১১:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের পদ্মার চরে বাদাম চাষে সাফল্য

পদ্মার চরে চিনা বাদাম চাষ করে সফলতা পেয়েছেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের চাষীরা। পদ্মার বিস্তীর্ণ চরে চাষ করা এসব বাদাম এখন ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। অর্থকরী এ ফসল চাষ করে সংসারের স্বচ্ছলতাও ফিরেছে চাষীদের। তবে হঠাৎ করে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক চাষীর বাদাম পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়া জেলায় প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে বাদামের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে দৌলতপুরের ৮৮০ হেক্টর জমি রয়েছে । এক সময় পদ্মা নদীতে জেগে ওঠা বালুচর পড়ে থাকতো, কোনো কাজে ব্যবহার করা হতো না। ফলে চরগুলো চাষীদের কোন কাজেই আসতো না। এখন জেগে ওঠা পদ্মার চরে চিনা বাদাম চাষে সাফল্য আসায় এ অর্থকরী ফসলের চাষ পুরো চর এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।

দেখা গেছে, বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে মাত্র ৫-৬ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় বাদাম হয়েছে ৫-৭ মন। আর বিক্রয় হচ্ছে ২ হাজার- ২২ শ’ টাকা মন দরে। তবে হঠাৎ করে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে অনেক চাষীর বাদাম পানিতে ভেসে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তারা।

দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়রে কোলদিয়াড় গ্রামের বাদাম চাষী উজ্বল হোসেন জানান, তিনি এবছর চরের ৫ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেন। বাদামের ফলনও ভাল হয়েছে। কিন্তু পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে তার অনেক বাদাম ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যায়। রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মুন্সিগঞ্জ গ্রামর বাদাম চাষী আব্দুল জব্বার জানান, এবছর চরের ৭ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। বিঘা প্রতি ৫ হাজার টাকা খরচ করে প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ৬ মন হারে বাদাম পেয়েছেন।

বাদাম চাষীদের প্রশিক্ষণ ও সরকারী প্রণোদনার পাশাপাশি চরাঞ্চলের বাদাম চাষীদের বাদাম চাষে সার্বিক সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন দৌলতপুর কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নুরুল ইসলাম। তিনি জানান, চরাঞ্চলের যেসব জমি অনাবাদি পড়ে থাকে সেসব জমি অর্থকরী ফসল বাদাম চাষের আওতায় আনা গেলে চরবাসীদের সারাবছরের আর্থিক চাহিদা পুরণ হবে এবং দেশে বাদামের চাহিদা মিটবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

 

ট্যাগ :

ফাঁকিকৃত ৫৩২ কোটি টাকার আয়কর আদায় করলো আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের পদ্মার চরে বাদাম চাষে সাফল্য

প্রকাশিত : ০৪:৫০:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১

পদ্মার চরে চিনা বাদাম চাষ করে সফলতা পেয়েছেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের চাষীরা। পদ্মার বিস্তীর্ণ চরে চাষ করা এসব বাদাম এখন ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। অর্থকরী এ ফসল চাষ করে সংসারের স্বচ্ছলতাও ফিরেছে চাষীদের। তবে হঠাৎ করে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক চাষীর বাদাম পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়া জেলায় প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে বাদামের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে দৌলতপুরের ৮৮০ হেক্টর জমি রয়েছে । এক সময় পদ্মা নদীতে জেগে ওঠা বালুচর পড়ে থাকতো, কোনো কাজে ব্যবহার করা হতো না। ফলে চরগুলো চাষীদের কোন কাজেই আসতো না। এখন জেগে ওঠা পদ্মার চরে চিনা বাদাম চাষে সাফল্য আসায় এ অর্থকরী ফসলের চাষ পুরো চর এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।

দেখা গেছে, বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে মাত্র ৫-৬ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় বাদাম হয়েছে ৫-৭ মন। আর বিক্রয় হচ্ছে ২ হাজার- ২২ শ’ টাকা মন দরে। তবে হঠাৎ করে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে অনেক চাষীর বাদাম পানিতে ভেসে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তারা।

দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়রে কোলদিয়াড় গ্রামের বাদাম চাষী উজ্বল হোসেন জানান, তিনি এবছর চরের ৫ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেন। বাদামের ফলনও ভাল হয়েছে। কিন্তু পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে তার অনেক বাদাম ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যায়। রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মুন্সিগঞ্জ গ্রামর বাদাম চাষী আব্দুল জব্বার জানান, এবছর চরের ৭ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। বিঘা প্রতি ৫ হাজার টাকা খরচ করে প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ৬ মন হারে বাদাম পেয়েছেন।

বাদাম চাষীদের প্রশিক্ষণ ও সরকারী প্রণোদনার পাশাপাশি চরাঞ্চলের বাদাম চাষীদের বাদাম চাষে সার্বিক সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন দৌলতপুর কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নুরুল ইসলাম। তিনি জানান, চরাঞ্চলের যেসব জমি অনাবাদি পড়ে থাকে সেসব জমি অর্থকরী ফসল বাদাম চাষের আওতায় আনা গেলে চরবাসীদের সারাবছরের আর্থিক চাহিদা পুরণ হবে এবং দেশে বাদামের চাহিদা মিটবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর