রিফিং করে এসব তথ্য জানানো হয়।

আটককৃতরা হলেন নেত্রকোনার মদন থানার বারই বাজার এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে আন্নাতুল ইসলাম (২৩), ময়মনসিংহের ভালুকা থানার বান্দীয়া এলাকার তাইজুদ্দীনের ছেলে মেহেদী হাসান (২৫), গাজীপুর মেট্টোপলিটনের সদর থানার রাজাবাড়ী উত্তরপাড়া এলাকার মৃত বিল্লাল হোসেন ভুইয়ার ছেলে মোঃ হাসান আজমল ভূইয়া (৫০), একই থানার ভানোয়া এলাকার তারিকুল ইসলাম দিপুর ছেলে জুলকার নাইন আশরাফি ও হৃদয় (৩৫), একই থানার উত্তর ছায়াথিথি এলাকার মৃত সোলায়মান মোড়লের ছেলে শাহানুর আলম (৫৩), একই থানার কানাইয়া পূর্বপাড়া এলাকার মৃত ওমেদ আলী মোল্লার ছেলে

মোঃ সাইদুল ইসলাম (৩২) ও একই থানার মধ্য ছায়াবিধি এলাকার আফতাফ উদ্দিনের ছেলে সোহেল রানা (৩৮)।

পুলিশ কমিশনার মোঃ মাহবুব আলম আরো জানান, গত ১৩ ডিসেম্বর ভোরে একদল দুষ্কৃতিকারী শ্রীপুর উপজেলার বনখরিয়া এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রেললাইন কেটে ফেলে। এরপর ঢাকাগামী মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনসহ ৭টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলেই একজন মারা যায় এবং কমপক্ষে ১০জন আহত হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে দুষ্কৃতিকারী দলের জান্নাতুল ইসলাম ও মেহেদী হাসানকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানায় কোনাবাড়ী এলাকা থেকে ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পরে ঢাকা যাওয়ার কথা বলে

একটি হায়েস গাড়ী ভাড়া করে। ওই গাড়ী নিয়ে ঢাকা যাওয়ার কথা থাকলেও তারা ঢাকায় না গিয়ে গাজীপুরের বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করতে থাকে। সকলেই মুখোশ পরা অবস্থায় ছিলো। এ অবস্থায় ড্রাইভার ভয় পেয়ে তাদের ঢাকায় না যাওয়া এবং মুখোশ পরার কারণ জিজ্ঞেস করলে তাদের মধ্যে একজন মুখোশ খোলে ড্রাইভারকে তার চেহারা দেখায়। তারপর ড্রাইভার তাকে চিনতে পেরে আর কিছু বলে না। উক্ত ভাড়াকৃত গাড়ী নিয়ে তারা রেল লাইন কেটে নাশকতা ঘটানোর উদ্দেশ্যে বের হয়। পথিমধ্যে তারা শিববাড়ী, জোড় পুকুরপাড় সহ আরো বিভিন্ন স্থান থেকে বেশ কয়েকজনকে গাড়ীতে উঠায়।

একপর্যায়ে তারা গাজীপুর সদর থানাধীন জোড় পুকুরপাড়স্থ ইবনে সিনহা তোহার বাড়ি থেকে রেল লাইন কাটার যন্ত্রপাতি এবং দক্ষিণ সালনা, উসমান গণির ভাড়া দেওয়া “বাশ বাগান” রেস্টুেরেন্ট থেকে দুইটি গ্যাস সিলিন্ডার গাড়িতে উঠায়। এরপর তারা গাজীপুর শহরে ঘোরাঘুরি করে আনুমানিক রাত ৩ ঘটিকার পরে বনখরিয়া এলাকায় ঘটনাস্থল থেকে ৪-৫ কিলোমিটার দূরত্বে বনের পাশে গাড়ী রেখে পায়ে হেঁটে তারা গ্যাস সিলিন্ডারসহ সরঞ্জমাদী নিয়ে বনখরিয়া চিনাই রেল ব্রীজের পাশে যায়। সেখানে গিয়ে তারা তারা ২০ ফুট রেললাইন কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। পরে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি বাইনচ্যুত হয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। আটককৃতরা সকলেই বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন- গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোঃ শফিকুল ইসলাম, গাজীপুরের পুলিশ সুপার কাজী শফিকুল আলম, রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ার হোসেন, গাজীপুর পিবিআই পুলিশ সুপার মাকছুদের রহমান, গাজীপুর মেট্রোপলিটনের উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ ইব্রাহিম খান ও আবু তোরাব মোঃ শামসুর রহমান প্রমুখ।

বিজনেস বাংলাদেশ/এমএইচটি

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

গাজীপুরের রেললাইনে নাশকতায় জড়িত সন্দেহে কাউন্সিলরসহ গ্রেপ্তার ৭

প্রকাশিত : ০৬:৫৪:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বনখরিয়া এলাকায় রেললাইন কেটে ট্রেনে নাশকতার ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রবিবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ মাহবুব আলম প্রেস ব্রিফিং করে এসব তথ্য জানানো হয়।

আটককৃতরা হলেন নেত্রকোনার মদন থানার বারই বাজার এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে আন্নাতুল ইসলাম (২৩), ময়মনসিংহের ভালুকা থানার বান্দীয়া এলাকার তাইজুদ্দীনের ছেলে মেহেদী হাসান (২৫), গাজীপুর মেট্টোপলিটনের সদর থানার রাজাবাড়ী উত্তরপাড়া এলাকার মৃত বিল্লাল হোসেন ভুইয়ার ছেলে মোঃ হাসান আজমল ভূইয়া (৫০), একই থানার ভানোয়া এলাকার তারিকুল ইসলাম দিপুর ছেলে জুলকার নাইন আশরাফি ও হৃদয় (৩৫), একই থানার উত্তর ছায়াথিথি এলাকার মৃত সোলায়মান মোড়লের ছেলে শাহানুর আলম (৫৩), একই থানার কানাইয়া পূর্বপাড়া এলাকার মৃত ওমেদ আলী মোল্লার ছেলে

মোঃ সাইদুল ইসলাম (৩২) ও একই থানার মধ্য ছায়াবিধি এলাকার আফতাফ উদ্দিনের ছেলে সোহেল রানা (৩৮)।

পুলিশ কমিশনার মোঃ মাহবুব আলম আরো জানান, গত ১৩ ডিসেম্বর ভোরে একদল দুষ্কৃতিকারী শ্রীপুর উপজেলার বনখরিয়া এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রেললাইন কেটে ফেলে। এরপর ঢাকাগামী মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনসহ ৭টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলেই একজন মারা যায় এবং কমপক্ষে ১০জন আহত হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে দুষ্কৃতিকারী দলের জান্নাতুল ইসলাম ও মেহেদী হাসানকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানায় কোনাবাড়ী এলাকা থেকে ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পরে ঢাকা যাওয়ার কথা বলে

একটি হায়েস গাড়ী ভাড়া করে। ওই গাড়ী নিয়ে ঢাকা যাওয়ার কথা থাকলেও তারা ঢাকায় না গিয়ে গাজীপুরের বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করতে থাকে। সকলেই মুখোশ পরা অবস্থায় ছিলো। এ অবস্থায় ড্রাইভার ভয় পেয়ে তাদের ঢাকায় না যাওয়া এবং মুখোশ পরার কারণ জিজ্ঞেস করলে তাদের মধ্যে একজন মুখোশ খোলে ড্রাইভারকে তার চেহারা দেখায়। তারপর ড্রাইভার তাকে চিনতে পেরে আর কিছু বলে না। উক্ত ভাড়াকৃত গাড়ী নিয়ে তারা রেল লাইন কেটে নাশকতা ঘটানোর উদ্দেশ্যে বের হয়। পথিমধ্যে তারা শিববাড়ী, জোড় পুকুরপাড় সহ আরো বিভিন্ন স্থান থেকে বেশ কয়েকজনকে গাড়ীতে উঠায়।

একপর্যায়ে তারা গাজীপুর সদর থানাধীন জোড় পুকুরপাড়স্থ ইবনে সিনহা তোহার বাড়ি থেকে রেল লাইন কাটার যন্ত্রপাতি এবং দক্ষিণ সালনা, উসমান গণির ভাড়া দেওয়া “বাশ বাগান” রেস্টুেরেন্ট থেকে দুইটি গ্যাস সিলিন্ডার গাড়িতে উঠায়। এরপর তারা গাজীপুর শহরে ঘোরাঘুরি করে আনুমানিক রাত ৩ ঘটিকার পরে বনখরিয়া এলাকায় ঘটনাস্থল থেকে ৪-৫ কিলোমিটার দূরত্বে বনের পাশে গাড়ী রেখে পায়ে হেঁটে তারা গ্যাস সিলিন্ডারসহ সরঞ্জমাদী নিয়ে বনখরিয়া চিনাই রেল ব্রীজের পাশে যায়। সেখানে গিয়ে তারা তারা ২০ ফুট রেললাইন কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। পরে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি বাইনচ্যুত হয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। আটককৃতরা সকলেই বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন- গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোঃ শফিকুল ইসলাম, গাজীপুরের পুলিশ সুপার কাজী শফিকুল আলম, রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ার হোসেন, গাজীপুর পিবিআই পুলিশ সুপার মাকছুদের রহমান, গাজীপুর মেট্রোপলিটনের উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ ইব্রাহিম খান ও আবু তোরাব মোঃ শামসুর রহমান প্রমুখ।

বিজনেস বাংলাদেশ/এমএইচটি