০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ফেনীতে যুবককে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ

ফেনীতে আব্দুল হালিম নামে এক যুবককে চোর অপবাদে পিটিয়ে হত্যা চেষ্টা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয় তার আত্মচিৎকার যাতে বাইরের কেউ শুনতে না পারে সেজন্য কক্ষের সাটার বন্ধ করে দেয়া হয়। পুরো শরীর, মাথা ও কানে আঘাতপ্রাপ্ত গুরুতর আহত ওই যুবক বর্তমানে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি আছে।

বিকেলে জেলার ছাগলনাইয়া পৌর শহরের বাসার সিটি কমপ্লেক্সে ওই ঘটনা ঘটে।হামলার শিকার আব্দুল হালিম পৌরসভার পশ্চিম ছাগলনাইয়া সাতবাড়ীর সিদ্দিক উল্যাহর পুত্র।

সে জানায়, পৌরসভার বাসার সিটি কমপ্লেক্সের ৮ম তলায় একটি আ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় করে তার ইতালী প্রবাসী বোন। সেটির দেখাশোনার দায়িত্ব ছিল তার কাছে। তাছাড়া ওই বিল্ডিংয়ের অংশিদার পাক্ষিক ছাগলনাইয়’র সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির লিটনের পত্রিকা অফিস, দোকান ও আ্যাপার্টমেন্ট দেখাশোনার দায়িত্বও ছিল তার কাছে।

জাহাঙ্গীর কবির লিটনের সাথে তার ভাইদের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে ঘটনার দিন সকালে হালিমের উপর হামলা চালায় তার মেঝ ভাই মাহফুজ করিম রিপন।আহত হালিম স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর বিষয়টি স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের জানায় ।তাদের আশ্বাসে সে সময় বিষয়টি আর বেশীদুর গড়ায়নি।

একইদিন বিকেলে সে পুণঃরায় পত্রিকা অফিসে গেলে কমপ্লেক্সের অপর অংশিদার মাহফুজ করিম রিপন তার পুত্র ইফাজ হাসান, রিপনের বড় ভাই হুমায়ুন কবির, তার পুত্র নঈমুল হাসান, মঈনুল হাসান তার উপর আবারও অতর্কিত হামলা চালায় এবং তাকে পাশ্ববর্তী একটি নির্জন দোকানে নিয়ে সার্টার বন্ধ করে বেধদড়ক পেটায়।

এ সময় তার কান দিয়ে অঝোর ধারায় রক্ত ঝরলেও পাষন্ডদের মন গলেনি। শুধু তাই নয় তারা তাকে চোর অপবাদ দিয়ে জরুরী সেবা নাম্বার ৯৯৯ এ ফোন দেয়। এর পর ছাগলনাইয়া থানার পুলিশ অফিসার আব্দুর রউফ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান।

খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিক আবুল হাসান ও রিপোর্টার নজরুল ইসলাম চৌধুরী সেখানে ছুটে গেলে তাকে চিনতে পারেন এবং তাকে চোর অপবাদ দেয়ায় বিশ্ময় প্রকাশ করে স্থানীয়দের সহযোগীতায় তারা পুলিশকে বিষয়টি সম্পত্তি বিরোধের জেরের কারন হিসেবে ঘটানো হয়েছে বলে পুলিশকে নিশ্চিত করেন ।

বিষয়টি বুঝতে পেরে পুলিশ গুরুতর আহত হালিমকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেয়ার জন্য পাঠান।হাসপাতালের চিকিৎসক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,আহত হালিমের কানের আঘাতটি গুরুতর হওয়ায় তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।আহত আব্দুল হালিমের দাবী, প্রচন্ড আঘাতের কারনে তিনি ঠিকমত কানে শুনছেন না। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সে।

ছাগলনাইয়া থানার ওসি শহীদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মফিজূর রহমান ফেনী।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বিমানবন্দরের রানওয়ে সুরক্ষায় ১২ নম্বর খাল পুনঃখনন করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ

ফেনীতে যুবককে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ

প্রকাশিত : ০৮:২৩:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২২

ফেনীতে আব্দুল হালিম নামে এক যুবককে চোর অপবাদে পিটিয়ে হত্যা চেষ্টা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয় তার আত্মচিৎকার যাতে বাইরের কেউ শুনতে না পারে সেজন্য কক্ষের সাটার বন্ধ করে দেয়া হয়। পুরো শরীর, মাথা ও কানে আঘাতপ্রাপ্ত গুরুতর আহত ওই যুবক বর্তমানে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি আছে।

বিকেলে জেলার ছাগলনাইয়া পৌর শহরের বাসার সিটি কমপ্লেক্সে ওই ঘটনা ঘটে।হামলার শিকার আব্দুল হালিম পৌরসভার পশ্চিম ছাগলনাইয়া সাতবাড়ীর সিদ্দিক উল্যাহর পুত্র।

সে জানায়, পৌরসভার বাসার সিটি কমপ্লেক্সের ৮ম তলায় একটি আ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় করে তার ইতালী প্রবাসী বোন। সেটির দেখাশোনার দায়িত্ব ছিল তার কাছে। তাছাড়া ওই বিল্ডিংয়ের অংশিদার পাক্ষিক ছাগলনাইয়’র সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির লিটনের পত্রিকা অফিস, দোকান ও আ্যাপার্টমেন্ট দেখাশোনার দায়িত্বও ছিল তার কাছে।

জাহাঙ্গীর কবির লিটনের সাথে তার ভাইদের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে ঘটনার দিন সকালে হালিমের উপর হামলা চালায় তার মেঝ ভাই মাহফুজ করিম রিপন।আহত হালিম স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর বিষয়টি স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের জানায় ।তাদের আশ্বাসে সে সময় বিষয়টি আর বেশীদুর গড়ায়নি।

একইদিন বিকেলে সে পুণঃরায় পত্রিকা অফিসে গেলে কমপ্লেক্সের অপর অংশিদার মাহফুজ করিম রিপন তার পুত্র ইফাজ হাসান, রিপনের বড় ভাই হুমায়ুন কবির, তার পুত্র নঈমুল হাসান, মঈনুল হাসান তার উপর আবারও অতর্কিত হামলা চালায় এবং তাকে পাশ্ববর্তী একটি নির্জন দোকানে নিয়ে সার্টার বন্ধ করে বেধদড়ক পেটায়।

এ সময় তার কান দিয়ে অঝোর ধারায় রক্ত ঝরলেও পাষন্ডদের মন গলেনি। শুধু তাই নয় তারা তাকে চোর অপবাদ দিয়ে জরুরী সেবা নাম্বার ৯৯৯ এ ফোন দেয়। এর পর ছাগলনাইয়া থানার পুলিশ অফিসার আব্দুর রউফ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান।

খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিক আবুল হাসান ও রিপোর্টার নজরুল ইসলাম চৌধুরী সেখানে ছুটে গেলে তাকে চিনতে পারেন এবং তাকে চোর অপবাদ দেয়ায় বিশ্ময় প্রকাশ করে স্থানীয়দের সহযোগীতায় তারা পুলিশকে বিষয়টি সম্পত্তি বিরোধের জেরের কারন হিসেবে ঘটানো হয়েছে বলে পুলিশকে নিশ্চিত করেন ।

বিষয়টি বুঝতে পেরে পুলিশ গুরুতর আহত হালিমকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেয়ার জন্য পাঠান।হাসপাতালের চিকিৎসক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,আহত হালিমের কানের আঘাতটি গুরুতর হওয়ায় তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।আহত আব্দুল হালিমের দাবী, প্রচন্ড আঘাতের কারনে তিনি ঠিকমত কানে শুনছেন না। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সে।

ছাগলনাইয়া থানার ওসি শহীদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মফিজূর রহমান ফেনী।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর