দিনদিন রফতানি খাতে অর্থ পাচারের আশঙ্কা বাড়ছে। এই আশঙ্কার মুল কারণ ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে পণ্য রফতানি। এছাড়া ঋণের নামেও দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে। এসব সুস্পষ্ট অপরাধ হলেও কোনো বিচার হচ্ছে না।
রবিবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) অডিটোরিয়ামে ‘ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনস ইন আরএমজি বাই ব্যাংকস : রিস্কস অ্যান্ড মিটিগেশন টেকনিকস’ শীর্ষক গবেষণা কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. শাহ মো. আহসান হাবীব। গবেষণা দলে ছিলেন বিজিএমইএ পরিচালক মনির হোসেন, বিআইবিএমের সহকারী অধ্যাপক অন্তরা জেরীন, বিআইবিএমের সহকারী অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদুর রহমান, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট এটিএম নেসারুল হক, বিকেএমইএর সহ-যুগ্ম সম্পাদক ফারুক হোসেন প্রমুখ।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, তৈরি পোশাক খাতের অর্থায়নে ব্যাংক ও ব্যবসায়ীদের সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। ৬৬ শতাংশ ব্যাংকারের ধারণা পোশাক খাতের অর্থায়নে বড় বাধা বিলম্ব রফতানি। আবার ৫৩ শতাংশ ব্যাংকার মনে করেন রফতানিকারকরা সঠিক কাগজপত্র উপস্থাপন না করায় অর্থায়নে জটিলতা তৈরি হয়।
ড. শাহ মো. আহসান হাবীব বলেন, ব্যাংকের বৈদেশিক বাণিজ্য সেবার মান আগের চেয়ে ভালো। তবে পুরোপুরি কমপ্লায়েন্স মানার বিষয়টি বিশ্বব্যাপী উদ্বিগ্নের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তৈরি পোশাক খাতের ওপর।
এজন্য সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি নিয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। মূল প্রবন্ধে তৈরি পোশাক খাতের ঝুঁকির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা বলেন, ব্যাংক খাতের রফতানিকেন্দ্রিক জালিয়াতি কমাতে ব্যাংকারদের প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে বিজিএমইএর মতো বিআইবিএমেও নতুন কোর্স চালুর সুযোগ রয়েছে। এটি বৈদেশিক বাণিজ্যে জালিয়াতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পোশাক খাতের রফতানি সংক্রান্ত প্রক্রিয়া পুরোপুরি অটোমেশন হলে দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যাবে। ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যাংকারদের আরও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। আবার গ্রাহকদেরও সচেতন করতে হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিতে পারে।
অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, বৈদেশিক বাণিজ্যে ঝুঁকি কমাতে সরকারের পক্ষ থেকে নীতিগত সহায়তা দিতে হবে। পোশাক রফতানিতে ব্যাংকের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির জায়গা সাব-কন্ট্রাক্ট। ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাব-কন্ট্রাক্টের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
অধ্যাপক ইয়াছিন আলী বলেন, দেশ থেকে ঋণের নামে অর্থপাচার বড় অপরাধ। ব্যাংক কর্মকর্তারা জেনেও অনেক ক্ষেত্রে কিছুই করতে পারেন না। তবে একটি ঘটনা ফাঁস হলে তখন অন্য ঘটনাগুলো সামনে চলে আসে।
সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, আমদানি-রফতানি প্রক্রিয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যাংকের নজরদারি বাড়াতে হবে। তবেই কোনো অসঙ্গতি থাকলে তা দূর করা সম্ভব হবে।
মেহমুদ হোসেন বলেন, বৈদেশিক বাণিজ্য ঝুঁকিমুক্ত করতে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। প্রয়োজনে দেশে এবং বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। রফতানিকারকদেরও নিজস্ব দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে হবে।
ফজলে শামীম এহসান বলেন, নানা কারণে ৬৫ শতাংশ রফতানি নির্দিষ্ট সময়ে করা সম্ভব হয় না। এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ পোশাক খাতে দক্ষ শ্রমিক সংকট রয়েছে।
আহমেদ শাহীন বলেন, পোশাক খাতের বাণিজ্য অনেকটা বিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল। নিয়ম-কানুনের মধ্যে থেকে সবকিছু করা সম্ভব হয় না। তবে জেনে-বুঝে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এতে সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএম মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী। বক্তব্য দেন বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা, পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলি, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) চেয়ারম্যান এবং ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, এনআরবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহমুদ হোসেন, বিকেএমইএ দ্বিতীয় সহসভাপতি ফজলে শামীম এহসান, ইস্টার্ন ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ শাহীন প্রমুখ।
























