ঢাকা রাত ৮:৫১, শুক্রবার, ১২ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ববিতার আক্ষেপ: প্রধানমন্ত্রী জানতেই পারলেন না সুচন্দা কী বলতে চেয়েছিল

আমার বড়বোন এবার লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট পাচ্ছে, আমিও অপেক্ষায় ছিলাম যে অনুষ্ঠানে যাবো। কিন্তু আমাকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোই হলো না। আমি বলছি না যে ভুল হতে পারে না। ভুল হতেই পারে, কিন্তু আমি ৭-০ টির বেশি দেশি বিদেশি পুরস্কার পেয়েছি। ৮ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছি। আর আমি যদি আমন্ত্রণ না পাই তাহলে নিশ্চই এরকম ভুল আরো হয়েছে। এটা কি দুঃখজনক নয়? কথাগুলো বলতে গিয়ে শেষ বাক্যে দুঃখ মিশিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন ববিতা।

আজ রবিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৯ দেওয়া হয়। এবারের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নেন। এ আয়োজনে সোহেল রানা স্বশরীরে হাজির হয়ে সম্মাননা পদক গ্রহণ করলেও হাজির হাতে পারেননি জহির রায়হানের সহধর্মিনী অভিনেত্রী সুচন্দা। তবে তার পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন মেয়ে।

ববিতা বলেন, গতবার আমাকে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট দেওয়া হয় আমাকে। এবার যখন আমার বোনের নাম ঘোষণা করা হয় তখন আমি আনন্দিত হয়েছিলাম। যদিও আমি মনে করি আমার বড় বোনের এটা আরো আগেই পাওয়া উচিৎ ছিল। যাই হোক। আমি এবার যেতে চেয়েছিলাম। আমার বড়বোন কহিনূর আক্তার সুচন্দার হঠাৎ করে ওপেন হার্ট সার্জারি করার কারণে তিনি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারছিলেন না। কিন্তু দুঃখের বিষয় তার যে অনুভূতি সেটাও পড়া হলো না পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে। প্রধানমন্ত্রী জানতেই পারলেন না সুচন্দা কী বলতে চেয়েছিল।

চলচ্চিত্র শিল্পীদের রাষ্ট্রীয় এ স্বকৃতির এ আসরটি প্রায় প্রতি বছরই জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পদক গ্রহণ করে শিল্পীরা হন ধন্য। কাজের স্বীকৃতি নিয়ে নতুন উদ্যমে কাজে ফেরেন। চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য এ আসরে চলচ্চিত্রের দুই মহারথীকে জানানো হয় আজীবন সম্মাননা। গতবারের আয়োজনে নায়ক ফারুক ও ববিতাকে আজীবন সম্মাননা দেয়া হয়।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নায়িকা ববিতা বলেন, আমাদের একদম নিচের পর্যায়ে যাদের দায়িত্ব দেয়া হয়, তারা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব না পালন ক্লরেন তাহলে সেটার প্রভাব সবখানেই পড়ে। আমার বোন উপস্থিত হতে পারছেন না বলে তার অনুভূতি লিখে পাঠানো হয়েছিল। বলা হয়েছিল এটা মঞ্চে পড়ে শোনানো হবে। কিন্তু সেটা হয়নি। প্রথমবার যখন লিখে পাঠানো হয় তখন বলা হয়েছিল বক্তব্যকে সংক্ষিপ্ত করার। সেটা করা হয়েছিল। সেন্সর বোর্ডে পাঠাতে বলা হয়েছিল, পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা পড়াই হলো না। প্রধানমন্ত্রী জানতে পারলেন না আমার বোনের অনুভূতি।

কোহিনূর আক্তার সুচন্দা (১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭) যশোরে জন্ম নেয়া বাংলাদেশি চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও পরিচালক। তিনি ১৯৬০-এর দশকে অভিনয় জীবন শুরু করেন। তার ছোট বোন ববিতা ও চম্পা ঢালিউডের দুই অভিনেত্রী। ১৯৬৭ সালে বেহুলায় অভিনয় করার সময় চিত্র পরিচালক জহির রায়হানের সাথে তাঁর ভাব বিনিময় হয় এবং ১৯৬৮ সালে তাকে বিয়ে করেন। জহির রায়হান ১৯৭২ সালের ৩০শে জানুয়ারি বড় ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারকে খোঁজ করতে গিয়ে নিখোঁজ হন। তাঁদের দুই ছেলে ছিল, আরাফাত রায়হান ও অপু রায়হান। ১৯৭৬ সালে সুচন্দা ব্যবসায়ী এম. রেজাউল মালিককে বিয়ে করেন। তাদের দুই মেয়ে রয়েছে, রাফাইয়াৎ মালিক ও রাফাইয়া মালিক।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

এ বিভাগের আরও সংবাদ