আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসসদ নির্বাচনে ২৯৯-পার্বত্য রাঙামাটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ১২ জন। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সমর্থনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও সংগঠনটির সহ-সভাপতি ঊষাতন তালুকদার এমপি ও জেলা কমিটির নেতা শরৎ জ্যোতি চাকমা। আওয়ামী লীগের মধ্যে একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দীপংকর তালুকদার। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি দীপংকরের ছায়াপ্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, আশীষ দাশগুপ্ত (স্বতন্ত্র)।
বিএনপি থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ২ প্রার্থী। তারা হলেন- অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। দীপেন দেওয়ান দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। তার বিকল্প প্রার্থী রাঙামাটিতে নতুন চমক হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দিছেন সাবেক উপমন্ত্রী মণিস্বপন দেওয়ান। জানা যায়, তিনি অনেক আগে দল থেকে বহিস্কৃত হন। আবার নতুন করে দলে যোগদান করেন।
অপর আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সমর্থনে স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন শান্তিদেব চাকমার পে মনিন্দ্র তালুকদার ও সচিব চাকমার পে বাবুল চাকমা। জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার। এ ছাড়া মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মো. জসিম উদ্দিন (বাংলাদেশ ইসলামি আন্দোলন) ওেএকমাত্র নারী জুঁই চাকমা (বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি)। সর্বশেষ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী অমর কুমার দে।
বুধবার শেষদিন নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সরব উপস্থিতিতে পৃথকভাবে জেলা প্রশাসক ও রিটানিং অফিসারে কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন বিএনপির দীপেন দেওয়ান এবং মণিস্বপন দেওয়ান। এ সময় দীপেন দেওয়ানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রবীন্দ্র লাল চাকমা, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জহির আহমদ সওদাগর, রফিকুল ইসলাম, সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভূট্টো, মো. আলমগীর, কাপ্তাই উপজেলা চেয়ারম্যান দিলদার হোসেনসহ অন্য নেতাকর্মীরা। মণিস্বপন দেওয়ানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক দীপন তালুকদার দীপু, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম পনিরসহ অন্যরা।
মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর দীপেন দেওয়ান বলেন, দলের মূল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। কোনো কারণে যদি আমি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতায় ব্যর্থ হই তাহলে আমার পরে যিনি, তিনিই দলীয় প্রার্থী থাকবেন। আমাদের মূল ল্য দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনা। এ জন্য ধানের শীষে জয় নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটাতে হবে। রাঙামাটি আসনে আমার জয় নিশ্চিত। অপর দিকে রাঙামাটিতে চমক ঘটানো মণিস্বপন দেওয়ান বলেন দলের হয়ে মনোনয়নপত্র দিয়েছি। দল যাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে তার পে থাকব।
অন্যদিকে বিকালের দিকে বিপুল নেতাকর্মীর সমর্থক নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আওয়ামী লীগ প্রার্থী দীপংকর তালুকদার। এ সময় দীপংকর তালুকদার বলেন, জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সারা দেশের সঙ্গে পার্বত্য এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করেছে। পাহাড়ের আর্থ-সামাজিক ও সম্প্রীতির উন্নয়নে তিনি আন্তরিক। তাই এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে আবারও মতায় আনতে জনগণ প্রস্তুত। নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপে ও শান্তিপূর্ণ হবে বলে আমি পুরোপুরি আশাবাদী। আমার বিশ্বাস এ নির্বাচনে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী সর্বাধিক দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে । এ আসনে আওয়ামী লীগের জয় শতভাগ নিশ্চিত।
এ ছাড়া বুধবার মনোনয়নপত্র জমা দেন জাতীয় পার্টির পারভেজ তালুকদার, ইউপিডিএফের শান্তিদেব চাকমা, সচিব চাকমা ও বাংলাদেশ ইসলামি আন্দোলনের মো. জসিম উদ্দিন। অন্য প্রার্থীরা এর আগে তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
বিবি/ ইএম





















