০৮:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
মেহেদী হাসান, গাজীপুর

শ্রমিকদের বিক্ষোভ অবরোধে উত্তাল গাজীপুর

গাজীপুরের টঙ্গী, পূবাইল, সদর ও শ্রীপুর উপজেলায় বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা। এ সময় কারখানায় ভাঙচুর, মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন দাবি জানানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশ-২ এর পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম ২৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিকদের আন্দোলন শুরু হয়। দুপুরের পর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। ১৩ দফা দাবিতে পুবাইল ও টঙ্গী থানায় চার পোশাক কারখানার শ্রমিকরা আন্দোলন করেছেন। টঙ্গীর গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেইজ লিমিটেড ও ব্রাভো অ্যাপারেলসের প্রায় তিন হাজার শ্রমিককে কর্মবিরতি পালন করতে দেখা গেছে। সকাল ৯টা থেকে তারা টঙ্গী পূর্ব থানা বিসিক শিল্প এলাকায় আন্দোলন করেছেন। সাথে এমট্রানেট গ্রুপ লিমিটেড নামে কারখানার শ্রমিকরা আন্দোলন করতে থাকেন। এ সময় তাদের সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেন পিনাকি গ্রুপ, ড্রেস ম্যান ও নোমান গ্রুপের শ্রমিকরা। পরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শ্রমিকও অংশ নেন। দুপুর আড়াইটার দিকে কারখানা কর্তৃপক্ষ, পুলিশ আন্দোলনকারী শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের দাবি মেনে নেন।
শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়ার পর এমট্রানেট গ্রুপের মানবসম্পদ কর্মকর্তা সুজন, লাকি, সফিউল্লাহ, সুমন, পিএম মো. রানা, রফিক, সুপারভাইজার মুসা, নিলুফা, শান্তা, পিএম ফরিদ ও ওয়াহিদের পদত্যাগের দাবিতে বিকেল ৩টার পর থেকে আবারও আন্দোলনে নামেন শ্রমিকরা।
টঙ্গীর এমট্রানেট গ্রুপের শ্রমিক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের দাবিগুলো কয়েক বছর যাবৎ মৌখিক ও লিখিতভাবে উপস্থাপন করে আসছি। আজ মঙ্গলবার সকালে আমরা পাঁচটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা একত্রে মিলে আমাদের দাবিগুলো নিয়ে আন্দোলন করছি।
অপরদিকে, মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরের শ্রীপুরের গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ী এলাকার মেঘনা গ্রুপের হাই ফ্যাশন কারখানার শ্রমিকরা ১৪ দফা দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। এ সময় পার্শ্ববর্তী হাউ আর ইউ টেক্সটাইল লিমিটেডের শ্রমিকদের বের করে আনতে গেলে হামলার শিকার হন হাই ফ্যাশনের শ্রমিকরা। এতে উত্তেজিত শ্রমিকরা হাউ আর ইউ টেক্সটাইলে ঢুকে ভাঙচুর চালায়।
এদিকে, জেলার জয়দেবপুর থানার নতুন বাজার এলাকার এসএম নিটওয়্যার লিমিটেডের শ্রমিকরা মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় কারখানায় প্রবেশ করে হাজিরা বোনাস বৃদ্ধিসহ ১০ দফা দাবিতে কর্মবিরতির ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে অ্যাসরোটেক্স লিমিটেডের শ্রমিকরা দুপুর ১২টার দিকে কারখানার প্রধান গেটে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হলে এসএম নিটওয়্যার ও অ্যাসরোটেক্স লিমিটেডের শ্রমিকরা এ্যাপারেলস্-২১ লি. ও গ্রিন ফাইবার কম্পোজিট লিমিটেড কারখানার গেটে গেলে কারখানা কর্তৃপক্ষ ওই দুটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেন। পরে দুপুর ১টার দিকে শ্রমিকরা যার যার অবস্থান থেকে সরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এছাড়াও গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিক ও জনতা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে একটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে স্থানীয় ষ্টারলিংক কারখানার শিরিনসহ দুই শ্রমিক নিহতের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শ্রমিক ও জনতা ঘাতক ট্রাকটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। মহাসড়ক অবরোধের ফলে সড়কে দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সড়ক দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সড়ানোর চেষ্টা করে।
শ্রমিকদের দাবি মাঝে মধ্যে এখানে সড়ক দুঘটনায় শ্রমিকসহ পথচারীরা নিহত হয়।
স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার দুপুর দুইটার দিকে উপজেলার হরিনহাটি এলাকায় ষ্টারলিংক কারখানার শ্রমিকরা দুপুরের খাবার খেতে বাসায় যাচ্ছিল। কারখানার নিরাপত্তা কর্মীরা শ্রমিকদের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক পার করে দিচ্ছিল। এ সময় দ্রুত গতির একটি ট্রাক নিরাপত্তাকর্মীদের সিগনাল অমান্য করে সড়ক পার হতে থাকা শ্রমিকদের ওপর দিয়ে উঠিয়ে দেয়। এত কারখানার শিরিন নামের এক শ্রমিকসহ দুই জন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক কারখানার শ্রমিক ও জনতা ঘাতক ট্রাকটি আটকিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
দর্ঘিদিন ধরে এখানে একটি ফুটওভার ব্রিজ দাবি করে আসলেও তা করা হচ্ছে না। দ্রুত এখানে একটি দ্রুত ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবি করেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিক ও জনতা।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশ-২ এর পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম বলেন, মঙ্গলবার বিভিন্ন দাবিতে আবারও শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। সকাল থেকে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা নানা দাবি নিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে ২৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার পর দুপুরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী, বিজিবির সঙ্গে মিলে পুলিশ কাজ করছে।
ট্যাগ :
জনপ্রিয়

নারায়ণগঞ্জে চারটিতে ধানের শীষ এবং একটিতে শাপলা কলি বিজয়ী

মেহেদী হাসান, গাজীপুর

শ্রমিকদের বিক্ষোভ অবরোধে উত্তাল গাজীপুর

প্রকাশিত : ০৮:২২:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪
গাজীপুরের টঙ্গী, পূবাইল, সদর ও শ্রীপুর উপজেলায় বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা। এ সময় কারখানায় ভাঙচুর, মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন দাবি জানানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশ-২ এর পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম ২৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিকদের আন্দোলন শুরু হয়। দুপুরের পর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। ১৩ দফা দাবিতে পুবাইল ও টঙ্গী থানায় চার পোশাক কারখানার শ্রমিকরা আন্দোলন করেছেন। টঙ্গীর গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেইজ লিমিটেড ও ব্রাভো অ্যাপারেলসের প্রায় তিন হাজার শ্রমিককে কর্মবিরতি পালন করতে দেখা গেছে। সকাল ৯টা থেকে তারা টঙ্গী পূর্ব থানা বিসিক শিল্প এলাকায় আন্দোলন করেছেন। সাথে এমট্রানেট গ্রুপ লিমিটেড নামে কারখানার শ্রমিকরা আন্দোলন করতে থাকেন। এ সময় তাদের সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেন পিনাকি গ্রুপ, ড্রেস ম্যান ও নোমান গ্রুপের শ্রমিকরা। পরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শ্রমিকও অংশ নেন। দুপুর আড়াইটার দিকে কারখানা কর্তৃপক্ষ, পুলিশ আন্দোলনকারী শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের দাবি মেনে নেন।
শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়ার পর এমট্রানেট গ্রুপের মানবসম্পদ কর্মকর্তা সুজন, লাকি, সফিউল্লাহ, সুমন, পিএম মো. রানা, রফিক, সুপারভাইজার মুসা, নিলুফা, শান্তা, পিএম ফরিদ ও ওয়াহিদের পদত্যাগের দাবিতে বিকেল ৩টার পর থেকে আবারও আন্দোলনে নামেন শ্রমিকরা।
টঙ্গীর এমট্রানেট গ্রুপের শ্রমিক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের দাবিগুলো কয়েক বছর যাবৎ মৌখিক ও লিখিতভাবে উপস্থাপন করে আসছি। আজ মঙ্গলবার সকালে আমরা পাঁচটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা একত্রে মিলে আমাদের দাবিগুলো নিয়ে আন্দোলন করছি।
অপরদিকে, মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরের শ্রীপুরের গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ী এলাকার মেঘনা গ্রুপের হাই ফ্যাশন কারখানার শ্রমিকরা ১৪ দফা দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। এ সময় পার্শ্ববর্তী হাউ আর ইউ টেক্সটাইল লিমিটেডের শ্রমিকদের বের করে আনতে গেলে হামলার শিকার হন হাই ফ্যাশনের শ্রমিকরা। এতে উত্তেজিত শ্রমিকরা হাউ আর ইউ টেক্সটাইলে ঢুকে ভাঙচুর চালায়।
