০৯:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

ডিম ডজন ১৫০ টাকা!

ডিমের দাম ঈদুল ফিতরের আগে কিছুটা কমেছিল। সেসময় ডজনপ্রতি ডিম বিক্রি হচ্ছিল ১৩০ টাকায়। ঈদের পরই পাল্টে যায় পরিস্থিতি। বাড়তে থাকে দামও। সর্বশেষ তিন-চারদিনের ব্যবধানে ডজনপ্রতি ৫ টাকা বেড়েছে। এতে খুচরা বাজারে ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি হালি ৫০ টাকা। ডজনপ্রতি এ ডিমের দাম ঠেকেছে ১৫০ টাকায়। মাছ-মাংসের চড়া দামের পর ডিমের বাজারেও এখন চরম অস্বস্তি। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে সহজলভ্য বলে পরিচিতি এ খাদ্যপণ্যও। মঙ্গলবার (১৬ মে) রাজধানীর বেশ কিছু এলাকার দোকান ও বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিম উৎপাদনকারী সমিতির নেতারা বলছেন, খামারে ডিমের দাম বাড়েনি, উৎপাদনও কমেনি। করপোরেট কোম্পানি সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় ডিমের দাম বাড়ছে। আড়তদার ও করপোরেট কোম্পানির সিন্ডিকেটে ডিমের বাজার অস্থিতিশীল বলে অভিযোগ উৎপাদনকারীদের।

আড়তদাররা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, ডিমের সরবরাহ কম। তবে চাহিদা এখন বেশি। সরবরাহ ও চাহিদার এ পার্থক্যের কারণেই দাম বাড়ছে। গ্রামের অনেক খামার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তারা লোকসানে পড়েছেন। এজন্য গ্রামের মোকাম থেকেও ডিম কম আসছে।

সরেজমিন দোকান ও বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরায় প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা দরে। এক ডজন নিলে গুনতে হচ্ছে ১৫০ টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি ডিমের দাম পড়ছে সাড়ে ১২ টাকা। যদিও কিছু বাজারে ডজনে ৫ টাকা কম নিতেও দেখা গেছে। তবে সেই সংখ্যা কম।

অন্যদিকে ঢাকার পাইকারি বাজারে ১০০টি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১২০ টাকা থেকে ১১৫০ টাকা দরে। অর্থাৎ প্রতিটি ডিমের দাম পড়ছে সর্বোচ্চ সাড়ে ১১ টাকা। ১০০টি ডিমের দাম তিনদিন আগেও ৫০-৬০ টাকা কম ছিল বলে জানান পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

বিক্রেতারা বলছেন, রোজার আগে বাজারে ডিমের দাম একদফা অস্থিতিশীল হয়েছিল। সেসময় ডজন ১৫০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। সর্বশেষ এক বছরে ডিমের দাম কয়েক দফায় অস্থিতিশীল হয়েছে। ডজনপ্রতি ডিমের দাম উঠেছিল ১৬০ টাকা। তার আগে কখনো ডিমের দামের এতটা বাড়তে দেখা যায়নি। দামও এতটা ওঠেনি। ডিমের বাজার আবারও একই পথে হাঁটছে বলে মনে করছেন বিক্রেতারা।

ডিমের দাম বাড়ার বিষয়টি উঠে এসেছে ট্রেডিং করপোরেশন ব বাংলাদেশ-টিসিবির তথ্যেও। সংস্থাটি বলছে, বাজারে এক মাসের ব্যবধানে ডিমের দাম ১১ শতাংশ বেড়েছে। বছরের ব্যবধানে বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। গত বছর এসময়ে প্রতি ডজন ডিম ৩৫-৪২ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে, যা এখন ৪৭-৫০ টাকা।

রাজধানীর রামপুরার ভাই ভাই স্টোরের মালিক সফি উদ্দিন বলেন, ‘নির্ধারিত একজন আড়তদারের কাছ থেকে ডিম কিনি। প্রতিদিন তারা ডিম দিয়ে যান। কয়েকদিন ধরে তারা প্রতিদিনই দাম বাড়াচ্ছেন। বেশি দামে কেনায় বাধ্য হয়ে আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। সরবরাহকারী তিনদিন আগেও প্রতি ডজন ডিম ১৩৬ টাকায় দিয়েছেন। এখন ডজনপ্রতি দাম নিচ্ছেন ১৪২ টাকা।’

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভেড়ামারায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা, অবহিতকরণ সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

ডিম ডজন ১৫০ টাকা!

প্রকাশিত : ০৭:২৭:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ মে ২০২৩

ডিমের দাম ঈদুল ফিতরের আগে কিছুটা কমেছিল। সেসময় ডজনপ্রতি ডিম বিক্রি হচ্ছিল ১৩০ টাকায়। ঈদের পরই পাল্টে যায় পরিস্থিতি। বাড়তে থাকে দামও। সর্বশেষ তিন-চারদিনের ব্যবধানে ডজনপ্রতি ৫ টাকা বেড়েছে। এতে খুচরা বাজারে ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি হালি ৫০ টাকা। ডজনপ্রতি এ ডিমের দাম ঠেকেছে ১৫০ টাকায়। মাছ-মাংসের চড়া দামের পর ডিমের বাজারেও এখন চরম অস্বস্তি। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে সহজলভ্য বলে পরিচিতি এ খাদ্যপণ্যও। মঙ্গলবার (১৬ মে) রাজধানীর বেশ কিছু এলাকার দোকান ও বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিম উৎপাদনকারী সমিতির নেতারা বলছেন, খামারে ডিমের দাম বাড়েনি, উৎপাদনও কমেনি। করপোরেট কোম্পানি সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় ডিমের দাম বাড়ছে। আড়তদার ও করপোরেট কোম্পানির সিন্ডিকেটে ডিমের বাজার অস্থিতিশীল বলে অভিযোগ উৎপাদনকারীদের।

আড়তদাররা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, ডিমের সরবরাহ কম। তবে চাহিদা এখন বেশি। সরবরাহ ও চাহিদার এ পার্থক্যের কারণেই দাম বাড়ছে। গ্রামের অনেক খামার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তারা লোকসানে পড়েছেন। এজন্য গ্রামের মোকাম থেকেও ডিম কম আসছে।

সরেজমিন দোকান ও বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরায় প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা দরে। এক ডজন নিলে গুনতে হচ্ছে ১৫০ টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি ডিমের দাম পড়ছে সাড়ে ১২ টাকা। যদিও কিছু বাজারে ডজনে ৫ টাকা কম নিতেও দেখা গেছে। তবে সেই সংখ্যা কম।

অন্যদিকে ঢাকার পাইকারি বাজারে ১০০টি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১২০ টাকা থেকে ১১৫০ টাকা দরে। অর্থাৎ প্রতিটি ডিমের দাম পড়ছে সর্বোচ্চ সাড়ে ১১ টাকা। ১০০টি ডিমের দাম তিনদিন আগেও ৫০-৬০ টাকা কম ছিল বলে জানান পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

বিক্রেতারা বলছেন, রোজার আগে বাজারে ডিমের দাম একদফা অস্থিতিশীল হয়েছিল। সেসময় ডজন ১৫০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। সর্বশেষ এক বছরে ডিমের দাম কয়েক দফায় অস্থিতিশীল হয়েছে। ডজনপ্রতি ডিমের দাম উঠেছিল ১৬০ টাকা। তার আগে কখনো ডিমের দামের এতটা বাড়তে দেখা যায়নি। দামও এতটা ওঠেনি। ডিমের বাজার আবারও একই পথে হাঁটছে বলে মনে করছেন বিক্রেতারা।

ডিমের দাম বাড়ার বিষয়টি উঠে এসেছে ট্রেডিং করপোরেশন ব বাংলাদেশ-টিসিবির তথ্যেও। সংস্থাটি বলছে, বাজারে এক মাসের ব্যবধানে ডিমের দাম ১১ শতাংশ বেড়েছে। বছরের ব্যবধানে বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। গত বছর এসময়ে প্রতি ডজন ডিম ৩৫-৪২ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে, যা এখন ৪৭-৫০ টাকা।

রাজধানীর রামপুরার ভাই ভাই স্টোরের মালিক সফি উদ্দিন বলেন, ‘নির্ধারিত একজন আড়তদারের কাছ থেকে ডিম কিনি। প্রতিদিন তারা ডিম দিয়ে যান। কয়েকদিন ধরে তারা প্রতিদিনই দাম বাড়াচ্ছেন। বেশি দামে কেনায় বাধ্য হয়ে আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। সরবরাহকারী তিনদিন আগেও প্রতি ডজন ডিম ১৩৬ টাকায় দিয়েছেন। এখন ডজনপ্রতি দাম নিচ্ছেন ১৪২ টাকা।’

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh