০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

কলাপাড়ায় সৌদি খেজুরের বাগান করে সফল উদ্যেক্তা ২ ভাই

কলাপাড়ায় ২ ভাইয়ের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় গড়ে তুললো সৌদি খেজুরের বাগান। ২ ভাই মো: মোজাহিদুল ইসলাম রুবেল আর বড় ভাই মো: মহিউদ্দিন মিলনের অক্লান্ত চেষ্টায় কলাপাড়া পৌর শহর সংলগ্ন টিয়াখালী ইউনিয়ন এলাকায় প্রায় ২৭ শতক জায়গায় তৈরি করেছেন সৌদি আরবের খেজুরের বাগান। এ বাগানে রয়েছে আজুয়া, মরিয়ম, সাফাই, তিউনিশিয়া, পাইরুম, আনবরা, ডাব্বাস, মাদজুল, সুকাই এ ৯ প্রকারের খেজুরের গাছ। ২০১৮ সালের জুন-জুলাই মাসে ৫৫টি খেজুর গাছের চারা দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে এ বাগানে রয়েছে ৯৬টি সৌদি খেজুরের গাছ।

স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটানা ১২ বছর ছোট ভাই প্রবাসে সেমকোব মেরিনে এসিস্টান্ট ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন সিঙ্গাপুরে। এরপর দেশে ফিরে এসে কিছু করার চিন্তা থেকেই ২০১৭ সনের এপ্রিল মাসে সিঙ্গাপুর থেকে ২ কেজি মরিয়ম জাতের খেজুর কিনেন, সেই খেজুরের বীজ থেকে কলাপাড়া পৌরশহরের বাড়ির ছাদে পলিব্যাগে চারা তৈরি করেন। এ পলিব্যাগের চারা দিয়ে গড়েছেন খেজুরের বাগান। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে ৯ প্রকারের বিদেশি খেজুরের গাছ। ইতোমধ্যে পঁচিশটি গাছে এসেছে বাঁধা।

দর্শনার্থী ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আরেফীন এ প্রতিনিধিকে বলেন, দক্ষিণ অঞ্চলের নোনা পানিতে সৌদি খেজুরের বাগান করে বাস্তবে রূপদান করা এটা আসলে অসম্ভবকে সম্ভব করা এক দু:সাধ্য কাজ। এ বাগানের অনেক গাছে ফলন এসেছে। যা আমাদের এলাকায় মুচি বলে। এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকরা তাদের পিতার জমিতে এরকম বাগান করতে পারে। খেজুরের গাছে ফুল ধরেছে এটা দেখতে ও নিজ বাড়িতে লাগানোর জন্য চারা নিতে এসেছি।

উদ্যোক্তার বড় ভাই মো: মহিউদ্দিন মিলন এ প্রতিবেদককে জানান, প্রথমে তেরটা কাঁধি করছি, কাঁধির মাঝখানে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করি। প্রথম অবস্থায় এ কাঁধিতে ৫৫টি চারা রোপন করেছি। বর্তমানে চারার বয়স চার বছর। অনেক গাছে ফুল এসেছে।

প্রধান উদ্যোক্তা মো: মোজাহিদুল ইসলাম রুবেল এ প্রতিনিধিকে বলেন, শুরুটা বলতে গেলে ২০১৪ সনে আমার মাথায় পরিকল্পনা আসে। আমি সিঙ্গাপুর থেকে বীজ সংরক্ষণ করি। গাছটি সব মাটিতে হবে, তবে এর জন্য আলাদা পরিচর্যা করতে হবে। এর প্রধানত: রোগ হলো ছত্রাক। মাত্র চার বছর খেজুরের বাগানে পানি, গাছ পরিস্কার ও বালাই নাশক ব্যবহারের ফলে সঠিক সময়ে খেজুর গাছে ফুল এসেছে।

উদ্যোক্তার পিতা মো: সুলতান নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, এলাকার লোকজন এ বাগান দেখতে আসে। ছেলেদেরকে উৎসাহ দেয়। তিনি বলেন, ওরা এ বাগান দিয়ে সফলকাম হলে এলাকায় অনেক উদ্যোক্তা বাড়বে।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ. আর. এম. সাইফুল্লাহ গনমাধ্যমকে বলেন, বাগানে প্রায় ছিয়ানব্বইটি সৌদি খেজুরের গাছ রয়েছে। ২৫টি গাছে ফল আসা শুরু করেছে। বাগান পরিদর্শন করে কৃষক ভাইদের যত প্রকার সহযোগিতা দরকার সেটা কৃষি বিভাগ থেকে করা হবে বলে তিনি জানান।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কলাপাড়ায় সৌদি খেজুরের বাগান করে সফল উদ্যেক্তা ২ ভাই

প্রকাশিত : ০৬:৩৭:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২২

কলাপাড়ায় ২ ভাইয়ের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় গড়ে তুললো সৌদি খেজুরের বাগান। ২ ভাই মো: মোজাহিদুল ইসলাম রুবেল আর বড় ভাই মো: মহিউদ্দিন মিলনের অক্লান্ত চেষ্টায় কলাপাড়া পৌর শহর সংলগ্ন টিয়াখালী ইউনিয়ন এলাকায় প্রায় ২৭ শতক জায়গায় তৈরি করেছেন সৌদি আরবের খেজুরের বাগান। এ বাগানে রয়েছে আজুয়া, মরিয়ম, সাফাই, তিউনিশিয়া, পাইরুম, আনবরা, ডাব্বাস, মাদজুল, সুকাই এ ৯ প্রকারের খেজুরের গাছ। ২০১৮ সালের জুন-জুলাই মাসে ৫৫টি খেজুর গাছের চারা দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে এ বাগানে রয়েছে ৯৬টি সৌদি খেজুরের গাছ।

স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটানা ১২ বছর ছোট ভাই প্রবাসে সেমকোব মেরিনে এসিস্টান্ট ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন সিঙ্গাপুরে। এরপর দেশে ফিরে এসে কিছু করার চিন্তা থেকেই ২০১৭ সনের এপ্রিল মাসে সিঙ্গাপুর থেকে ২ কেজি মরিয়ম জাতের খেজুর কিনেন, সেই খেজুরের বীজ থেকে কলাপাড়া পৌরশহরের বাড়ির ছাদে পলিব্যাগে চারা তৈরি করেন। এ পলিব্যাগের চারা দিয়ে গড়েছেন খেজুরের বাগান। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে ৯ প্রকারের বিদেশি খেজুরের গাছ। ইতোমধ্যে পঁচিশটি গাছে এসেছে বাঁধা।

দর্শনার্থী ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আরেফীন এ প্রতিনিধিকে বলেন, দক্ষিণ অঞ্চলের নোনা পানিতে সৌদি খেজুরের বাগান করে বাস্তবে রূপদান করা এটা আসলে অসম্ভবকে সম্ভব করা এক দু:সাধ্য কাজ। এ বাগানের অনেক গাছে ফলন এসেছে। যা আমাদের এলাকায় মুচি বলে। এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকরা তাদের পিতার জমিতে এরকম বাগান করতে পারে। খেজুরের গাছে ফুল ধরেছে এটা দেখতে ও নিজ বাড়িতে লাগানোর জন্য চারা নিতে এসেছি।

উদ্যোক্তার বড় ভাই মো: মহিউদ্দিন মিলন এ প্রতিবেদককে জানান, প্রথমে তেরটা কাঁধি করছি, কাঁধির মাঝখানে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করি। প্রথম অবস্থায় এ কাঁধিতে ৫৫টি চারা রোপন করেছি। বর্তমানে চারার বয়স চার বছর। অনেক গাছে ফুল এসেছে।

প্রধান উদ্যোক্তা মো: মোজাহিদুল ইসলাম রুবেল এ প্রতিনিধিকে বলেন, শুরুটা বলতে গেলে ২০১৪ সনে আমার মাথায় পরিকল্পনা আসে। আমি সিঙ্গাপুর থেকে বীজ সংরক্ষণ করি। গাছটি সব মাটিতে হবে, তবে এর জন্য আলাদা পরিচর্যা করতে হবে। এর প্রধানত: রোগ হলো ছত্রাক। মাত্র চার বছর খেজুরের বাগানে পানি, গাছ পরিস্কার ও বালাই নাশক ব্যবহারের ফলে সঠিক সময়ে খেজুর গাছে ফুল এসেছে।

উদ্যোক্তার পিতা মো: সুলতান নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, এলাকার লোকজন এ বাগান দেখতে আসে। ছেলেদেরকে উৎসাহ দেয়। তিনি বলেন, ওরা এ বাগান দিয়ে সফলকাম হলে এলাকায় অনেক উদ্যোক্তা বাড়বে।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ. আর. এম. সাইফুল্লাহ গনমাধ্যমকে বলেন, বাগানে প্রায় ছিয়ানব্বইটি সৌদি খেজুরের গাছ রয়েছে। ২৫টি গাছে ফল আসা শুরু করেছে। বাগান পরিদর্শন করে কৃষক ভাইদের যত প্রকার সহযোগিতা দরকার সেটা কৃষি বিভাগ থেকে করা হবে বলে তিনি জানান।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর