১২:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পাবনায় জোড়া হত্যা: লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল

পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা গ্রামে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের দ্বন্দ্বের জের ধরে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ২ জন নিহত হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে লাশ নিয়ে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নিহতদের স্বজনরা।

মঙ্গলবার দুপুরে পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের আওরঙ্গবাদ বাজার এলাকার কয়েকশ’ নারী ও পুরুষ এই বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয়। এদিকে সোমবারের ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আবারো অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এলাকাবাসী এবং পুলিশের তথ্যমতে সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউপি চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ ও জাসদ থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া সুলতান খাঁ গ্রুপের মধ্যে এলাকার আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে প্রতিপক্ষের গুলিতে ২ জন নিহত এবং কমপক্ষে ১০ জন আহত হন।

নিহতরা হলেন সুলতান খাঁর বাবা উপজেলার ভাউডাঙ্গা আওরঙ্গবাদ গ্রামের লস্কর খাঁ (৬৫) এবং একই গ্রামের আহেদ আলী শেখের ছেলে মালেক শেখ (৪৫)।

মঙ্গলবার দুপুরে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিহতদের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। এ সময় নিহতদের স্বজন এবং এলাকার কয়েকশ’ নারী পুরুষ লাশ নিয়ে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে শাস্তির দাবি জানান।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনা না হলে পাবনা শহরের প্রধান সড়ক অবরোধ করে পাবনা অচল করে দেয়া হবে। এ সময় সুলতান গ্রুপের নেতা ও নিহত লস্কর খাঁর ছেলে সুলতানসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

এ ছাড়া পাবনা জেনারেল হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ফরিদা খাতুন (৩০) ও হালিমা খাতুন (৫০) নামের ২ নারী। আহত অন্যরা পুলিশি ঝামেলা এড়াতে গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে নিহত লস্কর খাঁ এবং মালেক সেখের পরিবারে এখনো চলছে শোকের মাতম। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

পাবনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জালাল উদ্দিন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন রয়েছে। এখন পর্যন্ত থানায় মামলা দায়ের হয়নি।

তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

বিবি/ ইএম

ট্যাগ :

পাবনায় জোড়া হত্যা: লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশিত : ০৬:৩৪:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ ডিসেম্বর ২০১৮

পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা গ্রামে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের দ্বন্দ্বের জের ধরে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ২ জন নিহত হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে লাশ নিয়ে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নিহতদের স্বজনরা।

মঙ্গলবার দুপুরে পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের আওরঙ্গবাদ বাজার এলাকার কয়েকশ’ নারী ও পুরুষ এই বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয়। এদিকে সোমবারের ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আবারো অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এলাকাবাসী এবং পুলিশের তথ্যমতে সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউপি চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ ও জাসদ থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া সুলতান খাঁ গ্রুপের মধ্যে এলাকার আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে প্রতিপক্ষের গুলিতে ২ জন নিহত এবং কমপক্ষে ১০ জন আহত হন।

নিহতরা হলেন সুলতান খাঁর বাবা উপজেলার ভাউডাঙ্গা আওরঙ্গবাদ গ্রামের লস্কর খাঁ (৬৫) এবং একই গ্রামের আহেদ আলী শেখের ছেলে মালেক শেখ (৪৫)।

মঙ্গলবার দুপুরে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিহতদের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। এ সময় নিহতদের স্বজন এবং এলাকার কয়েকশ’ নারী পুরুষ লাশ নিয়ে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে শাস্তির দাবি জানান।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনা না হলে পাবনা শহরের প্রধান সড়ক অবরোধ করে পাবনা অচল করে দেয়া হবে। এ সময় সুলতান গ্রুপের নেতা ও নিহত লস্কর খাঁর ছেলে সুলতানসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

এ ছাড়া পাবনা জেনারেল হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ফরিদা খাতুন (৩০) ও হালিমা খাতুন (৫০) নামের ২ নারী। আহত অন্যরা পুলিশি ঝামেলা এড়াতে গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে নিহত লস্কর খাঁ এবং মালেক সেখের পরিবারে এখনো চলছে শোকের মাতম। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

পাবনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জালাল উদ্দিন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন রয়েছে। এখন পর্যন্ত থানায় মামলা দায়ের হয়নি।

তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

বিবি/ ইএম