১০:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

সাতক্ষীরায় জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যালঘুর নিরাপত্তা চেয়ে গোল টেবিল বৈঠক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার দাবিতে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন বন্ধ করতে রাজনৈতিক কমিটমেন্ট, সরকারি হস্তক্ষেপ, সংঘটিত ঘটনার বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠণসহ সংখ্যালঘু বসতি এলাকাগুলোতে প্রতিরোধ কমিটি গঠনের দাবি করেছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। অন্যথায় সংখ্যালঘুদের দেশ ত্যাগের প্রবণতা কমানো যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন তারা। শনিবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বেসরকারি সংস্থা শারী আয়োজিত ‘জাতীয় নির্বাচন ২০১৮ ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ মন্তব্য করেন।

সুরক্ষা নাগরিক অধিকার মর্যাদা (সুনাম) সাতক্ষীরা জেলা শাখার আহবায়ক অ্যাড. সোমনাথ ব্যানার্জীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেরিনা আক্তার, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হামিদ, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ নিমাই চন্দ্র মণ্ডল, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সাতক্ষীরা শাখার সভাপতি বিশ্বজিৎ সাধু, বাংলাদেশ দলিত এণ্ড মাইনরিটি হিউম্যান রাইটস মিডিয়া ডিফেণ্ডার ফোরামের সভাপতি রঘুনাথ খাঁ, ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা অ্যাড. ফাহিদুল হক কিসলু, জেএসডি নেতা সুধাংশু শেখর সরকার, বাসদ নেতা নিত্যানন্দ সরকার, সুনাম এর সাতক্ষীরা শাখার সদস্য সচীব অ্যাড. নাজমুন্নাহার ঝুমুর, গণফোরামের আলী নুর খান বাবুল, শারীর সমন্বয়কারি রঞ্জন বকসী নুপু, মরিয়ম মান্নান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ২০০১ সালের পহেলা অক্টোবর চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায়নের পরবর্তী কালিগঞ্জের ফতেপুরে আওয়ামী লীগ নেতা গোবিন্দ লাল সরদারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে ও তার মাকে দিগম্বর করে নির্যাতন, ডেমরাইলে নরেন মণ্ডল ও তাদের ছয় ভাইয়ের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, বিশ্বানথপুরে জামায়াত নেতা আব্দুল গফুরের নেতুত্বে নরেন সরকার ও তাদের ভাইদের বাড়ি ঘর, মন্দির ভাঙচুর, লুটপাটের পর অগ্নিসংযোগ, ওই পরিবারের এক গৃহবধুকে গণধর্ষণ, শ্যামনগরের ভুরুলিয়ায় দেবেন মণ্ডলের ছেলেকে হত্যা করে তার লাশ বাড়ির উঠানে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখাসহ বিভিন্ন ঘটনার বিচার হয়নি।

একইভাবে বর্তমান সরকারের সময়ে ২০১২ সালের ৩১ মার্চ ও পহেলা এপ্রিল ফতেপুর ও চাকদাহে ১২টি হিন্দু পরিবারের ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্র“য়ারি ও পরবর্তী সময়ে সদরের আগরদাড়ির গোপাল ঘোষাল, তাপস আচার্য, রমেন দাস, শিয়ালডাঙার নবকুমার মণ্ডল, দেবহাটার জগন্নাথপুরে সুভাষ ঘোষ ও তার ভাইদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, শ্যামনগরের নবাকীতে সাধু চরণ মণ্ডলের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের পর অগ্নিসংযোগসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলেও একটি ঘটনারও বিচার হয়নি। ফলে মনোবল ভেঙে হিন্দুরা দেশ ত্যাগে বাধ্য হচ্ছে। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন স্বদেশ এর নির্বাহী পরি চালক মাধব চন্দ্র দত্ত।

বিবি/ ইএম

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কালিয়াকৈরে ইবনে সিনা ওষুধ কারখানার শ্রমিকের লাশ উদ্ধার

সাতক্ষীরায় জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যালঘুর নিরাপত্তা চেয়ে গোল টেবিল বৈঠক

প্রকাশিত : ০৫:২২:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৮

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার দাবিতে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন বন্ধ করতে রাজনৈতিক কমিটমেন্ট, সরকারি হস্তক্ষেপ, সংঘটিত ঘটনার বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠণসহ সংখ্যালঘু বসতি এলাকাগুলোতে প্রতিরোধ কমিটি গঠনের দাবি করেছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। অন্যথায় সংখ্যালঘুদের দেশ ত্যাগের প্রবণতা কমানো যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন তারা। শনিবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বেসরকারি সংস্থা শারী আয়োজিত ‘জাতীয় নির্বাচন ২০১৮ ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ মন্তব্য করেন।

সুরক্ষা নাগরিক অধিকার মর্যাদা (সুনাম) সাতক্ষীরা জেলা শাখার আহবায়ক অ্যাড. সোমনাথ ব্যানার্জীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেরিনা আক্তার, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হামিদ, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ নিমাই চন্দ্র মণ্ডল, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সাতক্ষীরা শাখার সভাপতি বিশ্বজিৎ সাধু, বাংলাদেশ দলিত এণ্ড মাইনরিটি হিউম্যান রাইটস মিডিয়া ডিফেণ্ডার ফোরামের সভাপতি রঘুনাথ খাঁ, ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা অ্যাড. ফাহিদুল হক কিসলু, জেএসডি নেতা সুধাংশু শেখর সরকার, বাসদ নেতা নিত্যানন্দ সরকার, সুনাম এর সাতক্ষীরা শাখার সদস্য সচীব অ্যাড. নাজমুন্নাহার ঝুমুর, গণফোরামের আলী নুর খান বাবুল, শারীর সমন্বয়কারি রঞ্জন বকসী নুপু, মরিয়ম মান্নান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ২০০১ সালের পহেলা অক্টোবর চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায়নের পরবর্তী কালিগঞ্জের ফতেপুরে আওয়ামী লীগ নেতা গোবিন্দ লাল সরদারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে ও তার মাকে দিগম্বর করে নির্যাতন, ডেমরাইলে নরেন মণ্ডল ও তাদের ছয় ভাইয়ের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, বিশ্বানথপুরে জামায়াত নেতা আব্দুল গফুরের নেতুত্বে নরেন সরকার ও তাদের ভাইদের বাড়ি ঘর, মন্দির ভাঙচুর, লুটপাটের পর অগ্নিসংযোগ, ওই পরিবারের এক গৃহবধুকে গণধর্ষণ, শ্যামনগরের ভুরুলিয়ায় দেবেন মণ্ডলের ছেলেকে হত্যা করে তার লাশ বাড়ির উঠানে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখাসহ বিভিন্ন ঘটনার বিচার হয়নি।

একইভাবে বর্তমান সরকারের সময়ে ২০১২ সালের ৩১ মার্চ ও পহেলা এপ্রিল ফতেপুর ও চাকদাহে ১২টি হিন্দু পরিবারের ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্র“য়ারি ও পরবর্তী সময়ে সদরের আগরদাড়ির গোপাল ঘোষাল, তাপস আচার্য, রমেন দাস, শিয়ালডাঙার নবকুমার মণ্ডল, দেবহাটার জগন্নাথপুরে সুভাষ ঘোষ ও তার ভাইদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, শ্যামনগরের নবাকীতে সাধু চরণ মণ্ডলের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের পর অগ্নিসংযোগসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলেও একটি ঘটনারও বিচার হয়নি। ফলে মনোবল ভেঙে হিন্দুরা দেশ ত্যাগে বাধ্য হচ্ছে। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন স্বদেশ এর নির্বাহী পরি চালক মাধব চন্দ্র দত্ত।

বিবি/ ইএম