শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নের পাইকুড়া বাজার এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক পরিবারের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারী-পুরুষসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন পাইকুড়া এলাকার আব্দুর রশিদের স্ত্রী জরিনা বেগম, তার ছেলে রুবেল মিয়া, একই এলাকার শাহজামালের স্ত্রী জয়নব বেগম, আব্দুল কাইয়ুমের স্ত্রী নুরজাহান এবং আমির উদ্দিনের স্ত্রী রহিমা বেগম।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, একই এলাকার প্রতিবেশী রুস্তম আলী দীর্ঘদিন ধরে তাদের স্বত্বদলীয় জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে বিরোধ চলাকালে সহিংসতা এড়াতে তারা সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/১১৭ ধারায় একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার নোটিশ পাওয়ার পর অভিযুক্তদের সঙ্গে বিরোধ আরও তীব্র হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৬ জানুয়ারি অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে টিনের বেড়া কুপিয়ে ভাঙচুর করে। পাশাপাশি বাড়ির সামনে রাখা প্রায় ১০ হাজার ইট নিয়ে যায় এবং প্রায় ৫০ শতাংশ ফসলি জমির ভুট্টা গাছ কেটে ফেলে। এতে পরিবারের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়। ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী আব্দুল কাইয়ুম জানান, এ ঘটনায় ঝিনাইগাতী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। তবে দুই সপ্তাহ পার হলেও এখনো মামলা রেকর্ড হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, অভিযুক্তরা প্রথমে মীমাংসার আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রুস্তম আলী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কয়েক কোটি টাকা মূল্যের সরকারি খাসজমি ও ইউনিয়ন পরিষদের মালিকানাধীন রেকর্ডিয় জমি দখল করে রেখেছেন। বর্তমানে তারা জমি বেদখল ও জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন। দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অভিযুক্ত মো. রুস্তম আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। বারবার তার সাথে সাক্ষাত করতে গেলেও দেখা না করায় একাধিকবার মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম বলেন, “আমি এখানে নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে জানাতে পারবো। অভিযোগ দেওয়া হয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”






















