ঢাকা দুপুর ২:৫০, শনিবার, ২৫শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শেখ মোঃ এনামুল হক’গ্রেফতার

জঙ্গি দমনে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে রোল মডেল।প্রধানমন্ত্রীর “জিরো টলারেন্স” নীতির আলোকে র‍্যাবতাদের জঙ্গি বিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

ইতোপূর্বে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অন্যতম পলাতক আসামি জঙ্গি ইকবাল ও রমনার বটমূলে বোমা হামলা মামলারমৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক জঙ্গি মুফতি শফিকুর রহমান এবং গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বোমা পুতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেহত্যাচেষ্টা ও রমনা বটমূলে বোমা হামলা মামলার মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামি জঙ্গি সংগঠন হুজি-বি’র প্রতিষ্ঠাতা আমীর মুফতিআব্দুল হাই’কে গ্রেফতার করে র‍্যাব।

এরই ধারাবাহিকতায় গত রাতে র‍্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখা ও র‍্যাব-১ এর একটি আভিযানিক দল রাজধানীর উত্তরাএলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ২০০০ সালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বোমা পুতে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা মামলারমৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত পলাতক আসামি জঙ্গি শেখ মোঃ এনামুল হক শেখ মোঃ এনামুল করিম (৫৩), গোপালগঞ্জ’কে গ্রেফতার করে।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ায় ৭৬ কেজি ওজনের বোমাপুতে রাখার ঘটনায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।

২০০০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ায় জনসভার অদূরে জঙ্গি শেখ মোঃ এনামুল করিমসহতার অপরাপর জঙ্গি সদস্যগণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুতে রাখার ঘটনায়কোটালীপাড়া থানায় হত্যাচেষ্টা, হত্যার ষড়যন্ত্র ও বিষ্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ০৩টি মামলা রুজু হয়। তদন্ত শেষে উক্তমামলায় বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

পরবর্তীতে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২১ সালের ২৩ মার্চ গ্রেফতারকৃত শেখ মোঃ এনামুল হক শেখ মোঃ এনামুল করিমসহ১৪ জন’কে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়।

গ্রেফতারকৃত জানায়, ব্যবসায়ীক সূত্র ধরে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও তৎকালীন নিষিদ্ধ ঘোষিতজঙ্গি সংগঠন হুজি’র আমীর মুফতি আব্দুল হান্নান এর সাথে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।

সে ২০০০ সালে গোপালগঞ্জ শহরে বিসিক শিল্প নগরীতে মুফতি হান্নার এর ছোট ভাই আনিস এর সাথে যৌথভাবে প্লট বরাদ্দনিয়ে “সোনার বাংলা ক্যামিকেল ইন্ডাস্ট্রিজ” নামে টুথপেস্ট, টুথপাউডার, মোমবাতি ও সাবান তৈরির একটি কারখানা প্রতিষ্ঠাকরে। মুফতি হান্নান ও অন্যান্য জঙ্গি নেতারা ২০০০ সালের জুলাই মাসে বেশ কয়েকবার তার ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করে।

গ্রেফতারকৃত বিভিন্ন সময়ে মুফতি হান্নানসহ অন্যান্য জঙ্গি নেতাদের সাথে গোপন বৈঠক এবং সমাবেশে অংশগ্রহণ করত।গ্রেফতারকৃত এনামুল মুফতি আব্দুল হান্নান এর পরিকল্পনা ও নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করারজন্য পরস্পর যোগসাজশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের হত্যার উদ্দেশ্যে কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থলেবোমা বিস্ফোরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে লক্ষ্যে তারা ঐ কারখানায় সাবান তৈরির ক্যামিকেল সংগ্রহের আড়ালে বিভিন্ন প্রকার বিস্ফোরক দ্রব্য ওবোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামাদি কারখানায় জমা করে লোহার ড্রামের ভিতর দুটি শক্তিশালী বোমা তৈরি করে মাননীয়প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ায় জনসভার অদূরে বোমা পুতে রাখে।

বর্ণিত ঘটনায় তার জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসলে গ্রেফতারকৃত এনামুল রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আত্মগোপনে চলেযায়। পরবর্তীতে সে নিজের পরিচয় গোপন করে ক্বারী না হওয়া সত্তেক্বারী পরিচয় দিয়ে গাজীপুরের একটি মসজিদে ৮ বছরেরঅধিক সময় ইমামতি করে। গাজীপুরে অবস্থানকালীন সময়ে সে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরিকরে। গাজীপুরে অবস্থানকালীন একটি হোমিও প্যাথি কলেজে ০২ বছর প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বলে জানা যায়।

একইভাবে সে নিজেকে গাজীপুর হোমিও কলেজ এর প্রাক্তন অধ্যক্ষ হিসেবে দাবী করত। পরবর্তীতে ২০১০ সালে সে ঢাকারউত্তরা ও বনশ্রীতে বাসা ভাড়া করে বসবাস করতে থাকে। গ্রেফতারকৃত ঢাকার উত্তরায় ২০১৫ সালে ‘‘আই কে হোমিও কলেজউত্তরা’’ নামে একটি ভুয়া হোমিও প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে। পরবর্তীতে ২০২০ সালে ‘‘আই কে হোমিও কলেজ উত্তরা’’ নামকপ্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে সে ক্যান্সার নিরাময় কেন্দ্র নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান খুলে ক্যান্সারের ভুয়া হারবাল চিকিৎসা প্রদান শুরুকরে।

এছাড়াও, সে নিজেকে হেপাটাইটিস-ভাইরাস, প্যারালাইসিস, ডায়াবেটিকস, মেদ, বন্ধ্যাত্ব, টিউমার, হার্ট, কিডনী, যৌন, মানসিকরোগসহ বহুবিধ রোগের সফল চিকিৎসক হিসেবে দাবী করত।গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

এ বিভাগের আরও সংবাদ