এদিকে, জেলার জয়দেবপুর থানার নতুন বাজার এলাকার এসএম নিটওয়্যার লিমিটেডের শ্রমিকরা মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় কারখানায় প্রবেশ করে হাজিরা বোনাস বৃদ্ধিসহ ১০ দফা দাবিতে কর্মবিরতির ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে অ্যাসরোটেক্স লিমিটেডের শ্রমিকরা দুপুর ১২টার দিকে কারখানার প্রধান গেটে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হলে এসএম নিটওয়্যার ও অ্যাসরোটেক্স লিমিটেডের শ্রমিকরা এ্যাপারেলস্-২১ লি. ও গ্রিন ফাইবার কম্পোজিট লিমিটেড কারখানার গেটে গেলে কারখানা কর্তৃপক্ষ ওই দুটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেন। পরে দুপুর ১টার দিকে শ্রমিকরা যার যার অবস্থান থেকে সরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এছাড়াও গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিক ও জনতা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে একটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে স্থানীয় ষ্টারলিংক কারখানার শিরিনসহ দুই শ্রমিক নিহতের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শ্রমিক ও জনতা ঘাতক ট্রাকটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। মহাসড়ক অবরোধের ফলে সড়কে দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সড়ক দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সড়ানোর চেষ্টা করে।
শ্রমিকদের দাবি মাঝে মধ্যে এখানে সড়ক দুঘটনায় শ্রমিকসহ পথচারীরা নিহত হয়।
স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার দুপুর দুইটার দিকে উপজেলার হরিনহাটি এলাকায় ষ্টারলিংক কারখানার শ্রমিকরা দুপুরের খাবার খেতে বাসায় যাচ্ছিল। কারখানার নিরাপত্তা কর্মীরা শ্রমিকদের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক পার করে দিচ্ছিল। এ সময় দ্রুত গতির একটি ট্রাক নিরাপত্তাকর্মীদের সিগনাল অমান্য করে সড়ক পার হতে থাকা শ্রমিকদের ওপর দিয়ে উঠিয়ে দেয়। এত কারখানার শিরিন নামের এক শ্রমিকসহ দুই জন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক কারখানার শ্রমিক ও জনতা ঘাতক ট্রাকটি আটকিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
দর্ঘিদিন ধরে এখানে একটি ফুটওভার ব্রিজ দাবি করে আসলেও তা করা হচ্ছে না। দ্রুত এখানে একটি দ্রুত ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবি করেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিক ও জনতা।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশ-২ এর পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম বলেন, মঙ্গলবার বিভিন্ন দাবিতে আবারও শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। সকাল থেকে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা নানা দাবি নিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে ২৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার পর দুপুরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী, বিজিবির সঙ্গে মিলে পুলিশ কাজ করছে।